এশিয়ার প্রথম চিড়িয়াখানা গড়ে উঠেছিল বাংলাতেই! তবে আলিপুরে নয় কিন্তু!
Odd বাংলা ডেস্ক: তখন দেশে ব্রিটিশ রাজ। সাল ১৮০২-১৮০৩। সেই সময়ই বাংলার বুকে ঘটে গেল এক ঐতিহাসিক ঘটনা। তৈরি হল এশিয়ার প্রথম চিড়িয়াখানা। কী ভাবছেন? আলিপুরের কথা বলছি? না না একদমই নয়। এই চিড়িয়াখানা গড়ে উঠেছিল ব্যারাকপুরে। যার নেপথ্যে ছিলেন তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ওয়েলেসলি।
সেসময় গোটা বিশ্বে দর্শকদের জন্য চিড়িয়াখানা ছিল মাত্র তিনটি। আর বিশ্বের চতুর্থ চিড়িয়াখানাটি গড়ে উঠল এই বাংলাতেই।
লর্ড ওয়েলেসলি বিভিন্ন পশুপাখি নিয়ে পরীক্ষার জন্য একটি বিশেষ স্থান তৈরির উদ্যোগ নেন। যেমন ভাবা তেমনি কাজ। ব্যারাকপুর চিড়িয়ামোড়ে তৈরি হয় চিড়িয়াখানা। জানা যায়, ১৮০৫ সালে লর্ড ওয়েলেসলি ফিরে যাওয়ার পর বন্ধ হয়ে যায় গবেষণামূলক কাজ। তবে চিড়িয়াখান চলে আরও ৭৫ বছর।
কী ছিল এই চিড়িয়াখানায়? সারস-উটপাখি-পায়রা থেকে বাঘ-ভল্লুক, দক্ষিণ আফ্রিকার সাদা বাঘ, তিব্বতি বাইসন, লেপার্ড, বেবুন, সাদা বাদর, জিরাফ, সবকিছু ছিল এই চিড়িয়াখানায়। ১৮১৭ থেকে ১৮২২ সালের মধ্যে গড়ে ওঠে নতুন পাখিশালা ও পশুশালা।
১৮৭৭ সাল পর্যন্ত বাঘ-সিংহের এই খাঁচাগুলো ছিল। আজ আর পশুশালার বাঘ-সিংহের খাঁচাগুলোও অবশিষ্ট নেই। নেই চিড়িয়াখানার কোনো চিহ্নও।
১৮৭৬ সালে রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড আলিপুর চিড়িয়াখানার উদ্বোধন করেন। সেসময় ব্যারাকপুর চিড়িয়াখানার অবশিষ্ট পশুপাখিগুলি আলিপুর চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরিত করা হয়। বিভিন্ন পশুপাখির মধ্যে ছিল একটি কচ্ছপ। নাম আদিত্য। বহু ইতিহাসের সাক্ষী এই কচ্ছপের মৃত্যু হয় ২০০৬ সালে। আর তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে যায় ব্যারাকপুর চিড়িয়াখানার ইতিহাস।





Post a Comment