অন্যদের দেখাদেখি ধাঁধাঁ মেলাতে সক্ষম বাম্বলবি

 


ODD বাংলা ডেস্ক: সাধারণ বাম্বলবি অন্য অভিজ্ঞ বাম্বলবির দেখাদেখি ধাঁধাঁ বা পাজল মেলাতে সক্ষম বলে আবিষ্কার করেছেন ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা। খবর বিবিসির।


লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা এই মাছিগুলোকে পাজল বক্স মেলানোর প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, যেটি মেলাতে সফল হলে তাদেরকে চিনি পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। 


পাজল মিলিয়ে চিনি পাওয়ার পর এই মাছিগুলো এরপর কলোনির বাকি মাছিগুলোর কাছে কীভাবে এই ধাঁধাঁ মেলাতে হয় সেই তথ্য ছড়িয়ে দিয়েছে।


বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন বাম্বলবিদের মধ্যে থাকা এই 'সামাজিক শিখন' তাদের আচরণের ওপর আরও বেশি প্রভাব ফেলে, যেটি এর আগে ভাবা হয়নি। 


গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা একটি চিনিভর্তি পাজল বক্স তৈরি করেন, যেটি একটি ঢাকনা দিয়ে আটকানো। ঢাকনাটি একটি লাল রঙের বোতামে চাপ দিয়ে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরিয়ে খোলা যায়, আবার নীল রঙের বোতামে চাপ দিয়ে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে খোলা যায়। 


'প্রদর্শক' মাছিগুলোকে দিয়ে কীভাবে ঢাকনা খোলা হয় সেটি অন্যান্য 'দর্শক' মাছিদের দেখানো হয়। এরপর যখন দর্শক মাছিগুলোকে ঢাকনা খুলতে যায়, তখন তারা তাদের পূর্ববর্তী মাছিদের দেখাদেখি একই কৌশল ব্যবহার করে ঢাকনা খুলতে সক্ষম হয়। অন্য বোতাম চেপে ঢাকনা খোলা সম্ভব আবিষ্কার করার পরেও তারা ৯৮% সময় আগের কৌশলেই সীমাবদ্ধ থাকে। 


গবেষণা থেকে আরও দেখা যায় প্রশিক্ষিত মাছিরা অন্য সাধারণ মাছির তুলনায় বেশি পাজল বক্স খুলতে সক্ষম। 


গবেষকরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে বোঝা যায়, মাছিরা নিজেরা সমাধান খুঁজে বের করে না, বরং অন্য মাছিদের কাছ থেকে শেখে। 


অন্য আরেক পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রদর্শক মাছিরা দুইভাবেই পাজল বক্স সমাধান করতে সক্ষম হলেও তারা একটি সমাধানের দিকে জোর দেয় এবং কলোনির বাকি মাছিগুলোর মধ্যে ঐভাবেই সমাধান বিস্তার লাভ করে। এর মাধ্যমে বোঝা যায় কীভাবে সামাজিক শিখন পুরো বাম্বলবির আচরণে প্রভাব ফেলে। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.