১৭২ হাজার বছর আগে থর মরুভূমির স্থলে বয়ে যেত স্রোতস্বিনী নদী, চাঞ্চল্যকর দাবি গবেষকদের


Odd বাংলা ডেস্ক:  রাজস্থানের বিকানেরে আজ যেখানে থর মরুভূমি, আজ থেকে ১৭২ হাজার বছর আগে সেখান থেকেই বয়ে যেত এক নদী। আজ এত বছর পর সেই নদীর হদিশ পেলেন গবেষকরা। কি অবাক হলেন নিশ্চয়? জানা যাচ্ছে, একদা এই নদীকে কেন্দ্র করেই সেখানে গড়ে উঠেছিল জনজীবন। এমনকি এই নদীপথ ব্যবহার করেই মানুষ একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করতেন। 

জার্মানির দ্য ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য সায়েন্স অব হিউম্যান হিস্ট্রি, তামিলনাড়ুর আন্না ইউনিভার্সিটি, এবং আইআইএসইআর কলকাতার গবেষকদের দ্বারা পরিচালিত একটি সমীক্ষা যা সংগঠিত হয়েছিল ২০১৪ সাল থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বিকানের-এর বাইরে নাল গ্রামের কাছে নদীর বালি এবং পাথর নিয়ে। সেখানে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে, প্রস্তর যুগে সেই নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে মানুষের বাস ছিল।  সমীক্ষাটি প্রকাশিত হয়েছে কোয়ার্টানারি সায়েন্সেস রিভিউস-এ। 


জার্মানির দ্য ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর দ্য সায়েন্স অব হিউম্যান হিস্ট্রি-র এক গবেষক জানিয়েছেন, মূলত 'luminescence dating' পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন। এই পদ্ধতির সাহায্যে জানা যায় যে, নদীর বালির মধ্যে থাকা রিভার কোয়ার্টেজের গায়ে শেষ কবে সূর্যের আলো পড়েছিল। তাঁদের পাওয়া তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে বিকানেরের কাছে বর্তমানের সংলগ্ন নদীর থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরত্বে ১৭২ হাজার বছর আগে থর মরুভূমির স্থল থেকেই বয়ে যেত স্রোতস্বিনী নদী। 

পাশাপাশি আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ওসান ম্যানেজমেন্টে কর্মরত অধ্যাপিকা হেমা অচ্যুতান জানিয়েছেন, থর এখন মরুভূমি হলেও এখানে সন্ধান পাওয়া গিয়েছে একাধিক প্যালিও চ্যানেলের যেখান দিয়ে কোনও না কোনও সময়ে নদী বয়ে গিয়েছিল। এখন তার উপর বালি চাপা পড়ে গিয়েছে। তারই মধ্যে কিছু জায়গায় যেমন নাল-এ গ্র্যাভেল ডিপোজিট এক্সপোজ হওয়ায় এই গবেষণায় খুবই উপকার হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.