২৫ বছর বয়সের আগে কী কী জানা উচিত?
ODD বাংলা ডেস্ক: নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে ২৫ টা অব্যক্ত অনুভূতি শেয়ার করা যাক।
বয়স বাড়লে বন্ধু কমে। বন্ধু কমতে কমতে শূন্যের কোঠায় চলে আসে। বন্ধুদের জন্য এমন কিছু করবেন না যাতে নিজের, পরিবারের সামান্যতম ক্ষতি হয়। আমার অনেক বন্ধু ছিল কিন্তু এখন আমি একা। সবাই আমার রক্ত শুষে খেয়ে চলে গেছে।
প্রেমে ব্যর্থ হওয়া মানে খারাপ কিছু না। একটা মানুষ ছোট থেকে বিয়ের আগ পর্যন্ত কম করে হলেও ৫-১০ টা রিলেশন করে। প্রথম ভালোবাসা ভুলা যায় না, এসব ভ্রান্ত চিন্তা করে আর নিজেকে কষ্ট দিয়েন না।
বিবেকের তাড়না থেকে ভালো কাজ করতে হবে, আল্লাহর ভয় কিংবা স্বর্গ লাভের জন্য নয়।
এক ব্যর্থতা থেকে অন্য ব্যর্থতায় যাওয়ার নামই সফলতা। ব্যর্থ হওয়া মানে সফলতার পথে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। ব্যর্থতাকে সহজভাবে মেনে নিয়ে নিজের গন্তব্যে অবিচল থাকতে হবে।
শারীরিক রোগের চেয়ে মানসিক রোগ সবচেয়ে ভয়ানক। শরীরের যেমন যত্ন নেয়া প্রয়োজন তেমনি মনেরও যত্ন নিতে হবে। প্রয়োজনে ‘সাইকোলজিস্ট’ ও ‘সাইকিয়াট্রিস্ট’ কাছে যেতে হবে, যেমনভাবে শারীরিক রোগের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে যেতে হয়।
অপ্রয়োজনীয় জ্ঞান আহরণ থেকে বিরত থাকতে হবে। চাণক্য বলেছেন, “ শাস্ত্র অনন্ত, বিদ্যাও প্রচুর। সময় অল্প অথচ বিঘ্ন অনেক। তাই যা সারভূত তারই চর্চা করা উচিত। হাঁস যেমন জল-মিশ্রিত দুধ থেকে শুধু দুধটুকুই তুলে নেয়, তেমনি। ”
নিজেকে শুধু নিজের সাথেই তুলনা করতে হবে, অন্যের সাথে নয়। প্রতিযোগিতা হবে একমাত্র নিজের সাথে। অল্প অল্প করে এগিয়ে যেতে হবে।
যখন পড়ালেখাকে, কাজকে ভালোবাসবেন তখন পড়ালেখা, কাজ আপনাকে আনন্দ দিবে। আর যদি ব্রেকাপ করতে চান তাহলে পড়ালেখা, কাজও আপনাকে বিরহের কষ্ট দিবে। বিরহের কষ্টের পরিণতি অনেক ভয়ানক। ব্রেকাপ না করে ভালোবাসুন। ভালোবাসার সময় এখনই। নয়তো সারাজীবন বিরহ বেদনায় কাদঁতে হবে।
পড়ালেখাটাকে বিনোদনের মাধ্যম মনে করতে হবে। শুধু পড়ার জন্য নয় যেকোনো কিছু জ্ঞান অর্জনের জন্য করতে হবে। সব জায়গা থেকে জ্ঞান আহরণ করতে হবে মৌমাছির মতো। সুখের উপাদান বাড়াতে হবে জীবনে।
শ্রেয়ই আপনার কাছে প্রেয় হয়ে দেখা দেবে। আত্নাকে চলতে হয় যেমন পরমাত্নার দিকে লক্ষ্য রেখে, ব্যক্তিস্বার্থকেও চলতে হবে তেমনি বিশ্বস্বার্থের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।
আপনি যদি বিজ্ঞানী হতে চান, তাহলে আপনার যাতে পরিকল্পনা থাকে আপনার গবেষণার মাধ্যমে দেশ ও পৃথিবীর সমস্ত মানবজাতির উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণা করে যাওয়া। তাহলেই আপনি উন্নতির চরম শিখরে যেতে পারবেন। মনে রাখবেন ব্যাক্তিগত স্বার্থ যাতে মূখ্য না হয়।
নিয়মিত ২০ মিনিট লিখবেন আপনার মনের কথাগুলো, তখন দেখবেন আপনার মধ্যে আর হতাশা বিরাজ করছে না, হীনম্মন্যতা কাজ করছে না।
