অমঙ্গল নয়, বেড়ালের কান্নার আড়ালে সঙ্গম-যন্ত্রণার রহস্য!

Odd বাংলা ডেস্ক: বেড়াল কেন কাঁদে? বেড়ালের কান্না কি সত্যিই কোনও অমঙ্গলের আগাম ইঙ্গিত দেয়? অশরীরী কোনও অস্তিত্বের আভাস পেয়েই কি কান্নার রোল তোলে তারা? বহু মানুষের মধ্যেই এমন একটা বিশ্বাস চালু থাকলেও বিজ্ঞান বলছে একদম অন্য কথা।

বেড়ালের এই গুমরে ওঠা কান্নার নেপথ্যে রয়েছে একেবারেই তাদের এক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। বিজ্ঞান বলছে, পুরুষ ও স্ত্রী বেড়ালের যৌনমিলন প্রক্রিয়া এমনই বিচিত্র যে তার জেরেই এমন ঘটনা ঘটে।

সঙ্গমের সময় হুলো ও মেনি বেড়াল পরস্পর পূর্ণ সুখ উপভোগ করে। কিন্তু হুলোর বীর্যস্খলনের পরই হয় সমস্যার শুরু। হুলো তার পুরুষাঙ্গটি বের করে নিতে চাইলেও চট করে তা করতে পারে না। কারণ বেড়ালের পুরুষাঙ্গের উপর থাকে অসংখ্য ছোট ছোট কাঁটা। মিলনের শুরুতে তা সমস্যার কারণ না হলেও যোনী থেকে পুরুষাঙ্গ বের করার সময় তা অত্যন্ত অসুবিধের সৃষ্টি করে। মেনি বেড়ালের জরায়ু ও যোনিপথ ওই কাঁটা বিঁধে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যেতে থাকে।

এই ঘটনায় যন্ত্রণায় কাতর হয়ে করুণ সুরে চিৎকার করে ওঠে মেনি বেড়াল। সেই চিৎকারকেই আমরা মনে করি ‘বেড়ালের কান্না’। এই বিষয়টি বোঝাতে গিয়েই প্রাণীবিজ্ঞানের অধ্যাপক ও লেখক অসীমকুমার মান্না ‘প্রাণীজগতের পূর্বরাগ, প্রেম ও মিলন’ বইয়ে লিখছেন, ‘‘অসহ্য যন্ত্রণায় কাতর হয় বলে হুলোর শিশ্ন বের করে নেওয়ার চেষ্টাতে মেনি বিড়াল বারবার বাধা দেয়— যেন এ মিলন অনন্ত হয় এই প্রত্যাশা। কিন্তু, তা তো হওয়ার নয়। তাই হুলো যে কোনও ভাবে নিজেকে মুক্ত করে তৃপ্তি শেষে।’’

কাজেই অমঙ্গল নয়, এই শারীরবৃত্তীয় যন্ত্রণার ঘটনাই রয়েছে বেড়ালের কান্নার আড়ালে। তবে মিলনের কিছু পরেই মেনি বিড়ালের বেদনা প্রশমিত হয়ে যায়। ফলে তখন থেমে যায় তার ‘কান্না’-ও।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.