পেট্রোল-টায়ার দিয়ে শুরু, খেয়েছেন আস্ত বিমানও

Odd বাংলা ডেস্ক: পৃথিবীতে কতোই না অদ্ভুত মানুষজন রয়েছে। কেউ বা করছেন লেপ, কম্বল বিয়ে। কেউবা খাচ্ছেন মাটি। কেউ কেউ আবার রেকর্ড গড়তে নিচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি। শরীর বিকৃত করে হিংস্র পশুর রূপ নিচ্ছেন অনেকে।

কেউ তো আবার শরীরে ট্যাটু করে গড়ছেন বিশ্ব রেকর্ড। বিশ্বের অদ্ভুত মানুশগুলোর মধ্যে অনেকেই স্থান পান গিনিস বুক অফ রেকর্ডসে। এজন্য অনেকে ইচ্ছা করেই বিভিন্ন উদ্ভট কাজ করেন। আবার অনেকে জন্মগতভাবেই সেই কাজে পারদর্শী। 

তেমনই একজন মিশেল লোলিতো। তিনি খেতে খুব ভালবাসতেন। তবে আমার-আপনার মতো ভাত, মাছ নয়। ফ্রান্সের এই নাগরিক খান রাবার, গাড়ির টায়ার, কাচ, ধাতব পদার্থও। ছোটখাটো গাড়ি, সাইকেল থেকে শুরু করে এক বার আস্ত একটা বিমানও খেয়ে ফেলেছিলেন। আর এমনটাই দাবি করেছেন স্বয়ং মিশেল। এত কিছুর পরেও ৫৭ বছর বয়স পর্যন্ত কোনো শারীরিক কোনো সমস্যা ছাড়াই বেঁচে ছিলেন। 

মিশেল ১৯৫০ সালের ১৫ জুন মাসে গ্রেনোবেলে জন্মগ্রহণ করেন। মিশেল মাত্র ১৬ বছর বয়সেই অস্বাভাবিক উপাদান খাওয়া শুরু করেছিলেন। তিনি ১৯ বছর বয়সেই সবার নজরে আসতে শুরু করেন তিনি। একটু সবার থেকে আলাদা কিছু করতেই তিনি এগুলো খেতেন। তবে খেতে যে তার কাছে খারাপ লাগত এমন নয়, খুব মোজা করেই এই জিনিসগুলো খেতেন মিশেল।

চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষায় দেখেন মিশেলের পেট এবং অন্ত্রগুলোতে একটি ঘন আস্তরণের আবরণ ছিল। যা এসব তীক্ষ্ণ ধাতব বস্তু হজম করতে সহায়তা করত। বরং নরম জাতীয় খাবার, যেমন- কলা বা সিদ্ধ ডিম খেলেই তার বদ হজম হত। অসুস্থ হয়ে পড়তেন মিশেল।

মিশেলের খাবারের তালিকায় ছিল ধাতু, কাচ, রাবার, এমনকি বাইসাইকেল , শপিং কার্ট , টেলিভিশনও। ১৯৫৯ সাল থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তিনি নয় টন ধাতু খেয়েছেন বলে দাবি করেন। এই বস্তুগুলো খাওয়ার আগে তিনি পেট্রোল পান করতেন। এরপর টুকরো করে কাটা টায়ার কিংবা বিভিন্ন বস্তু খেতে শুরু করতেন। এই অদ্ভুত খাবার খাওয়ার জন্য তিনি গিনিস বুক অফ রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছিলেন। 

পুরোপুরি সুস্থ ছিলেন মিশেল। কোনো ধরনের কোনো জটিল রোগে কখনো আক্রান্ত হননি তিনি। ২০০৭ সালে ৫৭ বছর বয়সে মারা যান মিশেল। তাকে তার নিজ শহর গ্রেনোবেলের সেন্ট রোচ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.