রাবড়ির কারণে বদলে গেছে আস্ত গ্রামের নাম! রয়েছে এই বাংলাতেই!

Odd বাংলা ডেস্ক: দরজা ঠেলে হেঁশেলে পৌঁছালেই দেখা মিলবে ইয়া বড় বড় কড়াই। মস্ত বড় কড়াইয়ে ভর দুপুরেও ফোটানো হচ্ছে সাত থেকে দশ লিটার দুধ। অল্প আঁচে ফুটিয়ে তা দেড় থেকে দুই লিটার করা হয়। দুধ ফুটে কমে এলেই তালপাতার পাখা দিয়ে জোরে জোরে বাতাস করা হয়। যাতে দুধের ওপরে ভালোভাবে সর পড়তে পারে। এবার সেই সর শলার কাঠি দিয়ে সুনিপুণ কৌশলে তা তুলে নিয়ে জমিয়ে রাখা হচ্ছে কড়াইয়ের গায়ে। একটু ঠাণ্ডা হলে কড়াইয়ের গায়ে লেগে থাকা পুরু সর কেটে তা ভিজিয়ে রাখা হয় ক্ষীরে।

নানা মাপের পাত্রে এভাবেই রোজ রাতে সাজিয়ে রাখা হয় রাবড়ি। যে দোকানের যত চাহিদা, সেই মতো আলাদা আলাদা মাপের পাত্র। ভোর না হতেই বাড়ির পুরুষ সদস্যরা বেড়িয়ে পড়বেন শহরের উদ্দেশ্যে।

গ্রামের কেউ কেউ দু’প্রজন্ম ধরে রাবড়ি বানাচ্ছে, কেউ আবার তিন প্রজন্ম। বড়দের দেখে দেখেই হাত পাকিয়েছেন এ প্রজন্মের কারিগররা। নারীরা এ কাজ বেশি করে। তবে চাষবাদের ফাঁকে অথবা দুপুরে খাবার খেতে বাড়ি এসে ছেলেরাও হাত লাগায় রাবড়ি বানানোর কাজে। সকাল থেকে সন্ধ্যা এভাবেই গ্রামের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে তৈরি হয় রাবড়ি।

এ গ্রামটি হচ্ছে হুগলীর চন্ডীতলার আইয়া। পোশাকি নাম আইয়া হলেও লোকমুখে এখন রাবড়ি গ্রাম নামেই বেশি পরিচিত। আইয়া এবং তার পাশের গ্রাম গাংপুরে এ রাবড়ি তৈরি শুরু হয়েছিল ২০ থেকে ২৫ বছর আগে। সত্তর-আশিটা ঘর মিলিয়ে ছোট্ট গ্রাম। চল্লিশ থেকে পঞ্চাশটা পরিবারই এখানে রাবড়ি বানায়। চাষবাসের পাশাপাশি রাবড়ি বানিয়েই হয় এদের রোজগার।

আর এখান থেকেই কলকাতাসহ আশেপাশের সব মিষ্টির দোকানে রাবড়ি সরবরাহ করা হয়। এখানকার রাবড়িই বহু বছর ধরে কলকাতা এবং এর আশেপাশের মিষ্টিপ্রেমীদের স্বাদ মেটাচ্ছে। 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.