কলিযুগের সঙ্গে আদৌ করোনার কি কোনও সম্পর্ক আছে?
শুভেন্দু পাঠক: অনেকেই বলছেন কলিযুগের কারণেই করোনার প্রকোপ বেড়ে গিয়েছে। আর এই ভাবেই নাকি মানব সভ্যতার ইতি ঘটবে। কিন্তু শাস্ত্র মতে এই কথা ঠিক নয়।
গীতার চতুর্থ অধ্যায়ের সপ্তম শ্লোকে রয়েছে
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
হে ভারত, যখন যখন ধর্মের গ্লানি ঘটে,
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদা আত্মনং সৃজামি অহম্।।
ধর্মের অভ্যুত্থানে তখন আমি আত্মাকে সৃজন করি।
শ্লোকের দ্ৱিতীয়াংশে আত্মাকে সৃজন করার কথা বলা হয়েছে, মানে যুগের শেষে মানুষের চিন্তা-ভাবনার পরিবর্তন হতে পারে।
যুগের অবসান মানেই যে সভ্যতার সমাপ্তি সেটা কোথাও উল্লেখ করা হয়নি। যুগ বিষয়টাকে বুঝতে গেলে বৈদিক সময়ে ফিরে যেতে হবে। আসেল যুগ হল সময়ের ভারতীয় একটি একক। আর বিদেশের বুকে ঘড়ি আবিষ্কারের অনেক আগেই ভারতের বুকে ঘড়ি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সেটা যুগের ঘড়ি। ঘড়ি জিনিসটাকে যে গোল হতে হবে মায়া-সভ্যতার বহু আগে মহাভারতে তার উল্লেখ আছে। সেই অনুযায়ী কলি যুগের পরে আবার দ্বাপর যুগ শুরু হবে। তাহলে কী ধরে নেওয়া যায় যে কলিতেই এই সভ্যতার ইতি হবে? না শাস্ত্রে সেটা কোথাও লেখা নেই।
শাস্ত্রের হিসেবটা কিছুটা এই রকম
তাহলে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ দেহ রেখেছেন 3102 খ্রীষ্টপূর্বাব্দে। আর শাস্ত্র অনুযায়ী কৃষ্ণের মর্ত্য ত্যাগের বছর থেকেই কলি শুরু হয়ে যায়। যুগের যে ডায়াগ্রামের উল্লেখ মহাভারতে আছে , সেটা অনুযায়ী আমরা ইতিমধ্যেই কলিযুগে চলে এসেছি। আর বর্তমানে দ্বাপর যুগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। 2325 সাল নাগাদ দ্বাপর শুরু হবে আর আমরা ত্রেতার দিকে এগিয়ে যাব । এই 2025 পর থেকে 2325 সাল পর্যন্ত যে সময়কাল, সেটাকে পরিবর্তনের সময় বলা হয়। এই সময় সরাসরি যুদ্ধ-বিগ্রহ হবে না কিন্তু জনসংখ্যার ভারসাম্য বজায় রাখার বা মানবসভ্যতার মনন ও চিন্তনে পরিবর্তন আনার একটা প্রয়াস প্রকৃতি করবে।
মহাভারতের হিসেব অনুযায়ী চার যুগের হিসেবটা কিছুটা (4:3:2:1)। মানে কলি যুগের সময়কাল সবচেয়ে কম। আর যুগচক্রের সবচেয়ে নিচে আছে দুটি কলিযুগ। প্রত্যেকটি 1296 বছর করে। দুটি যুগ মিলিয়ে হয় 2592 বছর। অদ্ভুত ভাবে এই সময়কালের মধ্যেই দুটি বিশ্বযুদ্ধ পৃথিবী দেখে ফলেছে।
বাস্তবের মিল কতটা?
বাস্তবের মিল একেবারে যে নেই তা বলা যাচ্ছে না। তবে করোনার সঙ্গে কলিযুগের সম্পর্ক নেই। আসলে দুই মহাযুদ্ধ কলিযুগের সময়কালে হওয়ার পর থেকেই আমরা মানবসভ্যতার পরিবর্তন দেখছি। কোনও যুদ্ধ ছাড়াই রাশিয়ার ভেঙে যাওয়া তো তারই উদাহরণ। অর্থ্যাৎ মানবসভ্যতার চিন্তার পরিবর্তন ঘটছে।
ঠিক একই ভাবে প্রত্যেক যুগের পরে 300 বছরের একটি পরিবর্তনের সময় আসে। সেই অনুযায়ী দ্বাপর যুগে ঢোকার ঠিক আগে আগামী ৪ বছর পর থেকেই আমরা দেখব আরও পরিবর্তন। তবে যদি কেউ এটা বলতে চায় যে করোনার মাধ্যমে মানব সভ্যতায় ভারসাম্য আসছে, সেটা একেবারেই ভুল। কারণ ভারসাম্য আনার সময় এখনও শুরু হয়নি। শুরু হবে আরও চার বছর পর। তখন কী কী হবে সেটা কারও পক্ষেই বলা সম্ভব নয়। তবে করোনার আগমনকে যদি আপনারা মনে করেন সেই পরিবর্তনের সূচনা সেটাকেও একেবারে নাকোচ করা যায় না। তর্কের খাতিরে কেউ বলতেই পারেন কোইন্সিডেন্ট। তবে এটুকু বলা যায় যে বিপদের উল্লেখ আগেই শাস্ত্রে ছিল।






Post a Comment