নিজের কেরিয়ারে চরম সাফল্যের মুখ দেখেও, সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারেননি যে ৭ তারকা
Odd বাংলা ডেস্ক: বিখ্যাত হওয়া মানে কেবল ভাল কাজ করে যাওয়াই নয়, তাই যদি হত, তাহলে সব বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরাই লাইমলাইটে থাকতেন। কিন্তু সব বিখ্যাত ব্যক্তিত্বরা নিজেদের নাম-খ্যাতি ধরে রাখতে পারেন না, আজ আপনাদের বলব এমনই ৮ সেলিব্রিটির কথা যাঁরা নিজের কেরিয়ারে চরম সাফল্যের মুখ দেখেও সেই সাফল্য ধরে রাখতে পারেননি।
১) বিবেক ওবেরয়- সলমন খানের বলিউডে ক্যারিয়ার ধ্বংসের নেপথ্যের অন্যতম কারণ হয়ে আছেন বিবেক ওবেরয়। বিবেক যখন ঐশ্বর্য রাইয়ের সঙ্গে ডেটিং শুরু করেছিলেন তখনই বিষয়টি শুরু হয়েছিল। বিবেক এবং ঐশ্বর্য একে অপরের সঙ্গে ডেটিং করার সময় সলমন তাঁদের ফোন করে অপমান করতেন বলেও শোনা যায়।
এরপর বিবেক বুঝতে পেরেছিলেন যে, ঐশ্বর্যের সঙ্গে সম্পর্ক এবার শেষের পথেই। নিজের কাজে সফল হয়েছিলেন সলমন। এরপর ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের ক্ষমতা খাটিয়ে সলমন সর্বতভাবে চেষ্টা করেছিলেন বিবেক যেন আর কোনও কাজ না পান।
২) শক্তি কাপুর- শক্তি কাপুর মূলত সিনেমায় খলনায়ক এবং কমিক চরিত্রে অভিনয় করে অধিক পরিচিতি পেয়েছিলেন এবং চলচ্চিত্র জীবনে তিনি ৭০০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছেন।
১৯৮০ এবং ১৯৯০-এর দশকে শক্তি কাপুর অভিনেতা কাদের খান ও আশরানির সঙ্গে দুষ্ট বা হাস্যকর চরিত্রে ত্রয়ী হয়ে অভিনয় করেছিলেন এবং ১০০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করেছিলেন। ২০০৫ সালে ইন্ডিয়া টিভি-র করা একটি স্টিং অপারেশনে শক্তি কাপুরকে একটি মেয়েকে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার জন্য একটি মেয়েরে যৌন ইঙ্গিত করেছিলেন। এই মিডিয়া কেলেঙ্কারীর জেরে শক্তি কাপুরের অভিনয় কেরিয়ারকে নষ্ট করেছিল।
৩)অভিজিৎ ভট্টাচার্য- অভিজিৎ তাঁর মেলোডিয়াস কণ্ঠের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি তাঁর উচ্চ যৌনতাবাদী, সমকামী এবং ঘৃণ্য টুইটের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরিচিত।
তিনি প্রায়শই সাক্ষাৎকারে তিন খানের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জনসাধারণের বিরুদ্ধে কিছু আলটপকা মন্তব্য করার জন্য মানুষের কাছে বিরক্তির পাত্র হয়েছিলেন, যা পরোক্ষভাবে তাঁর গানের কেরিয়ার নষ্ট হয়েছিল।
৪) শাইনি আহুজা- শাইনি আহুজা ২০০৫ সালে 'হাজারো খোয়াইশে অ্যায়সি' ছবির জন্য ফিল্মফেয়ার বেস্ট মেল ডেবিউ পুরস্কৃত হয়েছিলেন। এরপরে তিনি 'গ্যাংস্টার', 'উও লামহে', 'লাইফ ইন এ মেট্রো', 'ভুল ভুলাইয়া', এবং 'ওয়েলকাম ব্যাক' এর মতো বেশ কয়েকটি হিট ছবিতে কাজ করেছিলেন।
২০০৯ সালে তাঁর ১৯ বছরের কাজের মেয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, আটক করে রাখার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। যদিও পরে অভিযোগকারী তার প্রাথমিক বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেন। তবে মামলার বিচারক বিশ্বাস করেছিলেন, সম্ভবত চাপের মুখে পড়েই মেয়েটি বয়ান বদল করেছেন এবং বিচারে শাইনির ৭ বছরের জেলের সাজা দেওয়া হয়। তার পর থেকে তিনি খুব একটা খবরে আসেননি।
৫) ফরদিন খান- একটা সময় ছিল যখন বলিউডে ফরদিন খানের কেরিয়ার ছিল উজ্জ্বল, তবে একটি মিডিয়া কেলেঙ্কারী তাঁর সবকিছু বদলে দেয়। ২০০১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে কোকেন কেনার অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং এটি সেই সময়ে একটি বড় মিডিয়া কেলেঙ্কারির হয়ে উঠেছিল।
সেই মিডিয়া কেলেঙ্কারী তাঁর কেরিয়ারের জন্য মারাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কোকেন কেলেঙ্কারির ঘটনা ধীরে ধীরে মুছে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সাজানো গোছানো অভিনয় জীবনেও ইতি টানতে হয়েছিল।
৬) জায়েদ খান- জায়েদ খান হলেন বলিউড অভিনেতা সঞ্জয় খান এবং জরিন খানের ছেলে। চলচ্চিত্র জগতে নাম লেখানোর অনেক সুযোগ ছিল তাঁর। অনেকে মনে করেন যে, তাঁর পারিবারিক সূত্রে বা চলচ্চিত্র জগতেও তিনি যে ধরণের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেতেন, তাতে তাঁর একটা উজ্জ্বল কেরিয়ার তৈরি হওয়াই উচিত।'ম্যায় হু না' ছবিতে সাফল্যের পর তাঁর অভিনীত একের পর এক ছবি ফ্লপ হয়, কেরিয়ারে সঠিক ছবি বাছার ভুলে অসমেই তাঁর কেরিয়ার ডুবে যায়।
৭) মনীষা কৈরালা- মনীষা কৈরালা একসময় বলিউডের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর অত্যধিক মদ্যপান তার অভিনয় ও জনপ্রিয়তার গুণমানকে হ্রাস করেছে। যার ফলে পরবর্তীতেতে তাঁকে অনেক বড় বড় ছবি থেকে বাদও পড়তে হয়েছে।





Post a Comment