Odd বাংলা ডেস্ক: ভুত বলতে পৃথিবীতে কিছু নেই। এমন বিশ্বাস আছে অনেকের মনে, তারপরও সুযোগ পেলে লোকমুখে প্রচার হওয়া ভুতের বাড়ি বা স্থানে গিয়ে একবার স্বচক্ষে দেখে আসেন। আপনি বিশ্বাস করুন বা না করুন। শরীর হিম করা ভয়ের সিনেমা বা গল্প শুনতে ভালোই লাগে। সারাবিশ্বে এমন অনেক স্থান রয়েছে যেখানে ভুতের আনাগোনা আছে বলে প্রচলিত।
কিছু কিছু বাড়ি তো পরিচিতই ভুতের বাড়ি নামে। আমাদের দেশের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে এমনই বহু ভুতুড়ে জায়গা। আর সেই জায়গাগুলো নিয়ে নানা ভয়ের গল্প। এমনই এক জায়গা কলকাতার পুতুল বাড়ি। আহরিটোলার বিশাল রোমান স্থাপত্যের নির্দশন এই পুতুলবাড়ি। এই বাড়ির উপরের তলায় নাকি ঘুরে বেড়ায় অতৃপ্ত পেত্নীরা। পুতুলরূপী নারীদের অতৃপ্ত আত্মা ঘুরে বেড়ায় এ বাড়ির আনাচে-কানাচে। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই বাড়ি নিয়ে রয়েছে নানান কল্পগাঁথা।
এমনই ভারতের আরো কিছু ভুতুরে স্থান এবং বাড়ি নিয়ে আমাদের ডেইলি বাংলাদেশের আজকের আয়োজন। ইচ্ছা হলে বন্ধুদের নিয়ে কিংবা আপনার দস্যিপনার সঙ্গীকে নিয়ে হাজির হয়ে যেতে পারেন ঠিকানা অনুযায়ী। চলুন জেনে নেয়া যাক সেসব স্থানের পেছনের গল্পগুলো-
কুলধারা গ্রাম, রাজস্থান
ভারতের রাজস্থানেই রাতের অন্ধকারে উধাও হয়ে যায় গ্রামবাসী। যাদের খোঁজ আজ ২০০ বছরেও পাওয়া যায়নি। অনেকেই ভাবতে পারেন হয়তো কোথাও গিয়ে বসতি স্থাপন করেছে তারা। তবে আগেই বলে রাখি সঙ্গে তারা নেননি কোনো কিছুই। না কোনো আসবাবপত্র, না কোনো মূল্যবান কোনো কিছু। এমনকি সেদিনের রান্না করা খাবারও পাওয়া গেছিল জায়গামতোই।
রাজার কাছ থেকে কুমারী মেয়েদের বাচাতেই নাকি এই গ্রামের মানুষ চলেগিয়েছিলেন। বিভিন্ন লোকগাথা থেকে জানা যায়, অশ্রুসজল চোখে কুলধারা ছাড়ার আগে গ্রামবাসীরা অভিশাপ দিয়ে গিয়েছিলেন। কেউ কোনোদিন কুলধারা গ্রামে বসবাস করতে পারবে না। কেউ জোর করে তাদের সম্পদ দখল করলেও প্রাণে বাঁচবে না। তাই আজও কুলধারা পরিত্যক্ত। স্থানীয় মানুষরা গল্প করতে করতে পর্যটকদের জানান এসব কথা। তবে এসবই তাদের মুখে মুখে শোনা গল্প। পরবর্তীকালে যারাই পরিত্যক্ত কুলধারায় বসবাস করতে গিয়েছেন, কোনো না কোনো দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন তারা। প্রাণ ও হারিয়েছেন অনেকে। যারা প্রাণে বেঁচেছেন তারা জীবন নিয়ে ছেড়েছেন কুলধারা।
ভানগড় কেল্লা, রাজস্থান
ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগও রাতে এখানে যাওয়ার অনুমতি দেয় না। কেউ এখানে রাতে গেলে, আর নাকি ফিরে আসেন না। কথিত আছে, এক সাধু এই কেল্লার রাজকন্যার প্রেমে পড়েন। তাকে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়। তার আত্মা আজও ঘুরে বেড়ায় এখানে।
ডি’সুজা চল, মুম্বই, মহারাষ্ট্র
এখানে এক নারী এই এলাকার একটি পাতকুয়োয় পড়ে মারা গিয়েছিলেন। এখনও নাকি রাতে তার আত্মা এখানে আসে বলে অনেকের বিশ্বাস।
অগ্রসেন কি বাওলি, দিল্লি
পর্যটকদের অনেকে বলেন, এখানে গেলেই নাকি অস্বস্তিকর একটা অনুভূতি হয়। কে যেন অনুসরণ করে সব সময়।
লম্বি দেহার খনি, উত্তরাখণ্ড
এক সময়ে এই খনিতে কাজ করতেন প্রচুর শ্রমিক। দুর্ঘটনায় তাদের অনেকে মারা যান। স্থানীয় বিশ্বাস, আজও তাঁদের কণ্ঠস্বর শোনা যায় এখানে।
জাতিঙ্গা, অসম
দলে দলে পাখি আকাশ থেকে মৃত অবস্থায় ঝরে পড়ে এখানে। কারণ এখনও পরিষ্কার নয়। স্থানীয় বিশ্বাস, এর পিছনে রয়েছে ভুতুড়ে কোনও প্রভাব।
দুমা সৈকত, গুজরাট
এক সময়ে শ্মশান হিসেবে ব্যবহৃত হতো এই সমুদ্র সৈকত। এখন হয় না। কিন্তু সেই মৃতদের আত্মারা এখনও এখানে ঘুরে বেড়ায় বলে বিশ্বাস করেন অনেকে।
ডাউহিল, কার্শিয়াং, পশ্চিমবঙ্গ
এখানকার দু’টি স্কুল এবং তার চারপাশের এলাকায় প্রচুর অভিশপ্ত আত্মার বাস বলে অনেকে বিশ্বাস করেন। রাত হলেই তারা নাকি বেরিয়ে আসে।
বম্বে হাই কোর্ট, মুম্বই, মহারাষ্ট্র
প্রচুর মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হয়েছে এই আদালতে। স্থানীয় অনেকের বিশ্বাস, দণ্ডপ্রাপ্ত অনেকের আত্মা আজও রয়ে গিয়েছে আদালত চত্বরে।
রামোজি ফিল্ম সিটি, তেলেঙ্গানা
শোনা যায়, এই এলাকাটির নীচে চাপা পড়ে রয়েছে সুলতানি আমলের সেনাদের মৃতদেহ। মাঝে মধ্যেই নাকি কারণ ছাড়া আলো নিভে যায়, আয়না ভেঙে যায় এই ফিল্ম সিটিতে। অনেকের বিশ্বাস, তার পিছনে রয়েছে ভুতুড়ে প্রভাব।





Post a Comment