হিন্দু ধর্মে গঙ্গা জলের মাহাত্ম্য অপরিসীম, রয়েছে অনেক কারণও, জানুন



ODD বাংলা ডেস্ক: বিশ্বের প্রাচীন ধর্মগুলির মধ্যে অন্যতম হল হিন্দু ধর্ম। এই হিন্দু ধর্মের এমন অনেক বিশ্বাস রয়েছে যা কয়েকশো বছর পরেও একইরকমভাবে অটুট। যার মধ্যে অন্যতম হল গঙ্গা জল। হিন্দুদের কাছে গঙ্গাজল অত্যন্ত পবিত্র। বিশ্বাস করা হয়, গঙ্গা জলে স্নান করলে মনের সমস্ত কালিমা দূর হয়। আরও মনে করা হয়, মৃত ব্যক্তির মুখে যদি কয়েক ফোঁটা গঙ্গাজল দিলে তাঁর আত্মা শান্তি পায়। এছাড়া হিন্দু ধর্মের প্রতিটি পুজো-পার্বণে গঙ্গে জল একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। কিন্তু হিন্দু ধর্মে গঙ্গা জল এতখানি গুরুত্বপূর্ণ কেন? জেনে নিন-

  • পৌরাণিক মাহাত্ম্য- পূরাণ মতে, গঙ্গাকে স্বর্গ থেকে মর্ত্যে নিয়ে আসার নেপথ্যে যিনি রয়েছেন, তিনি হলেন ভগীরথ। তিনি রাজা সাগরের ষাট হাজার ছেলেকে উদ্ধার করার জন্য গঙ্গাকে মর্ত্যে এসেছিলেন। পৃথিবীতে আসার পর এর গতিবেগ এতটাই বেশি ছিল যে, এর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। এরপর গঙ্গাকে শান্ত করতে ভগবান শিব গঙ্গাকে নিজের জটায় ধারণ করেছিলেন। এরপর বিভিন্ন শাখায় ভেঙে প্রবাহিত হয়ে চলেছিল গঙ্গা। প্রসঙ্গত, স্বর্গ থেকে আসার সময়ে গঙ্গা ভগনাব বিষ্ণুর পাদদেশ হয়ে প্রবাহিত হয়েছিল বলে এর আর এক নাম বিষ্ণুপদী।


তবে শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাসের ভিত্তিতেই নয়, বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলেও দেখা যাবে যে, গঙ্গার জল খুবই উপকারী এবং এর কিছু অসাধারণ দিক রয়েছে। যেমন- 

  • গঙ্গোত্রী হিমবাহের গোমুখ গুহা থেকে উৎপন্ন হয়ে বঙ্গোপসাগরে মেশার আগে পর্যন্ত এর যাত্রাপথে প্রায় কয়েক কোটি মানুষের তৃষ্ণা নিবারণ করে এই গঙ্গাজল। 
  • হিমালয় থেকে এই সূত্রপাত হওয়ার জন্য এর সঙ্গে বিভিন্ন ওষধি ও গুল্ম মিশেছে। যার ফলে বলা হয় গঙ্গা জল একজন রোগীর শরীরে ম্যাজিকের মতো কাজ করে।
  • বর্ষাকাল বাদ দিলে গঙ্গার জলে অন্যান্য নদীর থেকে ২৫% বেশি অক্সিজেন থাকে, যা গুণমানের দিকে থেকে অন্যান্য নদীর তুলনায় অনেক বেশি উন্নত। 
  • জানা যায়, গঙ্গার জলে ফোস (Phos) নামে একধরণের ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিত লক্ষ্য করা যায়। বলা হয় এই বিশেষ ব্যকটেরিয়ার বৈশিষ্ট্য হল এটি গঙ্গার জলে মিশে থাকা দূষণ গ্রাস করে ফেলে। যার ফলে প্রাকৃতিকভাবেই গঙ্গার দূষণ নিয়ন্ত্রণ হয়। 
  • বিশেষজ্ঞরা বলেন, গঙ্গা জলে মিশে থাকা ঔষধি গুণএকাধিক রোগ নিরাময়ে বিশেষভাবে সাহায্য করে। হাঁপানি(অ্যাজমা), জ্বর, বদহজমের মতো একাধিক সমস্যার সমাধানসূত্র হতে পারে এই গঙ্গা জল। তাই এই জল সেবন করলে এইসব রোগ থেকে মুক্ত পাওয়া সম্ভব। 
  • হিন্দু ধর্মে গঙ্গা জলে স্নান করার একটা আলাদাই মাহাত্ম্য রয়েছে। বলা হয় গঙ্গার জলে থাকা খনিজ লবণ, ঔষধি গুণ এবং শুদ্ধতার জন্য গঙ্গাস্নান খুবই ভাল। গঙ্গার এইসব গুণের জন্য একে জীবনদায়িনী গঙ্গা বলেও অভিহিত করা হয়। তবে গঙ্গা আজ প্রায় বিপন্ন হতে চলেছে। মনুষ্যসৃষ্ট দূষণের জেরে গঙ্গার জল এখন ব্যবহার করতে ভয় পান সাধারণ মানুষ। আর সেই কারণে গঙ্গাকে বাঁচাতে তাঁর আরাধনার পাশাপাশি গঙ্গাকে বাঁচানোও সাধারণ মানুষের কর্তব্য। 
Blogger দ্বারা পরিচালিত.