মৃত্যুর পর ঠিক কী ঘটে আত্মার সঙ্গে? গরুঢ় পুরাণের এই ১৫ পয়েন্টে রয়েছে সব প্রশ্নের উত্তর!



 ODD বাংলা ডেস্ক: হিন্দুধর্ম জন্মান্তরবাদে বিশ্বাসী। হিন্দুধর্ম অনুসারে আমাদের শরীরের মৃত্যু হয়, কিন্তু আত্মা অবিনশ্বর। তাই মৃত্যুর পরও আত্মার উপস্থিতি বজায় থাকে। এক শরীর ত্যাগ করে অন্য শরীরে প্রবেশ করে আত্মা। কিন্তু নতুন শরীরে প্রবেশ করার আগে ঠিক কী ঘটে আত্মার সঙ্গে? জেনে নিন এই বিষয়ে কী বলা আছে গরুঢ় পুরাণে।


* গরুঢ় পুরাণ অনুসারে যখন কারোর মৃত্যু হয়, তখন সেই দেহ ত্যাগ করে আত্মা। এরপর এক সুক্ষ দেহ ধারণ করে সে। এই সুক্ষ দেহ নিয়েই শুরু হয় তার মৃত্যু পরবর্তী জীবন।


* মৃত্যুর পর কিছুক্ষণ সেখানেই অবস্থান করে আত্মা। নিজের শরীরকে ছেড়ে যেতে তখন অত্যন্ত কষ্ট হয় তাঁর।


* নিজের প্রিয় মানুষদের কাছাকাছি সেই সময় আত্মা ঘোরাফেরা করে, এমনকি তাদের নাম ধরে ডাকে। কিন্তু কেউ তাদের ডাক তখন শুনতে পায় না।


* মৃত ব্যক্তি সারা জীবনে কী ধরনের কাজ করেছেন, কতটা পাপ করেছেন, তার উপর নির্ভর করে মৃত্যুর পর তার আত্মা কেমন যন্ত্রণা ভোগ করবে। বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে মৃত্যুর পর যেতে হবে আত্মাকে।


* দেহ পরিত্যাগ করার পর আত্মার সঙ্গে সাক্ষাত্‍ হয় মৃত্যুর দেবতা যমরাজের। সারা জীবনে প্রয়াত ব্যক্তি কেমন কাজ করেছেন, তার বিচার করেন যমরাজ।


* প্রয়াত ব্যক্তির ভালো কাজ ও খারাপ কাজের ভিত্তিতে পরের জন্মে তিনি কী হয়ে জন্মবেন তা স্থির করেন যমরাজ।


* মৃত্যুর পর প্রথমে যমলোকে যায় আত্মা। সেখানে তার পাপের শাস্তি নির্ধারিত হয়।


* যমলোকে থাকেন চিত্রগুপ্ত। সবার পাপ ও পূণ্যের হিসেব রাখেন তিনি।


* জীবদ্দশায় যারা ভালো কাজ করেন, মৃত্যুর পর তাঁরা যমলোকের তৃতীয় স্তর স্বর্গে গমন করেন। মৃত্যু পরবর্তী অবস্থায় অত্যন্ত সুখে সময় কাটান এরা।


* যমলোকের চতুর্থ স্তর হল নরক। জীবদ্দশায় নিজের যাবতীয় খারাপ কাজের শাস্তি ভোগ করতে এখানে আসে আত্মা।


* যমলোকের বিভিন্ন স্তরে আলাদা আলাদা সময় কাটাতে হয় আত্মাকে। এর মধ্যে স্বর্গে থাকার সময় সবচেয়ে কম এবং নরকে থাকার সময় সবচেয়ে বেশি।


* স্বর্গ ও নরক ভোগের সীমা শেষ হলে নিজের পূর্বজন্মের কাজের ভিত্তিতে পুর্নজন্ম হয় আত্মার। কখনও পশু, কখনও কীট, কখনও গাছ রূপে জন্ম নিতে পারে আত্মা।


* আত্মার চূড়ান্ত লক্ষ্য হল এই জন্ম-মৃত্যুর চক্রাকার আবর্ত থেকে নিজেকে মুক্ত করে মোক্ষ লাভ করা।


* আত্মা যত ভালো কাজ করবে ততই তার মুক্তি লাভের পথ প্রশস্ত হবে। জীবদ্দশায় দান, ধ্যান, পুজো, আরাধনা করে শান্তিপূর্ণ জীবন কাটালে মোক্ষলাভের পথ সুগম হয়।


* আত্মা যখন মোক্ষ লাভ করে, তখন জীবাত্মা ব্রহ্মাত্মার সঙ্গে এক হয়ে যায়।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.