চাঁদে মানুষের প্রস্রাব দিয়েই বানানো যাবে কংক্রিটের বাড়ি!


Odd বাংলা ডেস্ক: চাঁদে ঘাঁটি গড়তে চায় মানুষ। তবে অট্টালিকা বানানো হচ্ছে না। কিন্তু বিজ্ঞানে ভর করে ঘরের মতো জায়গা তৈরি করতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। আর সেই বিষয়টি নিয়ে গবেষণায় যে তথ্য পাওয়া গেছে তা অনেকটাই অদ্ভুত। চাঁদের কংক্রিটের কিছু তৈরি করতে গেলে নাকি প্রয়োজন হবে মানুষের প্রস্রাব! এমনটাই জানিয়েছে ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি। 

 এজেন্সিটির গবেষণা অনুসারে, প্রস্রাবের মধ্যে পাওয়া প্রধান জৈব যৌগটি চূড়ান্ত আকারে শক্ত হওয়ার আগে ‘চাঁদের কংক্রিট’র মিশ্রণটিকে পোক্ত করবে। চাঁদের কংক্রিটের একটি জিওপলিমারের মিশ্রণ, যা কংক্রিটের অনুরূপ। গবেষণায় দেখা গেছে যে এই মিশ্রণে ইউরিয়া যুক্ত পানির প্রয়োজন। যা অন্যান্য উপাদানের চেয়ে ভালো কাজ করবে। একটি থ্রি ডি প্রিন্টার ব্যবহার করে ইউরিয়া দিয়ে একটি মডেল তৈরি করা হয়েছে। যা শক্তিশালী প্রমাণিত হয়েছে এবং উন্নত কার্যক্ষমতাও বজায় রেখেছে। ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সি জানিয়েছে, মিশ্রণের একটি গুণ হলো সহজেই মিশে যেতে পারে যা দিয়ে ঢালাই করা সম্ভব এবং এটি নিজের চেয়ে ১০ গুণ ওজনের ভারি কিছু বহন করতে পারবে।

 ইএসএ’র গবেষকরা জানিয়েছেন, তাদের সম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ইউরিয়া, যা মানুষের প্রস্রাবের প্রধান জৈব যৌগ, এটি চাঁদে কংক্রিট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় মিশ্রণকে আরো মারাত্মক কঠিন করে তুলতে পারে। গবেষকরা জানান, চাঁদের রেগোলিথ (চাঁদের বিশেষ ধরনের মাটির গুঁড়ো বা ধুলো) সেখানে কংক্রিট তৈরির অন্যতম উপাদান হতে পারে। গবেষণার উদ্যোগী এবং সহ-লেখক মার্লিস আরনহফ জানিয়েছেন, বিজ্ঞানীদের এই অন্যান্য উপকরণের তুলনায় এই নতুন উচ্চ শক্তি মানের মিশ্রণ বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছে, পাশাপাশি আমরা চাঁদে যা এরই মধ্যে ব্যবহার করতে পেরেছি তা দ্বারাও আকৃষ্ট হয়েছে। নির্মাণ উপাদানের প্রধান উপাদানটি চাঁদের পৃষ্ঠের যে কোনো জায়গায় পাওয়া যায়। এটি পাউডারের মতো, চাঁদের মাটি, যা লুনার রেগোলিথ হিসাবে পরিচিত। কাজেই পৃথিবী থেকে বিপুল পরিমাণে পাঠানোর কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই। অন্যদিকে ইউরিয়া সুপার প্লাস্টিকাইজার হিসেবে কাজ করার ফলে, কংক্রিটের ঘাঁটি গড়তে প্রয়োজনীয় পানির পরিমাণ হ্রাস পাবে।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.