টিপু সুলতানের আজব 'বাঘ'! ছিঁড়ে খেত ইংরেজকে!
Odd বাংলা ডেস্ক: ‘ভেড়া বা শিয়ালের মতো দুইশ বছর বাঁচার চেয়ে বাঘের মতো দুইদিন বেঁচে থাকাও ভালো’। টিপু সুলতান এমনটিই বলতেন।
বাঘ পাগল ছিলেন টিপু সুলতান। তার রাজ্যের প্রতীক ছিল বাঘ। এই বাঘ ছিল তার অনুপ্রেরণার উৎস। নিজেও বাঘের ন্যায় ক্ষীপ্রতা অর্জন করে সবার কাছে অনুকরণীয় হয়েছিলেন। তার রাজ্যের পতাকায় কানাড়ি ভাষায় লেখা ছিল ‘বাঘই ঈশ্বর’। তিনি সিংহাসনে বসে মাঝে মাঝেই এ কথাটি বলতেন।
১৭৮১ খ্রিষ্টাব্দে ইংরেজ সেনাপতি হেক্টর মুনরোর ও তার বাহিনীর কাছে দ্বিতীয় মহীশূর যুদ্ধে টিপু ও তার বাবা মারাত্মক নাজেহাল হন। টিপুর রাজ্যে যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হয়, নিহত হয় অনেক সৈন্য। এমনিতেই তিনি প্রচণ্ড ইংরেজ বিরোধী ছিলেন। তদুপরি এই পরাজয়ে তিনি আরো বেশি তেজদীপ্ত হয়ে ওঠেন। ঘটনাক্রমে ১৭৯৩ খ্রিষ্টাব্দে হেক্টর মুনরোর একমাত্র পুত্র সুন্দরবনের সাগর দ্বীপে শিকার করতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে নিহত হন।
এই সংবাদ শুনে টিপুর মাথায় এক বুদ্ধি খেলে যায়। তিনি এই ধারণা কাজে লাগিয়ে একটি বিচিত্র খেলনা বানিয়েছিলেন। যা সারা দুনিয়ায় টিপু'স টাইগার নামে বিখ্যাত হয়ে আছে। আজো এই নিদর্শন রয়েছে। ফরাসি যন্ত্রকুশলীদের দ্বারা নির্মিত প্রমাণ আকারের এই খেলনাটিতে ক্লকওয়ার্ক সিস্টেম ব্যবহৃত হয়েছিল। খেলনাটিতে দম দিয়ে ছেড়ে দিলে এর সঙ্গে লাগনো একটি অর্গান পাইপ থেকে রক্ত হীম করা বাঘের প্রচণ্ড গর্জনে চারপাশ যেন কম্পিত হত! আর এক ইংরেজের প্রচণ্ড গোঙানির আওয়াজ বের হতো।
পুরো খেলনাটির ধরন ছিল- একজন ইংরেজ একটি বাঘের থাবার মধ্যে অসহায়ভাবে পড়ে গোঙাচ্ছে আর একটা বাঘ প্রচণ্ড আওয়াজ করে সেই ইংরেজের বুকের উপর চেপে গলা কামড়ে ধরেছে। তখন ইংরেজ তার হাত উঠিয়ে চেষ্টা করতো বাঘের মাথাটি এদিক-ওদিক সরাতে। এসময় খেলনার মধ্য দিয়ে মহীশূর সুলতানের প্রিয় গজলের সুর বাজত। টিপু’স টাইগার তৈরির পিছনে তার দুইটি কারণ ছিল- ইংরেজদের প্রতি রাগ ও ক্ষোভ এবং ব্যঘ্রপ্রীতি। খেলতে খেলতে টিপু যখন হাঁপিয়ে উঠতেন তখন বাঘটিও দম নিত! কখনো রাতের পর রাত একই জিনিস দেখে গায়ের জ্বালা মেটাতেন টিপু সুলতান।





Post a Comment