শরীরের শিরা ফুলে গেছে? ব্যাপারটা সেক্সি নয়, ভেরিকোস ভেনের লক্ষণ
Odd বাংলা ডেস্ক: অনেকেরই হাতে, পায়ে, কপালের শির ফোলা থাকে। অথচ একে স্বাভাবিক বলে ধরে নেন অনেকেই। দেশে ১০-১৫% মানুষই এই শিরা ফুলের যাওয়ার এক ধরনের রোগে ভোগেন, যার নাম ভেরিকোস ভেন। অসচেতনতার জেরে এর থেকে দেখা দিতে পারে নানা রকম সমস্যা।
ভেরিকোস ভেন কী?
আমাদের শরীরে রক্তের প্রবাহ দু’দিকে হয়। হৃৎপিণ্ড থেকে অক্সিজেন নিয়ে ধমনীগুলো দিয়ে শরীরের প্রতিটি অঙ্গে রক্ত যায় এবং অঙ্গগুলো থেকে অক্সিজেনবিহীন রক্ত শিরাগুলোর মাধ্যমে হৃদয় ফিরে আসে। এই শিরাগুলোর জালের মধ্যে রক্তের প্রবাহের জন্য অনেকগুলো কপাট থাকে (যাকে রিটার্ন ভালভ বলা হয়) যেখানে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে রক্ত হৃৎপিণ্ডের দিকেই যায়। যখন এই ভালভগুলো খারাপ হয়ে যায় তখন রক্ত হৃৎপিণ্ডে না গিয়ে শিরায় ফিরে আসে। যার ফলে শিরাগুলোর মধ্যে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রক্ত সঞ্চারিত হয়। ভেরিকোস ভেন, রোগটি মূলত ত্বকের কাছের শিরাগুলিতে হয়। মহিলারা এই রোগে বেশি ভোগেন।
উপসর্গ- এই রোগে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পায়ের উরু থেকে হাঁটুর পিছন দিকের শিরাগুলো অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠে। পেঁচানো শিরাগুলো নীল ও বেগুনি রঙের হয়ে যায়। সারাদিন পায়ে একটা অস্বস্তি বা জ্বালা থাকে এবং অনেক সময় প্রচনণ্ড ব্যথাও হয়। পা ভারী-ভারী মনে হয়। রাতে পায়ে টান ধরে। পায়ের ত্বকে জটিলতা (লাইপোডারম্যাটোস্ক্লেরোসিস), ফুসকুড়ি (একজিমা) হয়, সংক্রমণ (সেলুলাইটিস) হয়, এছাড়া শিরায় ঘা’ও হয়। এগুলোর কোনোটাই ওষুধ খেলেও সারতে চায় না। বিরল হলেও কিছু কিছু রোগীর থ্রম্বোসিস হতে পারে, যেখানে শিরায় ‘ব্লাড ক্লট’ হতে পারে।
কারণ, যদিও অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকার ফলে ভেরিকোস ভেন হয় না, কিন্তু এর ফলে শিরায় বেশি রক্ত জমা হয়ে যায় ও টান পড়ে। যার ফলে শিরাগুলোর দেওয়ালে চাপ বেড়ে যায়। এর ফলস্বরূপ ভালভগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এই রোগ হতে পারে।
প্রাথমিকভাবে লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য হাঁটুর নিচে গ্রাজুয়েটেড ইলাস্টিক কম্প্রেশন দেওয়া হয়। এরপর রোগের অবস্থা বুঝে দু’রকম চিকিৎসা করা হয়।
ফোম স্কেলেরোথেরাপি– রোগের পরিসর সীমিত হলে ইনজেকশনের মাধ্যমে শিরাতে স্ক্লেরোসিং সলিউশন দেওয়া হয়। এর ফলে একটু চুলকানি থাকতে পারে যা দু’তিন দিন থেকে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যে চলেও যায়।
লেসার বা রেডিওফ্রেকুয়েন্সি ট্রিটমেন্ট– এই পদ্ধতিতে শিরায় ছিদ্র করে আলট্রাসাউন্ডের সাহায্যে শিরাগুলোকে রেডিওফ্রিকুয়েন্সি বা লেসারের মাধ্যমে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
লোকাল অ্যানাস্থিসিয়া দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। রোগী সেই দিনই বাড়ি ফিরে যেতে পারেন আর ২৪ ঘন্টার পর নিজের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা শুরু করতে পারেন। রোগী ইঞ্জেকশন ফোটানো ছাড়া আর কোনোরকম ব্যথা অনুভব করেন না। একটু লাল দাগ থাকতে পারে যা ৬-৮ দিনের মধ্যে চলে যায়। চিকিৎসার পর ওই জায়গা কোনোভাবেই রগড়াবেন না, টিপবেন না। ২-৪ সপ্তাহ স্টকিং পড়তে হবে। ৩-৫ দিন পেন কিলার খেতে হবে। সঠিক সময় রোগ নির্ণয় হলে এবং যথাযথ চিকিৎসা হলে, এই রোগ পুনরায় হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে।
রিস্ক ফ্যাক্টর- স্থূলতা, ধূমপান, নিষ্ক্রিয়তা বা আলস্য, পায়ে চোট।
গর্ভাবস্থা সুস্থ থাকতে কী করতে হবে?
নিয়মিত এক্সারসাইজ ও যোগ ব্যায়াম করুন। সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য খান। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে বা বসে থাকবেন না। সঠিক ওজন বজায় রাখুন।
ধূমপান করবেন না। হাই হিলের জুতো পড়বেন না।





Post a Comment