রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আসল নাম রবীন্দ্রনাথ কুশারি, তাহলে তাঁরা ঠাকুর হলেন কী করে?



Odd বাংলা ডেস্ক: সুন্দরবন অঞ্চলের চার ব্রাহ্মণ জমিদার ভাইকে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কারণ তাঁরা ভুল করে গো-মাংসের গন্ধ শুঁকে ফেলেছিলেন।  এই ৪ ভাই হলেন রতিদেব কুশারি, কামদেব কুশারি, শুকদেব কুশারি জয়দেব কুশারি। আসলে গো মাসের গন্ধ শুঁকে ফেলেছিলেন দুই ভাই। এরা হলেন কামদেব ও জয়দেব।  তাঁরাই পড়ে থেকে প্রথম পিরালি ব্রাহ্মণ হিসেবে কলঙ্কযুক্ত হয়েছিলেন। কারণ তাদের গরুর মাংসের গন্ধ শুঁকিয়ে দিয়েছিলেন তাদেরই বন্ধু পির আলি। সেই পির আলি থেকেই পিরালি কথাটা এসেছিল। আসলে গো-মাংসের গন্ধ শোঁকার পর  লোকলজ্জার ভয়ে কামদেব এবং জয়দেব নিজেদের বাড়িতে আর যেতে পারেননি। তাঁদের অন্য দুই ভাই রতিদেব এবং শুকদেবের বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেটাও তাঁদের কাছে খুব একটা সুখের হল না। সমাজপতিরা কেবল তাঁদেরই নয়, যে দু’ভাই তাঁদের আশ্রয় দিয়েছিলেন, তাঁদের উপরেও নানা চাপ দিতে থাকলেন। এই খবর পেয়ে অনুশোচনায় ভেঙে পড়লেন পির আলি। তিনি মনে মনে দগ্ধ হতে লাগলেন। তিনি মজা করতে চেয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু তার পরিণাম যে এত ভয়ানক হতে পারে, তিনি তা ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি। যতই হোক বন্ধু তো! তাই তাঁর জন্য যে দুই ভাই ধর্মান্তরিত হতে বাধ্য হয়েছেন, নিরাপদে থাকার জন্য সেই কামদেব আর জয়দেবকে তিনি মগুলায় বেশ কিছুটা জমি লিখে দেন। ওই জমি পেয়ে ওঁরা দু’ভাই স্ত্রী-ছেলেমেয়েদের নিয়ে দক্ষিণডিহি ছেড়ে ওখানে গিয়ে বসবাস করতে থাকেন। ধর্মান্তরিত দুই দাদা চলে গেলেও, তাঁদের পৈতৃক পদবি রায়চৌধুরী হলেও, তাঁরা ওখানকার জমিদার হওয়া সত্ত্বেও, রতিদেব আর শুকদেব কিন্তু নিস্তার পেলেন না। ধর্মান্তরিত দুই দাদাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য এই দুই ভাইকে স্থানীয় লোকেরা একঘরে করে দিলেন। ব্রাহ্মণ হলেও পির আলির কারণে তাঁরা ব্রাহ্মণত্ব খুইয়েছে বিধান দিয়ে আশপাশের লোকেরা রতিদেব আর শুকদেবকে বলতে শুরু করলেন— পির আলি ব্রাহ্মণ। তখনকার দিনে এর চেয়ে অপমানজনক আর কিছু ছিল না। ফলে সম্মান নিয়ে বাঁচার জন্য সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মালেও রতিদেব সবকিছু ছেড়েছুড়ে অন্য জায়গায় গিয়ে আর পাঁচজন অতি সাধারণ ছাপোষা মানুষের মতো জীবন যাপন করতে লাগলেন। আর বিশাল জমিদারি ও বিপুল ধনসম্পত্তি নিয়ে ভীষণ বিপাকে পড়লেন শুকদেব। সমাজে একঘরে হওয়ার ফলে