চোখের সামনে উধাও হয়ে যান নায়িকা, ১০০ বছরেও মেলেনি খোঁজ
Odd বাংলা ডেস্ক: নির্বাক ছবির জনপ্রিয় এক নায়িকা। তখনকার সময় অনেকেই তার নাম দেয় ‘ছবির মতো সুন্দরী’ বা ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারী’। জনপ্রিয় এই নায়িকা একইসঙ্গে একজন গায়িকা ও নৃত্যশিল্পী ছিলেন। হঠাৎ একদিন যাত্রাপথে জাহাজ থেকে উধাও হয়ে যান তিনি।
বিগত ১০০ বছরেও এই ঘটনার কূল-কিনারা হয়নি। সবচেয়ে অদ্ভূত বিষয় হলো, তখন জাহাজে ১০০০ মানুষ ছিল। আর তাদের চোখের সামনেই কি-না ‘ভ্যানিশ’ হয়ে যান নায়িকা! বলছি, নির্বাক যুগের চলচ্চিত্রের নামকরা নায়িকা মেরি এমপ্রেসের কথা।
১৯১৯ সালের অক্টোবরের ২৭ তারিখ। তারও ১১ দিন আগে জাহাজটি যাত্রা শুরু করে ইংল্যান্ডের লিভারপুল থেকে। আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেয়ার সময় জাহাজটি নিউ ইয়র্কে পৌঁছানোর আগেই কানাডার নোভা স্কটিয়া রাজ্যের হ্যালিফ্যাক্সে নোঙর ফেলে, যাত্রা বিরতির জন্য।
জাহাজে উপস্থিত জনসাধারণ ও ভিআইপি যাত্রীদের মধ্যে মেরি এমপ্রেস ছিলেন সবচেয়ে আলাদা। সবাই তার কদর করছিলেন। তখনকার সময়ে খুবই সাহসী অভিনেত্রী ছিলেন মেরি এমপ্রেস। তিনি সাবলীলভাবেই খোলামেলা পোশাক পরে অভিনয় করতেন। আবেদনময়ী এই নায়িকার সিনেমা মানেই ছিল ‘হিট’।
জাহাজের যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই জানতো জনপ্রিয় নায়িকা মেরি এমপ্রেসও তাদের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক যাচ্ছিলেন। তবে কানাডার হুডসন নদীতে যাত্রা বিরতির সময় যখন কর্তৃপক্ষ মেরির সন্ধান করল তখন তার খোঁজ মেলেনি।
জাহাজের এক ক্রু স্টুয়ার্ডেস জানান, ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায় মেরি এমপ্রেসের কেবিন স্টেটরুম ৪৮০তে খাবার নিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর কেবিন পরিষ্কার করতে আবারও যান সাড়ে ৬টায়। তখন ক্রুকে মেরি বলেছিলেন ঠিক ৯টার সময় তিনি স্যান্ডউইচ খাবেন।
এরপর ঠিক ৯টার সময় ক্রু মেরির রুমে ঢুকে তাকে দেখতে পাননি। তিনি ভেবেছিলেন হয়ত নায়িকা জাহাজেরই অন্য কোথাও আছেন। তাই তিনি স্যান্ডউইচটি মেরির ঘরে রেখে বেরিয়ে আসেন।
সকালে ওই ক্রু আবার মেরির রুমে সকালের নাস্তা দিতে গিয়ে দেখেন, বিছানাও পরিপাটি আর স্যান্ডউইচটিও পড়ে আছে সেভাবেই। অন্যদিকে মেরি এমপ্রেসও ঘরে নেই। তখনও ক্রু সাত পাঁচ ভাবেননি।
অতঃপর যখন জাহাজে মেরির সন্ধান শুরু হয় তখন ক্রু এসব তথ্য কর্তৃপক্ষকে জানান। জাহাজের ক্রুরা তন্নতন্ন করে মেরি এমপ্রেসকে খুঁজলেন। তিনবার পুরো জাহাজে খোঁজ করা হলো। তবে বিধি বাম, নায়িকা উধাও। কোথাও নেই ৩৫ বছর বয়সী মেরি এমপ্রেস।
বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নায়িকার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা বড় বড় শিরোনামে ছাপা হতে থাকে। সেইসঙ্গে জাহাজ কর্তৃপক্ষের দিকেও আঙুল ওঠাতে শুরু করে বিশ্ববাসী। ১০০০ যাত্রীর চোখের সামনে দিয়ে মেরি এমপ্রেস কীভাবে উধাও হলেন? কেউ কি তাকে দেখলো না? বিষয়টি অবিশ্বাস্য ভাবতে শুরু করে সবাই।
বিভিন্ন তদন্তকারী দল ও পত্রিকার অনুসন্ধানী রিপোর্টাররাও মেরির ৪৮০ কেবিনে ঢুকে তল্লাশী চালান। যদি কোনো ক্লু পান, সেই আশায়। তবে নায়িকার ঘরটি বেশ গোছানো ছিল, আর ঘরটিও ছিল পরিষ্কার।
ঘটনার দিন ওই ক্রু’র সঙ্গে ৪৮০ নম্বর কেবিনে ঢুকেন এক সাংবাদিক। তিনি দেখেন, ওই ঘরের এক তাক ভর্তি এমপ্রেসের ছবি। নিউ ইয়র্কে আসা উপলক্ষ্যে ছবিগুলো হয়ত সংবাদমাধ্যমে দিতে চেয়েছিলেন নায়িকা।
এছাড়াও সেখানে মেলে নিউ ইয়র্কের যে হোটেলে তিনি উঠতে চেয়েছিলেন সেখানে পাঠানো একটি টেলিগ্রাফের কপি। তাতে লেখা ছিল- সোমবার আসছি। আমার জন্য একটা রুম রাখবেন।
মেরি কী তার ঘর থেকেই উধাও হন?
মেরি এমপ্রেসের ঘরে যে সাংবাদিক ঢুকেছিলেন তিনি পরবর্তীতে জানান, কেবিনটিতে ইন্টরিয়র প্যাসেজওয়ের একটা দরজা ছিল। ১৩ ইঞ্চি প্রশস্ত সেই পথ দিয়ে এমপ্রেসের পক্ষে বের হওয়া মোটেও সম্ভব নয়। যদিও সেই দরজাটি ছিল বন্ধ। আর যদি নায়িকা ওই পথ দিয়েই বের হন তবে উধাও হলেন কীভাবে?
তিনি যদি সমুদ্রে ঝাঁপ দিয়ে থাকেন, তাহলে সেখানকার কোনো যাত্রীরই কি চোখে পড়ল না? এমন বিখ্যাত একজন অভিনেত্রী কারো চোখে পড়বেন না, তা তো হতে পারে না। এভাবেই কেটে গেছে ১০০ বছর। তবুও নায়িকার নিখোঁজ হওয়ার কারণ বা হদিস মেলেনি। জটিল রহস্য হয়েই রয়ে গেছে নায়িকার উধাও হওয়ার ঘটনা।
মেরি এমপ্রেস পরিচিতি
ব্রিটিশ ভ্রাম্যমান বিনোদন দলে ক্যারিয়ার শুরু হয় মার্কিন অভিনেত্রী মেরি এমপ্রেসের। দ্রুতই অ্যাটলান্টিকের উভয় পাড়ে গায়িকা, নৃত্যশিল্পী ও নাট্যাভিনেত্রী হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। এরই মধ্যে আবেদনময়ী অভিনেত্রী হিসেবে নির্বাক চলচ্চিত্রে নিয়মিতই তার ডাক পড়তে থাকে।
দ্য স্টাববর্ননেস অব জেরাল্ডিন, হোয়েন উই আর ২১, দ্য গার্ল হু ডাজেন্ট নো, দ্য ওম্যান পেইস ও বাহাইন্ড ক্লোজড ডোরস চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পত্রিকার শিরোনামও হতে থাকেন। তার নাম ডাক ছড়িয়ে যায় দেশ থেকে বিদেশ।
দিনকে দিন চলচ্চিত্রে তার কদর বেড়েই চলছিল। তাকে নিয়ে সর্বদায় পত্র-পত্রিকায় লেখা হত। ১০০ বছর পড়েও নায়িকা আজও আলোচনায়। তাকে নিয়ে এখনো লেখা হয় সংবাদপত্রে।





Post a Comment