৫ হাজার বছর আগের মানব খুলির রহস্য উদ্ধার, এর মাংস খুবলে খেয়েছিল কেউ
Odd বাংলা ডেস্ক: দুর্গম কিংবা পরিত্যক্ত বিভিন্ন গুহা বা অঞ্চলে নানা সময় নানান ধরনের জিনিস পাওয়া যায়। কখনো মানুষের হাড়গোড় কখনো ব্যবহৃত কোনো কিছু। সেভাবেই ২০১৫ সালে একদল গুহা অনুসন্ধানকারী এই খুলির খোঁজ পেয়েছিলেন। উত্তর ইতালির মার্সেল লবেন গুহার মধ্যে এই রহস্যজনক খুলির খোঁজ পান তারা। মাটির ৮৫ ফুট নীচে সেই খুলিটি পাওয়া যায়।
মানুষের মাথার খুলি ছিল সেটি। তবে এটি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। গবেষকদের কপালে ভাঁজ পড়ল খুলিটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করার পর। চোয়ালের একাংশ, খুবলে নেয়া হয়েছে মাংস! এই রহস্যই গবেষকদের মনে নানান প্রশ্নের জন্ম দিয়েছিল। ২০১৫ সালে প্রথম খুলিটির সন্ধান পান একদল গবেষক।
মার্সেল লবেন গুহাটি খুবই দুর্গম এক এলাকা। এর ভেতর নেমে গিয়েছে আঁকাবাঁকা পথ। যেটা খুবই সঙ্কীর্ণ। কোথাও কোথাও এতটাই সঙ্কীর্ণ যে মানুষের পক্ষে সেই পথে চলা অসম্ভব। দুর্গম সে পথ কখনও হামাগুড়ি দিয়ে নামতে হয় তো কখনও স্পাইডারম্যানের মতো বেয়ে উঠতে হয়। এই সঙ্কীর্ণ এবং দুর্গম পথে ৮৫ ফুট নীচে নেমে খোঁজ মেলে রহস্যজনক এক মানবখুলির!
সবচেয়ে যে বিষয়ে গবেষকরা বিস্মিত হয়েছিল, এমন একটি দুর্গম জায়গায় কোথা থেকে এবং কী ভাবে এই খুলি এসে হাজির হল? এই অনুসন্ধান ঘিরে সে সময় বিস্তর জলঘোলা হয়েছিল। কেউ মনে করেছিলেন, বহু আগে কোনও গুহা অনুসন্ধানকারী হয়তো গুহায় আটকে গিয়েছিলেন। খাবার, পানি এবং অক্সিজেনের অভাবে ক্রমশ তিনি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েন।
তবে এত সহজে সেই ব্যাখ্যা মানা সম্ভব ছিল না। কারণ খুলিটুকু ছাড়া মানব কঙ্কালের আর কোনো অংশই আশেপাশে মেলেনি। খুলি রহস্যে বিস্তর মতবাদ সামনে আসে। ২০১৭ সাল থেকে খুলি নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন একদল বিজ্ঞানী। প্রত্নতত্ত্ববিদ লুসিয়া কাস্টাগনার নেতৃত্বে ১২ জন অনুসন্ধানকারীর একটি দল ওই গুহায় প্রবেশ করেন। ২০১৫ সালে যে দলটি খুলিটির খোঁজ পেয়েছিল তাদের থেকে গুহার মানচিত্র ভাল করে বুঝে নিয়েই রওনা দিয়েছিলেন তারা। তারাই ২০২১ সালে অবশেষে রহস্যের সমাধান করেন।
২০১৫ সালে খোঁজ পেলেও গবেষণার সুবিধার্থে খুলিটি গুহার ভেতরে ওই স্থানেই রেখে এসেছিলেন সে সময়ের অনুসন্ধানকারীরা। ২০১৭ সালে অনুসন্ধানকারীর ওই দল খুলিটি গবেষণাগারে নিয়ে আসে। মাটির ৮৫ ফুট নীচে গুহার মধ্যে খুলিটির কাছে পৌঁছতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছিল তাদের। তার উপর খুলিটি এমন একটি জায়গায় ছিল যেখানে পৌঁছতে গুহার দেয়াল বেয়ে অন্তত ৪০ ফুট উপরে উঠতে হয়। গুহার একটি খাঁজে আটকে ছিল খুলিটি।
গবেষণায় প্রথম যে বিষয়টি সামনে আসে সেটি হল খুলিটি এক নারীর। যার বয়স অন্তত ৫ হাজার বছর। তবে এই নারীর গুহার ভিতরে কী করছিলেন তা বুঝতে পারছিলেন না গবেষকরা। ওই নারী যে একা ছিলেন সেটা এক প্রকার নিশ্চিত ছিলেন তারা। কেননা আশেপাশে আর কোনো কঙ্কাল পাওয়া যায়নি।
গবেষণা করতে গিয়ে খুলিটির কিছু অস্বাভাবিকত্ব চোখে পড়ে গবেষকদের। খুলিটিতে গর্ত ছিল। তার চোয়ালের অংশ ছিল না এবং ধারালো কিছু দিয়ে ওই খুলি থেকে মাংস খুবলে নেয়া হয়েছিল। খুব নিখুঁত পর্যবেক্ষণের পর এই সিদ্ধান্তে আসেন তারা। আরো জানা যায়, মৃত্যুর আগে দীর্ঘ দিন অপুষ্টিতে ভুগেছিলেন তিনি। ওই নারী কি কোনো কুসংস্কারের শিকার হয়েছিলেন? মৃত্যুর আগে কি তা হলে তার উপর মর্মান্তিক নির্যাতন করা হয়েছিল।
মৃত্যুর জন্য তাকে এই গুহায় আটকে রাখা হয়েছিল? আর তারপর মারা যাওয়ার পর কোনো রীতি মেনে তার শরীর থেকে মাংস খুবলে নেয়া হয়? আরো নানান প্রশ্নে জর্জরিত ছিলেন গবেষকরা। এত এত প্রশ্নের ভিড়ে যেন মূল বিষয় থেকেই সরে আসছিলেন গবেষকরা।
তাই একেবারে কোমড় বেঁধে এই সমস্ত প্রশ্নের উত্ত্রর খুঁজতে লেগে পড়েন একদল গবেষক। ২০২১ সালে এসে অবশেষে রহস্যের কিছুটা সমাধান হয়। এই গুহার কিছু দূরে মানুষের অনেক হাড়গোড়ের সন্ধান পান তারা। পরবর্তীকালে জানা যায়, সেটি ছিল অতীতের কবরস্থান। আগে তার পাশ দিয়েই পানির স্রোত এসে প্রবেশ করত গুহায়। তাই হয়তো মৃতদেহের শরীর থেকে আলাদা হয়ে কোনোভাবে স্রোতে ভেসে গুহায় পৌঁছে যায় খুলিটি।
তার পর স্রোতের সঙ্গেই কিংবা ভূমিধসের ফলে খুলিটি গুহার ভেতরে এই দুর্গম জায়গায় আটকে যায়। এত দিন সকলের নজরের বাইরেই ছিল সেটি। ২০১৫ সালে ওই জায়গায় এসে পৌঁছলে তার সন্ধান মেলে। তবে কীভাবে গুহার মধ্যে খুলিটি এসে পৌঁছলো সে রহস্যের সমাধান হলেও কেন তার মৃত্যু হয়েছিল এবং কেনই বা তার খুলি থেকে মাংস খুবলে নেয়া হয়েছিল সে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা।





Post a Comment