অনেক কাঠখড় পুড়িয়েও একমাত্র বোন রত্নমালা এবং নিজের মেয়ের জন্য অতি সাধারণ কোনও পাত্রেরও ব্যবস্থা করতে পারছিলেন না তিনি। যশোরের ভূগিলহাট ছিল তখনকার দিনের সংস্কৃত চর্চার এক বিশিষ্ট কেন্দ্র। একদিন ফুলিয়ার মুখোপাধ্যায় বংশের সুযোগ্য সন্তান মঙ্গলানন্দ ওখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। সন্ধ্যা নেমে আসায় তিনি আর ঝুঁকি নেননি। কারণ, অন্ধকার নামলেই ভৈরব নদে তখন জল-দস্যুদের উৎপাত শুরু হয়ে যেত। শুধু লুঠপাটই নয়, এক কোপে ধড় আর মুণ্ডু আলাদা করতেও তাঁদের এতটুকু হাত কাঁপত না। 

ফলে তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন দক্ষিণডিহির স্বনামধন্য জমিদার শুকদেবের বাড়িতে। ওদের পিরালিত্বের ঘটনা তিনি জানতেন না। তাই সেই সুযোগে নানা কৌশলে তড়িঘড়ি করে মাত্র ক’দিনের মাথাতেই বোন রত্নমালার সঙ্গে তিনি মঙ্গলানন্দের বিয়ে দিয়ে দেন। বিয়েতে উপহার হিসেবে দেন আড়াইশো বিঘা জমি ও প্রচুর যৌতুক। ওই বিপুল সম্পত্তি পেয়ে মঙ্গলানন্দ আর ফুলিয়ায় ফিরে যাননি। ওখানেই সংসার পেতে বসলেন। শুকদেব ছিলেন প্রথম ‘পির আলি ব্রাহ্মণ’ পরিবার। ওই পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করে বউকে মুখোপাধ্যায় পদবি উপহার দিলেও মঙ্গলানন্দ কিন্তু তাঁকে নিখাত ব্রাহ্মণ্য জাতে তুলতে পারেননি। উল্টো সমাজপতিদের বিচারে তিনি নিজেই পতিত হয়েছিলেন দ্বিতীয় ‘পির আলি ব্রাহ্মণ’ পরিবার হিসেবে। কোনও রকমে বোনের বিয়ে দেওয়ার পর মেয়ের বিয়েটা কীভাবে দেওয়া যায় সেটা নিয়ে শুকদেব খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন। কিন্তু না। খুব বেশিদিন তাঁকে চিন্তা করতে হল না। সে সুযোগও তিনি একদিন পেয়ে গেলেন। যশোরের পিঠাভোগের জমিদার বংশের ছেলে জগন্নাথ কুশারি একদিন ভৈরব নদের উপর দিয়ে বজরা করে যাচ্ছিলেন। প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টিতে মহাবিপদে পড়েন তিনি। কিছুতেই আর এগোনো যাচ্ছিল না। তখন বাধ্য হয়ে দক্ষিণডিহির এক জায়গায় তিনি বজরা ভেড়ালেন। আশ্রয় নিলেন কাছেই, শুকদেবের বাবা দক্ষিণানন্দ রায়চৌধুরীর প্রতিষ্ঠা করা কালীমন্দিরে। তাঁর এতবড় বাড়ি থাকতে ভিন গাঁয়ের ওরকম একজন মানুষ কিনা আশ্রয় নিয়েছেন তাঁদের কালীমন্দিরে! শোনা মাত্র শুকদেব সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে সমাদর করে নিজের বাড়িতে নিয়ে এলেন। জগন্নাথ কুশারি ছিলেন অবিবাহিত। দেখতে শুনতেও বেশ ভাল। তার উপরে জমিদার বংশ। যথেষ্ট প্রতিপত্তি। শুকদেব এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইলেন না। তিনি জগন্নাথকে প্রস্তাব দিলেন