অপূর্ব সুন্দর নীলকণ্ঠ: বসলে বাদামি, উড়লে নীল!

Odd বাংলা ডেস্ক: নীলকণ্ঠ পাখিকে ইংরেজিতে ইন্ডিয়ান রোলার বলা হয়। ২৫ সেমি. থেকে ৩৫ সেমি. লেজ সমেত। ওজন ৭০ গ্রাম থেকে ১০০ গ্রাম হয়। গায়ে রঙের ছড়াছড়ি, তার মধ্যে নীল রংই বেশি। দেখতেও চমৎকার নীলকণ্ঠ। কীট পতঙ্গ খেয়ে ফসলের উপকারও করে এই পাখি। বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭ প্রজাতির নীলকন্ঠ রয়েছে। সৌন্দর্য্য বিবেচনায় ইউরোপীয় নীলকন্ঠ সেরা। 

নীলকণ্ঠের বক্ষের রং বাদামি। শরীরের চেয়ে মাথা একটু বড় এবং ঘাড় খাটো। চোখ ও ঠোঁট কালো। ডানার উপরিভাগ গাঢ় নীল। ডানার প্রান্তভাগ নীলচে সবুজ। গলার নীচ থেকে বুক এবং ঘাড় বরাবর সাদাটে রেখা রয়েছে। লেজও অপেক্ষাকৃত বড়। লেজের প্রান্তভাগ নীলচে। পায়ে তীক্ষ্ণ শক্ত বাঁকানো নখ আছে।

এই পাখি বৈদ্যুতিক তার, খুঁটি, দালানের কার্নিশে বসে শিকারের ওপর নজর রাখে এবং সুযোগ বুঝে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নীলকণ্ঠ কীটপতঙ্গ, গিরগিটি, টিকটিকি খেয়ে জীবন ধারণ করে থাকে। তবে কখনো কখনো বড় ফুলের মধুও খেয়ে থাকে। 

ক্র্যাক ক্র্যাক শব্দ করে পুরুষ নীলকণ্ঠ আকাশের দিকে উড়ে আবার ডানা গুটিয়ে মরার মত নীচে পড়ে। তবে এদের মধ্যে স্ত্রীর প্রতি মায়া মমতা বেশি। শিকার ধরে স্ত্রী পাখিকে খাইয়ে দেয়। 

পাহাড়, টিলা এবং গাছের গর্তে সামান্য খড়কুটো দিয়ে বাসা তৈরি করে তারা। স্ত্রী পাখি ৩ থেকে ৪টি ডিম দেয়। বাচ্চা ফোটাতে ২৪ থেকে ২৮ দিনের মত সময় লাগে। এভাবেই বছরে দুই বার বাচ্চা ফোটায় তারা। বাচ্চা হওয়ার সময় পুরুষ পাখিরা আনন্দে বিভিন্ন ভঙ্গিতে পাখা ঝাঁপটায় এবং নাচানাচি করে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.