Odd বাংলা ডেস্ক: সামান্য একটু শীত বাড়লেই আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। এতো ঠাণ্ডায় কীভাবে কাজ করবো। আবার কেউ কেউ তো গোসলও বন্ধ করে দেয়, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। তবে আমাদের এখানে শীতকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা পাঁচ, সাত বা ১০ ডিগ্রি পর্যন্ত হয়ে থাকে। অথচ এই পৃথিবীতেই ওয়মিয়াকন নামে সাইবেরিয়ার এক গ্রামে শীতকালে তাপমাত্রা নেমে যায় ৭০ ডিগ্রিতে। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন।
৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সবচেয়ে মজার বা অবাক হওয়ার মতো তথ্য হলো, এ রকম ভয়ংকর বা প্রতিকূল পরিবেশও বছরের পর বছর ধরে এই গ্রামগুলোতে মানুষ বসবাস করছে। অতিবাহিত করছে তাদের রুটিন জীবন। তাহলে চলুন, আজ জেনে নেয়া যাক পৃথিবীর এমন কিছু দেশ যেখানকার শীতল আবহাওয়ার কথা মনে পড়লেই আপনার ঠাণ্ডা লাগতে শুরু করবে।
ওয়মিয়াকন সেন্ট্রাল সাইবেরিয়ার একটি অঞ্চল। রাজধানী মস্কো থেকে প্রায় ৩৩০০ মাইল দূরবর্তী এই গ্রামটিকে বলা হয়। পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল গ্রাম। এখানে সচরাচর এতোটাই ঠাণ্ডা পড়ে যে, মঙ্গলগ্রহ থেকেও বেশি শীতল মনে করা হয় এই অঞ্চলটিকে।
যেখানে মঙ্গলে তাপমাত্রা কম থাকার কারণে, মানুষের বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা করা যাচ্ছে না। তাপমাত্রা বাড়াতে কেউ কেউ পরমাণু বোমা বিস্ফোরণের মতো পরামর্শও দিচ্ছেন, সেখানে আমাদের পৃথিবীতেই ওয়মিয়াকন নামে তারচেয়েও বেশি শীতল একটা জায়গা আছে, যেখানে আবার মানুষও বসবাস করছে। ভাবা যায় ব্যাপারটা?
ওয়মিয়াকনের গড় তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ১৯২৪ সালে এখানে একবার তাপমাত্রা মাইনাস ৭১ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে গিয়েছিল। মাত্রাতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে তেমন কোনো ফসল হয় না ওয়মিয়াকনে। বলগা হরিণ পালন করার কারণে মাংস আর স্যুপ এখানকার মানুষের প্রধান খাদ্য।
এখানে অবশ্য একটা সুবিধা আছে, খাবার দাবার মানে মাছ-মাংস কিছুই ফ্রিজে রাখতে হয় না। পচে যাওয়ার ভয় নেই এরকম ভয়ংকর তাপমাত্রা। এই অঞ্চলের গাড়ি চলন্ত অবস্থায় না থাকলেও, বেশিরভাগ সময় ইঞ্জিন চালু করে রাখতে হয়। তা না হলে অকেজো হয়ে যেতে পারে গাড়ি। এমনকি বছর খানেক আগেও এখানে দুজন মানুষ ঠাণ্ডায় জমে মারা গেছে।
তাদের গাড়ি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা গাড়ি থেকে নেমে বাকি পথ হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করেন। আর তাতেই শেষ জীবন। এতো ঠাণ্ডা যে, কিছুক্ষনের মধ্যে তারা বরফের মতো জমে নীল। সাধারণত এখানকার তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ডিগ্রির নিচে নেমে গেলে বন্ধ রাখা হয় এখানকার একমাত্র স্কুলটি।
অবশ্য খুব বেশি একটা মানুষও বসবাস করে না এখানে। সব মিলিয়ে ৫০০ লোকের বসবাস। বেঁচে থাকার চেয়েও ম্রে যাওয়া বেশি বিড়ম্বনার ওয়মিয়াকনে। কারণ, বরফ শীতল এই পরিবেশে মানুষকে শায়িত করার জায়গা কোথায়।সেক্ষেত্রে মৃতদের ভর্তি কফিন সমাধিস্থ করার আগে কবর খননের জন্য আগুন জ্বালিয়ে বরফযুক্ত মাটি কাটা হয়।
