সন্ধের পর স্বয়ং মৃত্যু অপেক্ষা করে ভানগড়ে! দুর্গের ভেতর চলে কালাজাদু!

Odd বাংলা ডেস্ক: রাজস্থানের আলবর জেলায় অবস্থিত ভানগড় কেল্লা এশিয়া মহাদেশের সবচেয়ে ভীতিকর স্থানগুলোর একটি। সন্ধ্যা ৬টার পর কেল্লার ভেতরে কাউকে অবস্থান করতে দেওয়া হয় না- এটা রীতিমতো সরকারি আদেশ। তাই বিকাল সাড়ে ৫টা থেকেই কেল্লার ভেতর থেকে পর্যটকদের বের করে দেওয়া শুরু করে নিরাপত্তাকর্মীরা- যাতে ভুলেও কেউ নির্দিষ্ট সময়ের পর সেখানে রয়ে না যায়। বলা হয়, গভীর রাতে এই কেল্লায় নর্তকীদের প্রেতাত্মার নাচসহ নানান অতিপ্রাকৃত ঘটনা ঘটে যা স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে সহ্য করা অসম্ভব। 
এখনও পর্যটকরা ভানগড় গেলে সূর্যাস্তের আগেই ফিরতি পথ ধরেন।

এই দুর্গটিকে নিয়ে অনেক কৌতুহল অনেক রহস্য আছে জমা আছে সাধারণ মানুষের মনে।স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য অনুসারে বাবা বালাক নাথ নামে একজন সাধু দুর্গ অঞ্চলে বাস করতেন, এবং এটি তাঁর আদেশ ছিল যে দুর্গের আশেপাশে নির্মিত যে কোনও বাড়িগুলি তার বাড়ির চেয়ে লম্বা করা যাবে না এবং যদি এইরকম কোনও বাড়ির ছায়া তার বাড়িতে পরে তাহলে দুর্গ ধ্বংস হতে পারে। অনেকে মনে করেন এই ভাবেই নাকি ভানগড় দুর্গ ধংস হয়েছিল।

আবার অনেকে অন্য মত পোষণ করেছেন। তাদের মত অনুযায়ী দুর্গটি পতনের পিছনে রয়েছে ভানগড়ের রাজকন্যা রত্নাবতী ।শোনা যায় স্থানীয় এক তান্ত্রিক তার প্রেমে পড়ে। রাজকুমারী একদিন তার প্রসাধনী কেনার জন্য সঙ্গিনীদের সাথে বাজারে যায় তখনই তান্ত্রিক তাঁকে প্রেম নিবেদন করেন এবং রাজকুমারী তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। তখন ওই রাজকুমারীকে বশ করার জন্য মন্ত্রপুতো একটি তেলের শিশি উপহার দেন।

রাজপ্রাসাদের অন্য এক তান্ত্রিক তা বুঝতে পেরে রাজকুমারীকে জানান তখন রাজকুমারী তা ছুঁড়ে ফেলে দেন দুর্গের বাইরে।ফলস্বরূপ ওই তান্ত্রিকের পুরো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয় এবং ঐই 'তান্ত্রিক' কে হত্যা করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। যাদুকর শেষ নিঃশ্বাস নেওয়ার আগে, তিনি পুরো প্রাকৃতিক দৃশ্যের উপরে একটি অভিশাপ দেয় যে কোনও মানুষ সেখানে কখনও শান্তিতে থাকতে পারবে না।

ভানগড় দুর্গের চারপাশের পুরো প্রাকৃতিক দৃশ্যটি তখন থেকেই ভুতুড়ে হয়ে যায়। অভিশাপের এক বছর পর মোগলদের সাথে যুদ্ধে রাজ্যের বহুলোক এবং দুর্গেরই একটি মহলে রাজকুমারী মৃত্যু হয়। এবং দুর্গটি একটি ভুতুড়ে দুর্গে পরিণত হয়।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.