অন্যদের সাথে এমন আচরণ করবেন না যেমনটা তারা আপনার সাথে করতে চায়। তাদের রুচি একই নাও হতে পারে।
আমাদের কথোপকথনের ক্ষেত্রে আসলে কথা বা শব্দের চেয়ে, Non verbal cue বা মুখভঙ্গি, অঙ্গভঙ্গি, ইশারা, গলার স্বর এসবের প্রাধান্যই বেশি। আমাদের মনোভাবের ৯৩% ই (৫৫%+৩৮%) এই Non verbal cue দ্বারা প্রকাশিত হয়।
ভালোবাসার ব্যাপারে পাটোয়ারি বুদ্ধি ভালো নয়। যাকে দিবেন সম্পূর্ণভাবে দেবেন, একেবারে ‘বাকি আমি রাখব না কিছুই’ প্রতিজ্ঞা করে দিবেন। তা না হলে জীবনে বিকৃতি দেখা দিবে। যতো দিবেন ততোই পাবেন।
প্রেম কারাগার রচনার জন্য নয়, মুক্তির জন্য। আগুন নিয়ে খেলা না করাই ভালো।
মৌমাছির মতো জীবনের প্রত্যেক ক্ষুদ্র মুহূর্ত, ঘটনা, পরিস্থিতি থেকে আমাদের মধু সংগ্রহ করে মৌচাক পরিপূর্ণ করে জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুহূর্তের স্বাদ আস্বাদন করতে হবে। জীবনের প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করার নামই সুখ।
প্রয়োজনের জগৎ থেকে মুক্তি লাভ করতে না পারলে অপ্রয়োজনের জগতে প্রবেশ করা যায় না; আর অপ্রয়োজনের জগতে প্রবেশ করতে না পারলে সৌন্দর্য ও আনন্দ উপভোগ অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
সেই মানুষই সুখী যিনি, “সংস্কৃতবান লোক, আপন ধ্যান-কল্পনায় যে সৌন্দর্যলোক, যে রূপজগৎ সৃষ্টি করেন, যার ব্যক্তি মুক্তি মানে বুদ্ধি, অনুভূতি ও চিন্তা ভাবনা মুক্তি, যে দশ পেরিয়ে একাদশ।
সুখের তত্ত্বটা আসলেই সোজা। ভালোবাসাই সুখ। তাই বলতে হয়; বাস্তব লাভের চেয়ে মানসিক লাভকে বড় করে দেখাটাই হচ্ছে সুখতত্ত্বের গোড়ার কথা।
সুখের তত্ত্বটা সোজা হলেও, সাধনাটা কঠিন। কেননা অপরাপর সাধনার মতো এটাও ত্যাগের উপর প্রতিষ্ঠিত। সব কিছু পেতে চাইলে সুখ পাওয়া যায় না। বেছে চাইতে হয়।
যত বেশি ব্যাপারের অনুরাগে জীবনের দিনগুলি ভরে তোলা যায় ততই ভালো। তা হলে একটি জিনিস ফসকাতে আরেকটি জিনিস ধরা সম্ভব হবে এবং জগত একেবারে ফাঁকি মনে হবে না।
সবচেয়ে বড় ক্ষমতা জীবনের স্বাদ গ্রহণের ক্ষমতা। সুখী মানুষ মাত্রই এই ক্ষমতার অধিকারী, অথবা এই ক্ষমতার অধিকারী যারা তারাই সুখী। এই ক্ষমতার অধিকারীদের কাছে কোনো সময়ই জগত বিস্বাদ নয়। এমনকি বিস্বাদ একটা স্বাদ- তাকেও তারা উপভোগ করে। তাই সামান্য ক্ষতিতে তো নয়ই, অসামান্য ক্ষতিতেও তারা গোমড়ামুখো হয়ে বসে থাকে না। বাঁচা জিনিসটা তাদের কাছে একটা খুশির ব্যাপার। জীবটা সার্থক হলো কিনা এ কথা ভেবে তারা নিজেদের বিব্রত করে না।
সার্থকতা তো বাইরে নেই, ভেতরে আনন্দ গ্রহণের মধ্যে; আর আনন্দ গ্রহণের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয়, বাইরের আয়োজন নয়, ভেতরের উন্মুখতা। উন্মুখতাকে পর করে যারা জীবনের আয়োজন করে তারা যেন নুন ছাড়া ব্যঞ্জন রান্না করে। তারা খুশি হওয়া কি খুশি হওয়ার ক্ষমতা থেকে তারা বঞ্চিত। তাদের কথায়, চোখে-মুখে প্রাণ ঝলকে ওঠে না।
পৃথিবীর সবচেয়ে আনন্দময় জিনিসগুলি বিনামূল্যে পাওয়া যায়। যেমন জোছনা, বৃষ্টি, মানুষের ভালোবাসা।





Post a Comment