তরুণী 'শিক্ষিত', পুলিশের বদলে বাড়িতে ফোন করতে গেলেন কেন, মন্ত্রীর আলটপকা মন্তব্যে বিতর্কের জের
Odd বাংলা ডেস্ক: হায়দরাবাদে ২৬ বছর বয়সী এক পশু চিকিৎসককে ধর্ষণ করে তাঁকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় একদিকে যখন উত্তাল সমাজের একাংশ, সকলেই দোষীদের কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির দাবি করছে, তখন বিতর্কিত মন্তব্য করে বিপাকে পড়লেন তেলেঙ্গানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহম্মদ মাহমুদ আলি।
এদিন চিকিৎসক তরুণীকে ধর্ষণের পর পুড়িয়ে মারার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, ওই তরুণী তো যথেষ্ট শিক্ষিত তাহলে পুলিশকে ফোন না করে বোনকে কেন ফোন করল সে। পুলিশকে ফোন করলে হয়তো সে বেঁচে যেত। একটি সংবাদ মাধ্যমের কাছে সাক্ষাতকার দেওয়ার সময়ে এমনই আলটপকা মন্তব্য করে বসেন তিনি। তিনি বলেন, এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে, তিনি ১০০ ডায়াল করার বদলে নিজের পরিবারকে ফোন করেছিলেন। আর এরপরই তাঁর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করা হয় বিভিন্ন মহলে।
অন্যান্যদিনের মতো বুধবার সন্ধেবেলা হায়দরাবাদের সামসাবাদ এলাকায় নিজের বাড়ি থেকে স্কুটি নিয়ে বেড়িয়েছিল ২৬ বছর বয়সী পশু চিকিৎসক প্রিয়ঙ্কা রেড্ডি। এদিন বিকেলে চর্ম বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। রাত গড়ালেও বাড়ি ফেরেনি ওই তরুণী, আর তাতেই দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে তাঁর বাড়ির লোকদের। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি, পরিবারের তরফে পুলিশে একটি নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে হায়দরাবাদ থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে শাদননগরে ওই তরুণির অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের সন্দেহ, তাঁকে ধর্ষণ করে গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে।
পুলিশ তদন্ত করে জানতে পেরেছে, বুধবার সন্ধ্যাবেলায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটি টোলপ্লাজায় নিজের স্কুটি রেখে একটি ক্যাব নিয়ে চিকিৎসকের কাছে যান ওই তরুণী। এরপর রাত ৯ টা নাগাদ তিনি ওই টোল প্লাজায় ফিরে দেখেন স্কুটির দুটি চাকাই পাংচার। ঠিক সেই সময় এক ব্যক্তি তাঁকে স্কুটি সারানোর জন্য দোকানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে, এরপর উপায় না দেখে রাজি হন তিনি।
বুধবার রাত ৯.২২ মিনিট নাগাদ তরুণীকে ফোন করেন তাঁর এক দিদি। ফোনে দুই সন্দেহজনক ব্যক্তির কথাও বলায় তাঁর দিদি তাঁকে স্কুটি ফেলে রেখে চলে আসার পরামর্শ দেন। এরপর ৯.৪৪ নাগাদ যখন ওই তরুণীর ফোনে ফোন করা হয় তখন মোবাইল বন্ধ আসতে থাকে। এরপর অবশেষে বৃহস্পতিবার এক দুগ্ধ ব্যবসায়ী ওই তরুণীর মৃতদেহ প্রথম দেখতে পান। তারপর খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছোয়। এরপর তরুণীর গলার লকেট দেখে তাঁকে শনাক্ত করে পরিবারের লোকজন। নারকীয় এই ঘটনায় প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে বিভিন্ন মহলে। তদন্তের পর চারজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।





Post a Comment