শত আক্রমণের পরেও বাংলার যে রেল লাইনকে ধ্বংস করা যায়নি


Odd বাংলা ডেস্ক: চিৎপুরের কলকাতা স্টেশন থেকে আপনি ট্রেনটি ধরতে পারবেন। মৈত্রী এক্সপ্রেস।  যাবে ঢাকা। কলকাতা থেকে ঢাকা, মানে দুই বাংলার দুই রাজধানীকে সংযুক্ত করেছে যে রেললাইন।  

এই ট্রেনের রুটটি সবচেয়ে কম সময় নেয় দুই দেশের রাজধানীর মধ্যে যাতায়াতের ক্ষেত্রে। ট্রেনটি ছাড়ে কলকাতা থেকে এবং গেদেতে গিয়ে দাঁড়ায়। এই গেদে হল ভারতের তরফে সীমান্ত। তারপর বর্ডার পেরিয়ে ট্রেনটি গিয়ে দাঁড়ায় বর্ডারের ওপারে মানে বাংলাদেশের দর্শনা এলাকাতে। দর্শনা হল বাংলাদেশের তরফে সীমান্ত অঞ্চল। তারপর সোজা গিয়ে এর যাত্রা শেষ হয় ঢাকাতে। প্রতি সপ্তাহের সোম, মঙ্গল, বুধ, শুক্র, শনি এই ট্রেনটি কলকাতা থেকে ঢাকা যায়। আর মঙ্গল, বুধ, শুক্র, শনি, রবি এই ট্রেনটি ঢাকা থেকে কলকাতা আসে। 

1947 সালে যখন দেশ ভাগ হচ্ছে, তখন সারা দেশের সমস্ত রেললাইনের ওপর আঘাত হানা হলেও অবিভক্ত বাংলার বুকে এই রেললাইনটিকে সযত্নে রক্ষা করেছিলেন বাঙালিরা। পাঞ্জাবের সঙ্গে লাহোরের যখন রেলপথটি বিস্ফোরণে ভেঙে দেওয়া হয়েছিল তখন ব্রিটিশ সরকার ভেবেছিল পশ্চিমবঙ্গের বুকেও ঠিক একই ঘটনা ঘটবে কিন্তু সেটা হয়নি। 

এই রেলপথে যাত্রা করার সময় আপনি বুঝতে পারবেন যে দুই বাংলার আকাশ-বাতাসের মধ্যে ঠিক কতটা মিল রয়েছে। ঠিক কীভাবে এই দুই দেশের মানুষের মধ্যে একটা মিল পরিলক্ষিত হয়। 

এপারে গেদে, ওপারে বাংলাদেশের দর্শনা স্টেশন, খুলে দেওয়া হচ্ছে বর্ডার 

ইতিহাসের সাক্ষী বাংলার এই রেলপথ আজও বয়ে নিয়ে চলেছে বাঙালির সংস্কৃতি প্রিয় সত্ত্বা। বাঙালি যে মনে প্রাণে এক, তাকে বর্ডার দিয়ে ভাগ করা যায় না, ধর্ম দিয়ে আলাদা করা যায় না সেটাই প্রমাণিত হয় এই রেলপথের অস্তিত্ত্ব থেকে। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.