টার্গেট ঢাকা: ভারতের এক অনন্য যুদ্ধের কথা


Odd বাংলা ডেস্ক: বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে ভারত পাশে দাঁড়িয়ে ছিল বাংলাদেশের সেনা বাহিনীর। আর অবশেষে ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানিরা হেরে যায় ভারতের কাছে। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে ঠিক কোথায় ফারাক হয়ে গিয়েছিল ভারত আর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর? জেনারেল রায়চৌধুরী বলছেন - সামরিক শক্তি আর কৌশল দুটোতেই!

"প্রথম কথা ওভারহোয়েল্মিং স্ট্রেংথ! সামরিক ক্ষমতায় ভারত অনেক এগিয়ে ছিল। তা ছাড়া ভারতের কৌশলটা ছিল, পাকিস্তানি সেনা যেখানেই শক্ত ঘাঁটি গড়ে ভারতের অগ্রযাত্রাকে রুখতে চাইবে, সেটাকে পাশ কাটিয়ে একরকম সোজা ঢাকার দিকে এগিয়ে যাওয়া। এটাকে বলে 'বাইপাসিং'।"

"এর ফলে দেখা গেল ঢাকার যখন পতন হচ্ছে, তখন ভারতের পেছনে ফেলে আসা বহু জায়গায় পাকিস্তানি সেনারা তখনও ক্যান্টনমেন্টে আটকে বসে আছে এবং অসহায় আত্মসমর্পণে বাধ্য হচ্ছে!"
খুলনা-চট্টগ্রামের মতো শহরকে এড়িয়ে সরাসরি ঢাকাকে নিশানা করার এই কৌশলের জন্য অনেকে কৃতিত্ব দেন ভারতের আর এক সামরিক স্ট্র্যাটেজিস্ট লে: জেনারেল জেএফআর জেকবকে, যদিও তা নিয়ে বিতর্ক আছে।

কিন্তু এটাও অস্বীকার করার উপায় নেই, একাত্তরের যুদ্ধে পূর্ব ও পশ্চিম সীমান্ত মিলিয়ে ভারতেরও প্রায় বারোশো সেনা প্রাণ দিয়েছিলেন - ফলে লড়াইটা তাদের জন্যও অনায়াস ছিল এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।

"যদিও ভারতের পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানি সেনার শক্ত ঘাঁটিগুলো এড়িয়ে সোজা ঢাকার দিকে অ্যাডভান্স করা, সেই রাস্তা খোলার জন্য কয়েকটা শক্ত ঘাঁটিতে কিন্তু আক্রমণ চালাতেই হয়েছিল। এর ক্লাসিক উদাহরণ হল হিলি, সেখানে প্রায় সীমান্তের ওপরেই তুমুল যুদ্ধ হয়েছিল - হিলিতে ভারতের বেশ কিছু সৈন্য হতাহত হয়েছিলেন।"

মুক্তিবাহিনীর ভূমিকা

সামরিক ইতিহাসবিদরা সবাই অবশ্য একটা বিষয়ে একমত - পূর্ব পাকিস্তানের অচেনা যুদ্ধক্ষেত্রেও বেশ সহজেই যে ভারত লড়াইটা জিততে পারে, তার পেছনে বিরাট ভূমিকা ছিল স্থানীয় মানুষজন আর মুক্তিবাহিনীর।

"তাদের সবচেয়ে বড় অবদানটা কোথায় ছিল জানেন? ভারতীয় সেনা আক্রমণ করছে, কিন্তু পাকিস্তানি ফৌজ তাদের পশ্চাৎবর্তী এলাকাটাকেও নিরাপদ দেখতে পারছিল না এই মুক্তিবাহিনীর জন্যই। এই যে তাদের সব সময় একটা আশঙ্কা, আমাদের পেছনে কী হচ্ছে, রাস্তা কেটে দিচ্ছে, রসদপত্র আসছে না, সাপ্লাই অ্যামবুশ করে দিচ্ছে - এটা তাদের মনোবল একদম চুরমার করে দিয়েছিল!" বলছেন শঙ্কর রায়চৌধুরী।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.