যে খাবারগুলো এড়িয়ে যাওয়াই ভালো
ODD বাংলা ডেস্ক: আমরা কী খাই, আমরা কী স্বাদ নিতে চাই এবং আমাদের খাদ্য থেকে কী বাদ দিতে চাই- তা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যের মাধ্যমে পরিবার-বন্ধুদের একত্রিত করে যেমন সুন্দর মুহূর্ত তৈরি করে, তেমনি একই সময়ে এটা সবচেয়ে খারাপ শত্রু হতে পারে। আমরা প্রতিদিন এমন কিছু খাবার গ্রহণ করি যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এদের সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাক।
১. মার্জারিন: ট্রান্স-ফ্যাটের উচ্চ শতাংশের কারণে এই তালিকায় মার্জারিন যোগ হয়েছে হয়েছে। দুধ থেকে মাখন তৈরি হয় আর মার্জারিন হচ্ছে কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজিটেবল অয়েল। মার্জারিন দেখতে ঠিক মাখনের মতোই। সাধারণত মার্জারিন ভোজ্যতেল থেকে উৎপন্ন করা হয়।
ভোজ্যতেলকে যখন বিশেষ রাসায়নিক উপায়ে জমাট করা হয়, তখন এটি ট্রান্স-ফ্যাটে রূপান্তরিত হয়। এই ট্রান্স-ফ্যাট রক্তে ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল বাড়ায় বলে প্রমাণিত হয়েছে। এটি রক্তে চর্বির পরিমাণ বাড়ায় এবং ডায়াবেটিস, স্থুলতা ইত্যাদির ঝুঁকি বাড়ায়। সেই সাথে পরবর্তিতে হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ বহুবিধ রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
তাই মার্জারিন ক্ষতিকর নয় ভেবে বেশি খাওয়া যাবে না। আমরা জানি যে রান্না করার সময় মার্জারিন স্বাদ যোগ করে, এটি অতিরিক্ত ব্যবহারের আগে স্বাদ এবং ঝুঁকি উভয়ই বিবেচনা করুন।
২. কোমল পানীয়: সারাদিনের ক্লান্তিতে আমরা কোমল পানীয় দিয়ে তৃষ্ণা মেটাই। অথচ কোমল পানীয়তে না আছে পুষ্টিগুণ আর না আছে জলশূন্যতা দূরীকরণের ক্ষমতা। উল্টো এর প্রতিটি চুমুকই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
কোমল পানীয়তে মিষ্টি স্বাদ যোগ করতে ব্যবহার করা হয় অ্যাসপার্টাম যা রাসায়নিক যৌগ। এতে অতিরিক্ত চিনির ব্যবহারের ফলে স্থূলতা বাড়তে পারে। এ ছাড়াও নিয়মিত কোমল পানীয় পানের ফলে টাইপ-২ ডায়বেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।
৩. ফলের রস: আজকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের ফলের রস পাওয়া যায়। আমরা সেগুলোকে পুষ্টিকর ভেবে প্রায়শই খেয়ে থাকি। কিন্তু জানেন কি, সেগুলো কিভাবে তৈরি হয়? শতভাগ আসল ফলের জুস দাবি করলেও ফলের রস ততটা স্বাস্থ্যকর নয় যতটা বিজ্ঞাপনে দেখানো হয়। কারণ ফল থেকে রস বের করে নেওয়ার পর খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারীরা সাধারণত প্যাকেজ করার আগে এক বছর পর্যন্ত অক্সিজেন-শূন্য হোল্ডিং ট্যাঙ্কে রস সংরক্ষণ করে। এই প্রক্রিয়াটি রসকে প্রায় স্বাদমুক্ত করে। সুতরাং, যখন আমরা আমাদের প্রিয় প্রাকৃতিক পানীয়ের স্বাদ গ্রহণ করি তখন স্বাদ কোথা থেকে আসে? স্বাদের জন্য দ্বিতীয় ধাপে যোগ করা হয় ফ্লেভার ও কৃত্রিম রং। যা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর।
৪. মধু: মধু উপকারী আমরা তা সবাই জানি। তবে সরাসরি কাঁচা মধু পাস্তুরাইজেশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায় না, ফলে বিষাক্ত উপাদান নষ্ট হয় না। ফলস্বরূপ, এই কাঁচা মধুতে প্রায়শই গ্রায়ানোটক্সিন থাকে, যা খাওয়ার পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অত্যাধিক ঘাম এবং বমি বমি ভাব সৃষ্টি করতে পারে।
৫. লবণ: লবণ খাবারে স্বাদ যোগ করে তা সকলের জানা। তবে উচ্চ লবণযুক্ত খাবার রক্তচাপ বাড়াতে পারে যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই কাঁচা লবণ ও অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে।





Post a Comment