অনাহারে মরার মত পড়েছিলেন, এই সাহিত্যিককে পোড়াতে ছুটে এসেছিলেন ডোমের দল!
বিশেষ প্রতিবেদন: অভাব-অনটন। এই ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। পেটের জ্বালায় এহেন কাজ নেই যা তিনি করেননি। পুলিশের দারোগা থেকে হাতি-ধরা মাহুত, সবরকম পেশায় নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন। আর পরে তিনিই হয়ে উঠেছেন সাহিত্য জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়। খাতায় কলমে এই মানুষটা কিন্তু ইস্কুলের গণ্ডিও পেরোননি। অথচ বাংলা, ইংরেজির সাথে উর্দু, ওড়িয়া, হিন্দি, ফার্সি, সংস্কৃততেও সমান সাবলীল।
একসময় ত্রৈলোক্যনাথকে গ্রামের স্কুলে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর। সে চাকরি চলে যায় অচিরেই। শুরু আধপেটা খেয়ে থাকা। তবুও, চরৈবেতি।
উপার্জনের জন্য ঘুরেছেন বিভিন্ন প্রদেশে। অখাদ্য কুখাদ্য ভক্ষণে দিন কেটেছে। অনাহারে মৃতপ্রায় হয়ে পড়ে থেকেছেন গাছের নিচে। মরা ভেবে পোড়াতে এসে প্রাণ বাঁচিয়েছিল ডোমেদের দল।
এমন অবিশ্বাস্য জীবন বলেই বোধহয় তাঁর হাত থেকে ডমরু বা কঙ্কাবতীর মতো আশ্চর্য লেখা বেরোয়। এত কিছুর পরেও শিরদাঁড়াটা সোজা। একটি পয়সার জন্যেও হাত পাতেননি কারো কাছে। বরং দুর্ভিক্ষের মোকাবিলা করতে পাশে দাঁড়াচ্ছেন মানুষের।
শেষবয়সে কিন্তু খ্যাতির শিখরে পৌঁছলেন ত্রৈলোক্যনাথ। স্বয়ং রানী ভিক্টোরিয়া ইংল্যান্ডে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তাঁকে। তবে এত বৈভব-সম্মানেও ভোলেননি স্বদেশপ্রীতি। ত্রৈলোক্যনাথ বরাবর নিজেকে সমাজ-সংস্কারকের আসনেই বসিয়েছেন। কিন্তু এই বাংলা কতটাই বা মনে রেখেছে তাঁকে? কতটাই বা চিনেছে এই সমাজ?





Post a Comment