মৃত্যুর পরে ইনিই প্রথম দেখা দেন! এই দেবতার পুজোও হয় ভারতে..
Odd বাংলা ডেস্ক: যমরাজের খাতাঞ্চি। সুবিশাল খাতায় তিনি পাপ-পুণ্যের হিসেব কষছেন নিরন্তর। ভারত ও নেপালের কায়স্থ সম্প্রদায়ের কাছে তিনি উপাস্য। তিনি চিত্রগুপ্ত।
চিত্রগুপ্ত সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মার সন্তান। পুরাণ থেকে জানা যায়, ব্রহ্মা নরকের দায়িত্ব যমকে অর্পণ করলে যম খুবই বিপন্ন বোধ করেন। কারণ তিনি ক্রমাগত আত্মাদের আগমনের দাপট সামলাতে পারছিলেন না। যে আত্মার স্বর্গে যাওয়ার কথা, তাকে নরকে আর নরকের ক্যান্ডিডেটকে স্বর্গে পাঠাচ্ছিলেন তিনি। রীতিমতো ফাঁপরে পড়েই তিনি ব্রহ্মার দ্বারস্থ হন।
যমের সমস্যার সমাধানে ব্রহ্মা সহস্র বছরের এক তপস্যা করেন। ধ্যান ভেঙে তিনি দেখতে পান, তাঁর দেহ থেকেই উদ্ভূত হয়েছেন এক অনিন্দ্যকান্তি পুরুষ। তাঁর হাতে কলম ও কাগজ। ব্রহ্মার ‘কায়া’ থেকে উদ্ভূত হয়েছিলেন বলে চিত্রগুপ্তের সন্তানরা ‘কায়স্থ’ নামে পরিচিত হন। চিত্রগুপ্তকেই মানুষের পাপ-পুণ্যের হিসেব রাখার কাজে নিয়োগ করা হয়।
চিত্রগুপ্তের পূজা ‘কলম-দোয়াত’ নামেও পরিচিত। এই পূজায় কলম-দোয়াত ছাড়াও মধু, সুপারি, সরষে, আদা, গুড়, চিনি ও চন্দন লাগে। তাঁর পূজায় চারটি গুণকে স্মরণ করা হয়। এগুলি হল— ন্যায়বিচার, শান্তি, শিক্ষা ও জ্ঞান। এই পূজায় পারিবারিক আয়ের একটি প্রতীকী হিসেব রাখা হয়। হলুদ, সিঁদুর আর ফুল দিয়ে তাঁর অর্চনা করা হয়।
বাংলায় চিত্রগুপ্তের তেমন পরিচিতি না থাকলেও দেশের অন্যত্র তিনি পূজিত হন।





Post a Comment