আজটেক সভ্যতার নৃশংস নরবলি! হৃৎপিণ্ড বের করে দেবতাকে উৎসর্গ!
বিশেষ প্রতিবেদন: প্রথমে হত্যা। তারপর সেই ভুক্তভোগীর দেহ থেকে বের করে আনা হত হৃৎপিণ্ড। সেই হৃৎপিণ্ডই উৎসর্গ করা হত দেবতা। তারপর মন্দিরের বেদিতে ছড়িয়ে দেওয়া হত রক্ত। এমনই নৃশংস নরবলি দেওয়া হত আজটেক সভ্যতায়।
যে সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়েছিল বর্তমান মেক্সিকোতে। জানা যায়, এরনান কার্তেজ ১৫২১ সালে যখন আজটেক দখল করে নেন। স্প্যানিস যোদ্ধা এবং তার সহযাত্রীদের নিয়ে পৌঁছন তেনোশতিতলানে, তখন সহযাত্রীরা দেখতে পান টেমপ্লো মেয়রের (তখনকার প্রধান মন্দির) পুরোহিত ধারালো অস্ত্র দিয়ে একজনের বুক কেটে হৃৎপিণ্ড বের করছেন। তারপর ধুকধুক করতে থাকা হৃৎপিণ্ডটা দেবতার কাছে তুলে ধরা হয় অর্ঘ্য হিসেবে। পরে বলি দেওয়া মানুষটির দেহ মন্দিরের উঁচু বেদি থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। কোথাও কোথাও বলা হয়, মন্দিরের একটি অংশ তৈরি করা হয়েছিল মানুষের খুলি দিয়ে!
স্প্যানিশ ইতিহাসবিদ দিয়েগো দুরান দাবি করেছেন, এই মন্দির উদ্বোধনের সময় ৮০ হাজার ৪০০ নারী, পুরুষ, শিশুকে বলি দেওয়া হয়েছিল। মন্দিরের ম্যুরাল ও খোদাই করা নকশা থেকে তিনি এই তথ্য উদ্ধার করেন।
আজটেক সাম্রাজ্য যে ১৫ থেকে ১৬ শতক পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারল, তার পেছনেও এই নরবলির ভূমিকা আছে। এই বলির মাধ্যমে জনগণকে ভয় দেখানো হতো। ভয়ে মানুষ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে কোনো প্রশ্ন তুলত না। প্রত্নখননে পাওয়া খুলিগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা করে জানা গেছে, নিহত বেশির ভাগ মানুষই বাইরে থেকে আসা। ধারণা করা হয়, তাদের বেশির ভাগই ছিল যুদ্ধবন্দী বা ক্রীতদাস। যুদ্ধবন্দীদেরও বলি দেওয়া হতো, যাতে ভয়টা ছড়িয়ে পড়ে।
ধারণা করা হয়, অনেকে স্বেচ্ছায়ও বলি হতেন। স্বেচ্ছাসেবীরা বিশ্বাস করতেন, এটি একটি পবিত্র ও গর্বের কাজ। তাঁরা এ–ও মনে করতেন, আত্মাহুতির মাধ্যমে পরজন্মে সূর্যদেবতার সৈন্যশিবিরে স্থান পাওয়া যায়।
তথ্যসূত্র: হিস্ট্রি ডটকম





Post a Comment