মা দুর্গার সঙ্গে সানাইয়ের সম্পর্ক কী? আজও সানাই কিন্তু মুসলিমরাই বাজায়
Odd বাংলা ডেস্ক: সানাইকে বিষাদের সুর হিসেবে ব্যবহার করা হলেও বাঙালির ধর্মীয় জীবনে এর উপস্থিতি কিন্তু মাঙ্গলিক কারনেই। ইতিহাসে কান পাতলে আজও শোনা যায় নহবতের কত না কাহিনি। এক সময় বেনারস থেকে মামা বিলায়েত্ হুসেনের হাত ধরে সানাই বাজাতে কলকাতায় আসতেন কিশোর বিসমিল্লা খান। তারও আগে শহরের সম্ভ্রান্ত ধনী পরিবারের বিয়ে উপলক্ষে ডাক পড়ত সাদেকআলি খান কিংবা লখনউয়ের তালিম হুসেনের। অথচ মন্দিরে মুসলিমদের প্রবেশ শাস্ত্র সম্মত কিনা সেটা আজও তর্কের বিষয়।
এবার আসা যাক ঐতিহাসিক কারনে। আসলে সানাই কথাটার মূল উৎস সেহনাই। এই শব্দটি আকটি ফার্সি শব্দ। মনে করা হয় পারস্য থেকে সানাই বাদ্যযন্ত্রের আবির্ভাব হয়েছে। ভারতীয় উপমহাদেশে ইংরেজরা আসার আগেও ওলন্দাজ ও ফরাসিরা উপনিবেশ গড়তে এসেছিল। সেই ওলন্দাজদের সঙ্গে আসে পুঙ্গি নামক এক বাদ্যযন্ত্র। এবং সে সময় বহু ভারতীয় চাকরি করত এই ওলন্দাজদের বাড়িতে। তাদের বিভিন্ন উৎসবে পুঙ্গিকে ব্যবহার করা হত মাঙ্গলিক বাজনা হিসেবে। আর সেটাই ক্রমে শিখে ফেলে বাঙালিরা। পরে পুঙ্গির ভারতীয় সংস্করণ সানাই জন্ম নেয়। এবং সেই থেকে বাঙালি জমিদারদের বিয়ে ও পুজোতে সানাই বাজানো হত। একটা সময় সন্ধে হতে না হতেই বিয়েবাড়িতে বসে যেত রৌশনচৌকি। দলবল নিয়ে হাজির হতেন মেটিয়াবুরুজ কিংবা চিত্পুরের নামকরা সানাইশিল্পীরা। তখন বিয়ের বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই এই সব সানাইশিল্পীদের বায়না করে রাখতে হত। তা না হলে বিয়ের মরশুমে এঁদের পাওয়া যেত না। শুধু তাই নয় সে কালে বেশিরভাগ রাজবাড়ি ও জমিদার বাড়িতে থাকত স্থায়ী নহবতখানা। এমনকী কলকাতা ও মফস্বলের বেশ কিছু পুরনো বাড়িতে এবং মন্দিরে আজও দেখা যায় নহবতখানা।
বাঙালি ঐতিহ্য যে শুধুমাত্র কলকাতা কেন্দ্রীক নয়, তার সবচেয়ে বড়ো প্রমান সানাই। কারন মা দুর্গার আরাধনাতে মফস্বলেও বাজানো হত , সানাই। অথচ সানাই বাদকরা আজ হারিয়ে যাচ্ছে। কারন এখন আর তেমন ডাক পড়ে না তাদের। এখন তো সিডি বা পেন ড্রাইভেই কাজ হয়ে যায়। কিন্তু সানাইকে লোকাচারের উপকরণ হিসেবে আজও অপরিহার্য বলে মনে করা হয়। মা দুর্গাকে স্বাগত জানাতেই একটা সময় শুভ চিহ্ন হিসেবে সানাইকে ব্যবহার করেছিলেন বাংলার জমিদাররা। সেখান থেকে বাঙালির গৃহে সানাইয়ের প্রবেশ। আর তবে থেকেই বিয়ে ও পুজোতে সানাইকে ব্যবহার করা হয়। আজ সাধারণ মধ্যবিত্তের কাছে নহবত বিলাসিতা হলেও এখনও বহু বনেদি পরিবারের পুজোতে কিংবা বিয়েতে নহবত বসানোর প্রচলন রয়েছে। যেমন কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে কিংবা শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজোর দিনগুলিতে কিংবা বিয়েতে আজও বসে নহবত।
![]() |
| বুকে গোঁজা থাকতো রাজাদের দেওয়া মেডেল, অপূর্ব লাগতো দেখতে, Image Source: Google |
বাঙালি ঐতিহ্য যে শুধুমাত্র কলকাতা কেন্দ্রীক নয়, তার সবচেয়ে বড়ো প্রমান সানাই। কারন মা দুর্গার আরাধনাতে মফস্বলেও বাজানো হত , সানাই। অথচ সানাই বাদকরা আজ হারিয়ে যাচ্ছে। কারন এখন আর তেমন ডাক পড়ে না তাদের। এখন তো সিডি বা পেন ড্রাইভেই কাজ হয়ে যায়। কিন্তু সানাইকে লোকাচারের উপকরণ হিসেবে আজও অপরিহার্য বলে মনে করা হয়। মা দুর্গাকে স্বাগত জানাতেই একটা সময় শুভ চিহ্ন হিসেবে সানাইকে ব্যবহার করেছিলেন বাংলার জমিদাররা। সেখান থেকে বাঙালির গৃহে সানাইয়ের প্রবেশ। আর তবে থেকেই বিয়ে ও পুজোতে সানাইকে ব্যবহার করা হয়। আজ সাধারণ মধ্যবিত্তের কাছে নহবত বিলাসিতা হলেও এখনও বহু বনেদি পরিবারের পুজোতে কিংবা বিয়েতে নহবত বসানোর প্রচলন রয়েছে। যেমন কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে কিংবা শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজোর দিনগুলিতে কিংবা বিয়েতে আজও বসে নহবত।






Post a Comment