আর এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সময় লেগে যায় অন্তত তিন-চার দিন। জানুয়ারিতেই সবচেয়ে বেশি শীতল থাকে এই রহস্যময় ওয়মিয়াকন। একবার তো ঠাণ্ডায় এখানকার আবহাওয়া কেন্দ্রের থার্মোমিটারই বিকল হয়ে গিয়েছিল। এছাড়াও ঠাণ্ডায় এখানে নানান উদ্ভট উদ্ভট পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।
যেমন প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় এখানে কিছুক্ষণ বাইরে থাকলেই চোখের উপর বরফের আস্তরণ জমে যায়। এছাড়া কলমের কালি, গ্লাসে রাখা পানিও কিছুক্ষণ পর আর তরল থাকে না। জমে যায় একদম। মানুষ আসলেই প্রকৃতির সন্তান।
নইলে ভাবুন তো যে মানুষ প্লাস ৫০ থেকে ৬০ডিগ্রি তাপমাত্রায় বেঁচে আছে, আবার সেই মানুষই জীবন অতিবাহির করছে মাইনাস ৬০ থেকে ৭০ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। তবে কীভাবে সম্ভব! সত্যিই এতো সব রহস্য আর বৈচিত্র্যময় তার কারণ কেবল সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন।
ওমায়াকনের মতো, ভারখোয়ান্স্ক ইয়াকুটিয়ায় অবস্থিত। এবং এই শহরটি পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম স্থান বলেও দাবি করে। ইয়াকুতরা নিজেরাই বিশ্বাস করে যে সবচেয়ে শীতলতম শহরের উপাধি ভার্খোয়ানস্কের অন্তর্গত, তবে বিশ্ব বিজ্ঞানীরা তাদের সঙ্গে তর্ক করতে প্রস্তুত, এবং ওমায়াকন সম্পর্কে তাদের মতামত থেকে বিচ্যুত হন না।
জানুয়ারিতে, ভার্খোয়ানস্কে তাপমাত্রা ওয়ামিয়াকনে নূন্যতমের চেয়ে তিন ডিগ্রি নীচে নেমে আসে, তবে, গড় বার্ষিক তাপমাত্রার বিচার করে, পরবর্তী সময়ে এটি ০.০ ডিগ্রি কম, সুতরাং আধ্যাত্মিকতার ডানটি এখনও তার কাছে রয়েছে।
নরক, যার অর্থ 'নরক', এর নাম এবং সুবার্টিক তাপমাত্রার খুব সফল সংমিশ্রণের জন্য নরওয়েতে বিখ্যাত। ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে গড় তাপমাত্রা ছিল প্রায় ২০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (-৬.৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড)। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, এই শহরে পর্যটকদের প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, প্রধানত রেলওয়ে স্টেশনের লক্ষণগুলির একটিতে ছবি তোলার জন্য।ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত গড়ে বছরের এক তৃতীয়াংশের জন্য জাহান্নাম হিম হয়ে যায়।
ব্যারো আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরের শহর এবং এটি উত্তর মেরু থেকে মাত্র ২,১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং আর্টিক সার্কেলের উত্তরে ৫১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। চার হাজার ৫৮১ জনের ছোট্ট শহরটি পারমাফ্রস্টের এমন একটি অঞ্চলে নির্মিত হয়েছিল যা নির্দিষ্ট সময়ে পর্যবসিত এবং খুব কঠোর শীতের দ্বারা চিহ্নিত ছিল।
নভেম্বর শেষে সূর্য অস্ত যায় এবং জানুয়ারী শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রদর্শিত হয় না। এমনকি গ্রীষ্মের দিনগুলিতেও বাতাস খুব শীতল থাকে। গড় তাপমাত্রা জুন পর্যন্ত বৃদ্ধি পায় না এবং তারপরেও খুব কমই - গড় হিসাবে জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ৪০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪.৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) থাকে।





Post a Comment