সমাজের গতানুগতিকতা ভেঙে, এই স্কুলের ছাত্রীরা হলেন ৬০ থেকে ৯০ বছরের ঠাকুমা-দিদিমারা...


Odd বাংলা ডেস্ক: বিচিত্র মানুষের উপস্থিতিতে ভারত এক বৈচিত্রপূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে। আপনার চারিপাশটি যদি খুব ভাল করে লক্ষ্য করেন, তাহলে দেখতে পাবেন, এমন অনেককিছুই রয়েছে যা আপনাকে প্রতিনিয়ত অণুপ্রাণিত করবে। তেমনই মহারাষ্ট্রের থানে জেলার ফানগান গ্রামে রয়েছে এমনই একটি স্কুল যা, কেবলই ঠাকুমা-দিদিমাদের জন্য। আর এটিই হলে দেশের একমাত্র স্কুল যেখানে পাঠ নেন কেবলই বয়স্ক মহিলারা।সমাজের গতানুগতিকতা ভেঙে, লিঙ্গভেদ-বয়সের সীমানা পেরিয়ে জীবনের পাঠ নিচ্ছেন ৬০ থেকে ৯০ বছরের মহিলারা। স্কুলের নাম 'আজিবাইচি শালা'। 

আমরা যখন আমাদের দেশের ছোট ছোট নাগরিকদের পড়াশোনার জন্য এত চিন্তা করি, অথচ এদেশে বয়স্ক শিক্ষাও যে কতখানি গুরুত্বপূর্ণ সেই বিষয়টি একেবারেই ভুলে যাই। কিন্তু মহারাষ্ট্রের প্রত্যন্ত গ্রামের এই স্কুলই বয়স্ক শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে এই স্কুলটি নির্মাণ করেছে, যাদের মূল উদ্দেশ্যই হল বয়স্ক মানুষদের শিক্ষিত করে তোলা। আর সেই কারণেই প্রতিদিন ইউনিফর্ম পড়ে স্কুলের ব্যাগ কাঁধে পড়াশোনা করতে যান এই মহিলারা। 

তাঁদের স্কুলের ইউনিফর্ম হল গোলাপী শাড়ি। স্কুলে রয়ে ছে মোট ৩৫ জন শিক্ষক। স্থানীয় এক কৃষকের বাড়িতে দুটি বসার ঘর নিয়ে চলে এই স্কুল। এই স্কুল খোলা থাকে দিনে দু'ঘণ্টার জন্য, দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত। প্রতিদিন একসঙ্গে মিলে প্রার্থনা করা করা থেকে শুরু করে নাম ডাকা, ইউনিট টেস্ট, হোমওয়ার্ক সবই থাকে। সেইসঙ্গে অন্যান্য স্কুলের মতো পড়াশোনা ছাড়াও বাগান করা, ছবি আঁকাও তাঁদের পাঠক্রমের অন্তর্ভুক্ত। 

স্কুলটি শুরু হয় ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসের দিন। জনপ্রিয় সমাজকর্মী তথা স্থানীয় জেলা পরিষদ শিক্ষক যোগেন্দ্র বাঙ্গারের মস্তিষ্কপ্রসূত এই বিদ্যালয়। প্রবীন মহিলাদের ক্ষমতায়ণের কথা মাথায় রেখেই এই স্কুল গড়ে তোলা হয়েছে, যাতে তাঁরা লিখতে পারে, পড়তে পারে। অন্ততপক্ষে যখন কোনও কাজে সই করার প্রয়োজন পড়ে, তখন যাতে টিপ ছাপ না দিয়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাঁরা স্বাক্ষর করতে পারে সেইজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। 

Blogger দ্বারা পরিচালিত.