EXCLUSIVE: ধর্ষণ 0%, অবৈধ যৌনসম্পর্ক 0%, ভারতের এই আদিবাসীরা করে দেখিয়েছে এই অসাধ্য সাধন

অয়নাংশু পাল: অবাক হলেও সত্যি। খবরের কাগজ বা টিভিতে আমরা যখন প্রতিনিয়ত নির্ভয়া বা হাথরাসের মতো ঘটনা দেখে থাকি। কিন্তু জানেন কি? ভারতবর্ষে এমন একটা জনজাতি আছে যাদের ওপর এখনও পর্যন্ত কখনও কোনো যৌন অপরাধের অভিযোগ ওঠেনি। বাইসান-হর্ন মারিয়া ছত্রিশগড়ের একটি আদিবাসী সমাজ ।এখানকার মানুষ হয়তো তথাকথিত সভ্য সমাজের অংশ নয়, কিন্তু যৌনতা বিষয়ক ছুৎমার্গ এই সমাজের একেবারেই নেই বললেই চলে।

 জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষ মহিলাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেয় এই আদিবাসীরা ।কেউ কারো সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়লেই বা কারো বিবাহবিচ্ছেদ হলেই আমরা তাদের সম্বন্ধে কুরুচিকর আলোচনায় মেতে উঠি আমরা ।মুচমুচে গল্প ও ব্যক্তি আক্রমণ এর সমস্ত সীমানা ছাড়িয়ে যায় মাঝেমধ্যে। কিন্তু এই সমাজে এগুলো অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার।

কোন মহিলার বক্ষ যুগল দেখা গেলে তা আজকাল খবরের শিরোনাম হয়ে যায় ।কিন্তু এই সমাজে মহিলারা স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে পারেন ।

বিবাহের আগে যদি কেউ সন্তান ধারণ করে ফেলে তাদের নিয়ে কুৎসা ছড়াতে আমরা পিছপা হইনা। মারিয়া সমাজ কিন্তু এসবের অনেক ঊর্ধ্বে ।ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বহু বছর আগের বিধবা বিবাহ প্রচলন করে গেলেও এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা বিধবাদের বিয়ে দেওয়ার  ক্ষেত্রে এখনো নাক কুঁচকাই। বিস্ময়কর হলেও তথ্য বলছে এখানকার সমাজের শাশুড়িরাই বৌমার জন্য উপযুক্ত পাত্র খুঁজে দেন। 

এই জনজাতি নিয়ে গবেষণা করা অনেক প্রত্নতাত্ত্বিকের মতে ডি মারিয়া জনজাতির পূর্বপুরুষেরা ভাবনা, ধ্যানধারণাসত্যি সময়ের থেকে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন। এই প্রগতিশীলতার নিদর্শন এর জন্য জন্যই যৌনতা সংক্রান্ত অন্যায় অবিচার অবিচার শারীরিক নিগ্রহ এইসব এই সমাজে জায়গা পায়না। এমনকি বাইরের সমাজের থেকে এসে তাদেরকে কেউ এই সমস্ত প্রশ্ন জিজ্ঞেস করলে তারা বিব্রতবোধ করে।

 আজও দেশের অনেক আধুনিকতার মোড়কে তথাকথিত শিক্ষিত মানুষ যখন যৌনতা বা বিশেষ করে মহিলারা সংক্রান্ত বিষয়ে রক্ষণশীল তখন ছত্রিশগড়ে মারিয়া জনজাতি ব্যতিক্রমী উদাহরণ সৃষ্টি করেছে তা বলাই বাহুল্য এবং তা অবশ্যই শিক্ষনীয়।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.