শ্রীচৈতন্য দেবের সামনেই গো-হত্যা করতে গিয়েছিলেন চাঁদ কাজী, তারপর কী হয়েছিল জানেন?
Odd বাংলা ডেস্ক: শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু জনপ্রিয়তা দেখে কিছু ব্রাহ্মণ খুব ঈর্ষান্বিত হয়ে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বিরুদ্ধে নবদ্বীপের মুসলমান কাজীর কাছে নালিশ করে। বঙ্গভূমি তখন পাঠানদের অধীন ছিল এবং তখন বাংলার নবাব ছিলেন হুসেন শাহ। নবদ্বীপের মুসলমান কাজী ব্রাহ্মণদের সেই অভিযোগটিতে প্রভূত গুরুত্ব দান করেন। প্রথমে তিনি নিমাই পণ্ডিতের অনুগামীদের উচ্চস্বরে হরিনাম সংকীর্তন করতে নিষেধ করেন। কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাঁর অনুগামীদের কাজীর সেই নির্দেশ অমান্য করতে নির্দেশ দেন, এবং তাঁরা পূর্বের মতোই সংকীর্তন করে যেতে থাকেন। কাজী তখন সেই সংকীর্তন বন্ধ করার জন্য তাঁর পেয়াদা পাঠান এবং তারা সংকীর্তনকারীদের কয়েকটি মৃদঙ্গ ভেঙে দেয়। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু যখন এই ঘটনার কথা শুনতে পান, তখন তিনি এক বিরাট আইন-অমান্য আন্দোলন করেন। তিনি সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ভারতবর্ষে প্রথম আইন-অমান্য আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন। তিনি হাজার-হাজার মৃদঙ্গ এবং করতালসহ লক্ষ লক্ষ মানুষকে নিয়ে এক বিরাট শোভাযাত্রার আয়োজন করেন, এবং কাজীর আইন অমান্য করে এই শোভাযাত্রা নবদ্বীপের পথে পথে হরিনাম কীর্তন করতে করতে কাজীর বাড়ীর দিকে এগিয়ে যায়। অবশেষে শোভাযাত্রা যখন কাজীর বাড়িতে এসে পৌঁছায়, তখন ভয়ে কাজী তাঁর বাড়ির উপরতলার একটি ঘরে গিয়ে লুকিয়ে থাকেন। সেই বিশাল জনসমাবেশ কাজীর বাড়ির সামনে সমবেত হয়ে প্রচণ্ড ক্রোধ প্রকাশ করতে থাকে, কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তাদের শান্ত হতে বলেন।। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু কাজীকে জিজ্ঞাসা করেন, মাতৃবৎ যে গাভী মানুষের উপকার করে আসছে সেই গাভীকে কেন তাঁরা হত্যা করেন এবং তখন কাজী কোরান থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে তাঁর সেই প্রশ্নের উত্তর দেন। কাজী তাঁকে আরও বলেন যে, বেদেও গো-মেধ যজ্ঞের উল্লেখ রয়েছে। কাজী বলেন-
‘‘#তোমার বেদেতে আছে গো-বধের বাণী।
অতএব গো-বধ করে বড় বড় মুনি।।’’
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু তখন তাঁকে বলেন যে, বেদে গো-বধ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই হিন্দুরা কখনই গো-বধ করে না। বেদ এবং পুরাণে নির্দেশ আছে যে, যদি কোনও প্রাণীকে নবজীবন দান করা যায়, তাহলে কেবল সেই প্রাণীকে বধ করা যেতে পারে। তাই মুণি-ঋষিরা বৃদ্ধ পশুদের যজ্ঞে বলি দিয়ে সিদ্ধ বেদমন্ত্রে তাদের নবজীবন দান করতেন। এইভাবে তাঁরা জড়দ্গব পশুদের পুনরায় যৌবন প্রদান করতেন। তার ফলে সেটি বধ হত না, পক্ষান্তরে তাদের নবজীবন লাভ হত। কিন্তু কলিযুগের ব্রাহ্মণদের সেই শক্তি নেই, তাই কলিযুগের গো-বধ সর্বতোভাবে নিষিদ্ধ।
তিনি তারপর চাঁদ কাজীকে বলেন-
‘#তোমরা জীয়াইতে নার,-বধমাত্র সার।
নরক হইতে তোমার নাহিক নিস্তার।।
গো-অঙ্গে যত লোম, তত সহস্র বৎসর।
গোবধী রৌরব মধে পচে নিরন্তর।।’’
(শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃত আদি লীলা সপ্তদশ পরিচ্ছেদ ১৬৫-১৬৬)
তাই যে গোহত্যা করবে, ঐ গাভীর শরীরে যত লোম আছে তত হাজার বছর #রৌরব নামক নরকে পচে মরবে। তাহলে একবার ভাবুন, একটা গরুর গায়ে কত গুলো লোম থাকে, তাহলে একটা হত্যা করা হলে কত হাজার বছর নরক বাস করতে হবে! ভেবে দেখেছেন কি?
