উল্কাপাতের কারণেই মানুষ শিখেছিল কৃষিকাজ



Odd বাংলা ডেস্ক: এই গল্পটা ১৩০০০ বছর আগের। আজ যেখানে সিরিয়া, সেখানকার আবু হারেরায় আজ থেকে ১২,৮০০ বছর আগে আছড়ে পড়েছিল দৈত্যাকৃতি এক উল্কা বা ধূমকেতু। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের সঙ্গে সংঘর্ষের ফলে এই গ্রহের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়েছিটিয়ে পড়েছিল সেই ভয়ানক বস্তুর খণ্ড-খণ্ড দেহাংশ। প্রত্নতাত্ত্বিকরা বলছেন, আবু হারেরায় সেসময় ছিল ভবঘুরে মানুষের অস্থায়ী বসতি। যা, বলাই বাহুল্য, রক্ষা পায়নি সেই মহাজাগতিক রোষানল থেকে। দুঃখের ব্যাপার, আবু হারেরায় প্রাগৈতিহাসিক মানুষের ওই বসতির ধ্বংসাবশেষ জলের তলায় হারিয়ে গিয়েছে ১৯৭০ সালে। সেবছর মানুষেরই তৈরি বাঁধের জল ছেড়ে ওখানে তৈরি করা হয়েছিল সিরিয়ার বৃহত্তম জলাধার, আসাদ লেক। তবে তার আগেই পুরাতত্ত্ববিদরা ওখান থেকে কুড়িয়ে এনেছিলেন প্রাচীন সভ্যতার বহু নিদর্শন। তাদের মধ্যে ছিল ওখানকার মাটি। যে মাটিতে পাওয়া গিয়েছে কাচের খুদে-খুদে, গোল-গোল দানা। শুরুতে যে উল্কাপাতের ঘটনাটা বললাম, বিজ্ঞানীরা বলছেন, অমন কোনও ভয়ানক বিস্ফোরণ হয়ে তাপমাত্রা খুব বেড়ে না গেলে অমন কাচের দানা তৈরি হওয়ার কথাই নয়। ফলে জোরালো হচ্ছে উল্কাপাতের ঘটনার সত্যতার দাবি। বিজ্ঞানীরা আরও বলছেন, মোটামুটি ওই সময় থেকেই ভবঘুরে মানুষ কৃষিকাজ শুরু করেছিল বলে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। এই ভয়াবহ উল্কাপাতের ঘটনা সত্যি হয়ে থাকলে নিশ্চয়ই তার পিছু-পিছু আসা সাময়িক তুষারযুগ মানুষকে বাধ্য করেছিল ঘুরে-ঘুরে না বেড়িয়ে একজায়গায় বসতি স্থাপন করে কৃষিকাজ করতে। ধ্বংসের মধ্যেই সে লুকিয়ে থাকে নতুন সৃষ্টির বীজ, বিজ্ঞানের এই নয়া খোঁজ সেকথাই যেন শেখাতে চাইছে আমাদের।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.