তাঁর মেয়েকে বিয়ে করার জন্য। শুকদেবের মেয়ে ছিলেন ভীষণ সুন্দরী। জগন্নাথ তাঁর রূপে মুগ্ধ হয়ে এক কথায় রাজি হয়ে গেলেন। কিন্তু বিয়ের পর ‘পির আলি ব্রাহ্মণ’ পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করেছে জানতে পেরে জগন্নাথের বাবা জগন্নাথের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। তাঁর আর ঠাঁই হল না পৈতৃক ভিটেয়। বিতাড়িত হলেন সম্পত্তি থেকেও। বাধ্য হয়ে সদ্য বিয়ে করা বউকে নিয়ে জগন্নাথ ফিরে এলেন শ্বশুরবাড়িতে। শ্বশুর শুকদেব তাঁকে যশোর-নরেন্দ্রপুর সংলগ্ন বারোপাড়ায় অনেকখানি জমি লিখে দিলেন। সেই জমিতেই ঘরজামাই হিসেবে নতুন জীবন শুরু করলেন জগন্নাথ কুশারি। ফলে তৈরি হল তৃতীয় ‘পির আলি ব্রাহ্মণ’ পরিবার।এইভাবে তিন পরিবারকে নিয়ে তৈরি হল ‘পির আলি ব্রাহ্মণ’দের মূল কাঠামো। ‘পির আলি সমাজ’। চলতি ভাষায় ‘পিরালি’। শুধু জন্মসূত্রেই নয়, বৈবাহিক সূত্রেও আস্তে আস্তে বাড়তে লাগল পিরালি ব্রাহ্মণেরা। জগন্নাথ কুশারীর চতুর্থ বংশধরেরা যখন বারোপাড়া ছেড়ে কলকাতার সুতানুটি-গোবিন্দপুরে চলে আসেন তখন সেখানে বেশির ভাগই অন্ত্যজ শ্রেণির মানুষেরা বাস করতেন। তাঁদের না ছিল টাকা-পয়সা। না ছিল চালচুলো। কোনও অসুখ হলে ডাক্তার পর্যন্ত দেখাতে পারতেন না। তাই তাঁদের বিপদে-আপদে সব সময় পাশে গিয়ে দাঁড়াতে লাগলেন এই কুশারীরা। টাকার অভাবে কার মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না। ঝড়ে কার ঘর পড়ে গেছে। কে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে, জানতে পারলেই তাঁরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন। ফলে ওঁদের কাছে যেন ঈশ্বর হয়ে আবির্ভুত হয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু ঈশ্বর তো ভীষণ কঠিন শব্দ। সবাই উচ্চারণ করতে পারে না। ঈশ্বরের আর এক সহজ প্রতিশব্দ— ঠাকুর। তাই ওখানকার লোকেরা তাঁদের ‘ঠাকুর’ বলে ডাকতে শুরু করলেন। এই ‘ঠাকুর’ ডাকের মধ্য দিয়েই তাঁরা যেন আগের কৌলীন্য ফিরে পেতে লাগলেন। আর সেটাকে বজায় রাখার জন্যই অর্থ উপার্জনের দিকে আরও বেশি করে ঝুঁকলেন তাঁরা। জগন্নাথ কুশারীর বংশধর রামানন্দের ছিল দুই ছেলে— মহেশ্বর আর শুকদেব। ‘কুশারী’ পদবির সঙ্গে ‘পিরালি’ কথাটা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে দেখে গোবিন্দপুরে এসে ‘কুশারী’ পদবি ছেড়ে ওখানকার লোকেরা তাঁদের যা বলে ডাকতেন, সেই ‘ঠাকুর’টাকেই পদবি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন শুকদেব। অন্য ভাই মহেশ্বর ভাইয়ের দেখাদেখি ‘ঠাকুর’ পদবি না নিলেও, তাঁর ছেলে পঞ্চানন কিন্তু কাকার দেখাদেখি ‘ঠাকুর’ পদবিটাই লিখতে শুরু করলেন। এই পঞ্চানন ঠাকুরের বড় ছেলে জয়রাম অষ্টাদশ শতকের গোড়ার দিকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে জরিপ-আমিন পদে চাকরি পান। তখন পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ‘ঠাকুর’ না লিখে তিনি তাঁর নামের পাশে পদবি হিসেবে লিখতে শুরু করলেন— আমিন। জয়রাম আমিন। দেখতে দেখতে তিনি প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠলেন। গোবিন্দপুরে বাবার জমিতেই বানালেন বিশাল বাগানবাড়ি। থাকার জন্য বাড়ি করলেন ধনসায়রে। যেটা এখন কলকাতা শহরের মধ্যমণি— ধর্মতলা। পরে এই ধর্মতলাতেও আলাদা বৈঠকখানা তৈরি করলেন এবং তার আশপাশে প্রচুর জমিজমাও কিনলেন। কিন্তু ১৭৫৭ সালে বাংলার নবাব সিরাজদৌল্লার ফোর্ট উইলিয়ম আক্রমণের ফলে সে সব নষ্ট হয়ে গেল। কারণ, জয়রাম সে সময় তাঁর ধনরত্ন নিয়ে ফোর্টেই আশ্রয় নিয়েছিলেন। ওই বছরই জয়রামের মৃত্যু হয়। পরে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মীরজাফরের কাছ থেকে দুর্গ পতনের ক্ষতিপূরণ বাবদ যে টাকা আদায় করেছিল, তার থেকে ছ’হাজার টাকা জয়রামের মেজ ছেলে নীলমণির হাতে তুলে দেয় কোম্পানি। তাঁর বাবার ধনরত্নের ক্ষতিপূরণ স্বরূপ। এ ছাড়াও জয়রামের জমানো ছিল দু’হাজার টাকা আর সেই সময়ই গোবিন্দপুরের সম্পত্তি বিক্রি করে নীলমণি পেয়েছিলেন পাঁচ হাজার টাকা। অর্থাৎ হাতে ছিল মোট তেরো হাজার টাকা। সেই সময়ের তেরো হাজার টাকা মানে কিন্তু প্রচুর টাকা। কারণ, তার ক’দিন আগেই, এখন যেখানে কলকাতা শহরটা গড়ে উঠেছে, সেই সুতানুটি, গোবিন্দপুর আর কলিকাতা গ্রাম তিনটি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কিনেছিল সাকুল্যে বারোশো টাকায়। সে যাই হোক, তার পরেই এসপ্ল্যানেড সম্প্রসারণের জন্য ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ধর্মতলার ধনসায়রে তাঁর পৈতৃক ঘরবাড়ি অধিগ্রহণ করার সঙ্গে সঙ্গে পাথুরিয়াঘাটায় জমি কেনেন নীলমণি ঠাকুর। কারণ, তিনি তাঁর বাবার নেওয়া ‘আমিন’ পদবি ব্যবহার করতেন না। ব্যবহার করতেন দাদুর পদবিই। ওই জমি কেনার পর ১৭৬৪ থেকে ১৭৬৯ সালের মধ্যে বাড়ি বানিয়ে সেখানেই থাকতে শুরু করেন তিনি। নীলমণির বড়দা আনন্দীরাম ত্যাজ্যপুত্র হয়ে বাবার জীবদ্দশাতেই মারা যান। ছোট ভাই গোবিন্দরাম ছিলেন নিঃসন্তান। গোবিন্দরামের স্ত্রী, সেজ ভাই দর্পনারায়ণ ও তাঁর ছেলেমেয়ে এবং নিজের বউ-বাচ্চাদের নিয়ে পাথুরিয়াঘাটার বাড়িতেই একসঙ্গে বসবাস করতে থাকেন নীলমণি।নীলমণি ঠাকুর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতে চাকরি পান।

