মেক আপ করেন? আপনার মেক আপ কিটেই হারিয়ে যাচ্ছে ওদের শৈশব


Odd বাংলা ডেস্ক: মেক আপ। বিয়ে বাড়ি, পার্টি, কলেজ ফেস্ট, মেক আপের চাহিদা তুঙ্গে। কিন্তু জানেন কি আপনার মেক আপ কিটেই লুকিয়ে কারও হারিয়ে যাওয়া শৈশব আবার কারও মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসা রক্ত। খনির নিচে চাপা পড়া অনেক শিশুর গল্পই আজও মিডিয়ার অন্ধকার গলিতেই রয়ে গিয়েছে। ওরা অভ্র শ্রমিক।

ঠিকাদারের কাছে এক ঝুড়ি অভ্র দিতে পারলে ওরা পাবে ৩০ টাকা

মেক আপের যে জিনিস আপনারা বাজার থেকে কেনেন তার মূল উপাদানটি হল অভ্র বা ইংরাজিতে যেটাকে বলা হয় সিমার। কিন্তু আপনি কি জানেন এই অভ্র উৎপাদন কীভাবে হয়? কোথা থেকে আসে এই অভ্র? গোটা পৃথিবী জুড়ে যে বিউটি প্রোডাক্ট পাওয়া যায় তার ৭০ শতাংশ তৈরি হয় খনি থেকে উৎপাদিত অভ্র দিয়ে। আর এই অভ্র উৎপাদনের নিয়মটাও খুব অদ্ভুত। পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি অভ্র উৎপাদন হয় ভারতে। এবং ভারতের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অভ্র উত্তোলন করে ঝাড়খন্ড রাজ্য। যার বেশিরভাগটাই শিশুশ্রমিকের দ্বারা করানো হয়। বাচ্চারা খুব সহজে মাটির তলে ঢুকে যেতে পারে। ছোট ফুটো দিয়েও গলে যেতে পারে তারা। তাই তাদেরকেই ব্যবহার করা হয় এই কাজে। ভাবুন একবিংশ শতকে দাঁড়িয়ে ভারতের বুকেই কীভাবে শিশুশ্রম চলছে।     
কিছু কোম্পানি আছে যারা প্রাকৃতিক অভ্র ব্যবহার কমিয়ে বর্তমানে সিন্থেটিক অভ্র ব্যবহার করছে। কিন্তু সেটার পরিমান খুবই কম। 

কোম্পানি                             প্রাকৃতিক  অভ্র ব্যবহার 

ল্যাকমে                                ৬৫%
ক্রাইলন                                ৭৩ %
ম্যাক                                     ৭৬ %

এছাড়ও ভারতীয় কোম্পানি আছে যারা সঠিক পরিমানটা বিউটি প্রোডাক্টের ওপর উল্লেখ করে না। আর এই চাহিদার কারণেই সস্তায় শিশুদের দিয়েই করানো হচ্ছে শ্রমিকের কাজ। স্কুল ছেড়ে ওরা তৈরি হচ্ছে অভ্র শ্রমিক।      


কয়েক বছর আগে ‘তেরে দেশ হোমস’ নামে ভারতে কাজ করা এক আন্তর্জাতিক সংস্থা একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। যেখানে বলা হয়েছিল, ২২ হাজারেরও বেশি শিশু ঝাড়খণ্ড ও বিহারের খনি এলাকায় শিশুশ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। যা নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। যেখানে শিশুশ্রম আইনত নিষিদ্ধ, যেখানে শুধুমাত্র দু’টি রাজ্যের কয়েকটি জেলাতেই এত বিপুল সংখ্যক শিশু পেটের দায়ে কাজ করছে! বেসরকারি সংস্থার সেই রিপোর্ট পেয়ে নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র। খতিয়ে দেখতে ময়দানে নামে এনসিপিসিআর। তাদের সেই সমীক্ষায় উঠে আসে, অভ্র খনি এলাকার একটা বড় অংশের বহু শিশু সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং পেটের তাগিদে সেখানে শিশুশ্রমিক হিসেবে কাজ করছে।


রাণী একজন অভ্র শ্রমিক, খনিতে কাজ করতে গিয়ে তার ওপর দেওয়াল চাপা পড়ে গিয়েছিল


ঝাড়খণ্ডের কোডার্মা ও গিরিডি এবং বিহারের নওয়াদা জেলাজুড়ে সেই সমীক্ষা চালিয়েছিল মোদি সরকার। এনসিপিসিআরের সেই রিপোর্টে উঠে এসেছে, ‘ঝাড়খণ্ডের ওই সমস্ত এলাকায় ছয় থেকে ১৪ বছর বয়সি ৪ হাজার ৫৪৫ শিশু স্কুলে যায় না।’ একইভাবে অভ্র খনি এলাকার নওয়াদা জেলার ৬৪৯ জন শিশু স্কুলে যায় না। স্কুল না যাওয়ার পিছনে অনিচ্ছা, আকাঙ্ক্ষার অভাব এবং খনি এলাকা থেকে অভ্রের টুকরো সংগ্রহের কারণ উঠে এসেছে রিপোর্টে।



অভ্র শ্রমিকরা যেভাবে কাজ করে

এছাড়া কোডার্মার ওই বয়সি ৪৫ জন, গিরিডির ৪০ জন এবং নওয়াদার ১৫জন শিশু অভ্র খনিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। এই সমীক্ষার পর আধিকারিকরা জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার বহু পরিবারের একমাত্র রুটি-রুজি হল অভ্রের টুকরো সংগ্রহ করা। আর তাই বহু পরিবার মনে করে সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর থেকে অভ্র সংগ্রহ এবং বিক্রি করার কাজে পাঠানো ঢের ভালো। কারণ, সেক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’মুঠো ভাত জুটবে। প্রসঙ্গত, বিশ্বের বৃহত্তম অভ্র উৎপাদক দেশ হল ভারত। এবং ঝাড়খণ্ড ও বিহার থেকে দেশের সর্বোচ্চ অভ্র উত্তোলন হয়।
Blogger দ্বারা পরিচালিত.