এছাড়া ও বেদে স্পষ্ট করে গো হত্যা নিষেধ করেছেন।
#বেদের গোহত্যা ও গোমাংস ভক্ষণের নিষেধাজ্ঞা সমূহ →
"ইমং মা হিংসীদ্বিপাদ পশু সহস্রাক্ষ মেধায় চীয়মান।"
(যজুর্বেদ ১১।৪৭)
---- হে সহস্র প্রকার দৃষ্টি যুক্ত রাজন! সুখ প্রাপ্ত করানোর জন্য নিরন্তর বৃদ্ধিশীল এই দ্বিপদী মনুষ্য এবং পশুকে হত্যা করো না।
"প্র নু বোচং চিকিতুষে জনায় মা গামনাগা মদিতিং বধিষ্ট।।"
(ঋগবেদ ৮।১০১।১৫)
--- হে জ্ঞানবান পুরুষের নিকট আমি বলেতেছি নিরপরাধ অহিংস পৃথিবী সদৃশ গাভীকে হত্যা করো না।
"যদি নো গাং হংসি যদ্যশ্বং যদি পুরুষম।তং ত্বা সীসেন বিধ্যামো যথা নোহসো অবীরহা।।"
(অথর্বেদ ১।১৬।৪)
--- যদি আমাদের গাভীকে হিংসা কর, যদি অশ্বকে, যদি মনুষ্যকে হিংসা কর তবে তোমাকে সীসক দ্বারা বিদ্ধ করিব যাহাতে আমাদের মধ্যে বীরদের বিনাশক কেহ না থাকে।
"অনাগো হত্যা বৈ ভীমা কৃত্যে মা নো গাম অশ্বম পুরুষং বধী"
(অথর্ববেদ ১০।১।২৯)
--- নির্দোষের হত্যা অবশ্যই ভয়ানক। আমাদের গাভী, অশ্ব, পুরুষকে মেরো না।
"গোঘাতম্ ক্ষেধে যঃ গাম্ বিকৃন্তন্তম"
(যজুর্বেদ ৩০।১৮)
--- গাভীর ঘাতক অর্থাৎ হত্যাকারী যে, ক্ষুধার জন্য গাভীকে হত্যা করে। তাকে ছেদন করি।
" অদিতিম মা হিংসী"
(যজুর্বেদ ১৩। ৪৯)
--- হত্যার অযোগ্য গাভীকে কখনো মেরো না।
" মা গাম অনাগাম অদিতিম বধিষ্ট"
(ঋগবেদ ৮।১০১।১৫)
--- নিরপরাধ গাভী এবং ভূমিতূল্য গাভীকে কখনো বধ করো না।
"অঘ্না ইব"
---গাভী সমূহ বধের অযোগ্য। (যজুঃ ৬।১১)
পশুদের রক্ষা করো তাদের পালন করো। (অঃ ৩।৩০।১)
তাই সকলে গো হত্যা ও পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ ভাবে তা সমর্থন করা হতে দূরে থাকুন।
সদা গীতা ভাগবতাদি ভক্তিগ্রন্থ অধ্যয়ন করুন, নিজেরা পড়ুন, ছোটদের ও তা পড়তে শিখান।
প্রকৃত ধার্মিক হোন।





Post a Comment