 ওড়িশার কালেক্টরে সেরেস্তাদার হয়ে দু’হাতে রোজগার করেন এবং কলকাতায় অনেকগুলি ভূসম্পত্তির মালিক হন। পাথুরিয়াঘাটার বাড়িতেও পর্যাপ্ত টাকা পাঠাতে থাকেন। সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু ১৮৭২ সালে গোবিন্দরামের নিঃসন্তান বিধবা স্ত্রী রামপ্রিয়া হঠাৎ করেই নিজের ভাগের সম্পত্তি দাবি করে মামলা করেন ভাসুর নীলমণি ও দর্পনারায়ণের বিরুদ্ধে। এই মামলা মেটার পর পরই নীলমণির সঙ্গে দর্পনারায়ণের বিবাদ বাধে বাকি সম্পত্তি নিয়ে। নীলমণি তখন তিতিবিরক্ত হয়ে পৈতৃক বাড়ি দর্পনারায়ণকে দিয়ে শুধুমাত্র গৃহদেবতা লক্ষ্মী-জনার্দন শালগ্রাম শিলা আর নগদ কিছু টাকা নিয়ে বেরিয়ে আসেন পাথুরিয়াঘাটার বাড়ি থেকে। সে সময় জোড়াবাগান অঞ্চলের বিখ্যাত ধনী ব্যবসায়ী বৈষ্ণবচরণ শেঠ নীলমণিকে বন্ধুত্বের খাতিয়ে বর্তমানের জোড়াসাঁকোয় (তখনকার মেছুয়াবাজার অঞ্চল) দেড় বিঘা জমি দিতে চান বাড়ি করে থাকার জন্য। কিন্তু নীলমণি সেই দান নিতে রাজি না-হওয়ায় বৈষ্ণবচরণ তাঁদের পৈতৃক শালগ্রাম শিলা লক্ষ্মী-জনার্দনের নামে ওই জমি লিখে দেন। ফলে লক্ষ্মী-জনার্দনের জমিতে গড়ে ওঠে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি। নীলমণির বড় ছেলে রামলোচন ও মেজ ছেলে রামমণির বিয়ে হয় দক্ষিণডিহির ‘আদি পিরালি’ বংশের রামকান্ত রায়চৌধুরীর দুই মেয়ের সঙ্গে। রামলোচনের সঙ্গে অলকার এবং রামমণির সঙ্গে মেনকার। কিন্তু মেনকার বিবাহিত জীবন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। পাঁচ বছরের ছেলে রাধানাথ আর এক বছরের শিশু দ্বারকানাথকে রেখে তিনি মারা যান। পাঁচ বছরের ছেলেকে না হয় যে কেউই মানুষ করতে পারবে। কিন্তু এক বছরের ওই একরত্তি শিশুটার কী হবে! তখন একাধারে মাসি ও জেঠিমা অলকাই দত্তক নেন দ্বারকানাথকে। এই দ্বারকানাথই অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি মেতে উঠলেন শিক্ষা, সাহিত্য, সমাজ সংস্কার ও আধুনিক চিন্তা-ভাবনায়। পরে তিনিই হয়ে উঠলেন প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর। তাঁর তিন ছেলের মধ্যে বড় ছেলের নাম দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। দেবেন্দ্রনাথের ছিল মোট পনেরো জন ছেলেমেয়ে। তার মধ্যে চোদ্দোতম সন্তান আর ছেলে হিসেবে অষ্টম পুত্রটিই হল— বিশ্ববন্দিত কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। এইভাবেই পূর্বপুরুষের পদবি ‘কুশারি’ থেকে ধীরে ধীরে ‘ঠাকুর’ পদবিতে রূপান্তরিত হন রবীন্দ্রনাথেরা। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরেও পিরালিত্বের কলঙ্ক কিন্তু তাঁদের পিছু ছাড়েনি।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.