শিলিগুড়িতে শান্তিতেই কাটল পুজো, তবে নজর কেড়েছে মহিলা বাহিনী ‘তেজস্বিনী’

 


ODD বাংলা ডেস্ক: সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শান্তিতেই কাটল পুজো। কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া শিলিগুড়িতে পুজোয় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছেন শিলিগুড়ি পুলিস কমিশনার গৌরব শর্মা। প্রতিদিনই সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত দলে দলে মানুষ শহরের মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেছেন। শহরের বাইরে থেকেও বহু মানুষ এসেছিল পুজো দেখতে। তবে বিভিন্ন পুজো কমিটির আকর্ষণীয় মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমার পাশাপাশি এবার শহরবাসীর নজর আলাদা করে কেড়েছে শিলিগুড়ি পুলিস কমিশনারেটের মহিলা বাহিনী ‘তেজস্বিনী’। 

পুজো দেখতে বেরিয়ে নারী নির্যাতন ও হয়রানি তথা ইভটিজিংয়ের ঘটনা রুখতে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মহিলা পুলিস নিয়ে এবার এই বাহিনী তৈরি করে শিলিগুড়ি পুলিস কমিশনারেট। স্কুটিতে করে সন্ধ্যা থেকে সারারাত শহর ও শহর ছাড়িয়ে বাগডোগরা পর্যন্ত  প্রতিটি পুজো মণ্ডপে ঘুরে বেরিয়েছে এই বিশেষ মহিলা পুলিস বাহিনী। সকলের  কালো পোশাক, ফুল হেলমেট ও ফ্ল্যাশার লাগানো স্কুটি নিয়ে এই ‘তেজস্বিনী’ বাহিনী শহরজুড়ে নজরদারি চালিয়েছে। যাতে কোথাও ইভটিজিং না হয় বা পুজো দেখতে বেরিয়ে মহিলাদের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার মুখে পড়তে না হয়। সেই লক্ষ্যে শিলিগুড়ি পুলিস কমিশনারেট সফল। কেননা পুলিস কমিশনারেট সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার শিলিগুড়িতে পুজোর দিনগুলিতে কোনও হিংসাত্মক ঘটনা যেমন ঘটেনি, সেরকম ইভটিজিং বা মহিলাদের হেনস্তা করা ও ছিনতাইয়ের কোনও অভিযোগ নেই। 

এবারের পুজোর প্রথম থেকেই করোনা সংক্রমণ নিয়ে মানুষকে বিশেষভাবে সচেতন ও সতর্ক করা হয়েছিল। মানুষের মনেও আতঙ্ক ছিল করোনার সম্ভাব্য তৃতীয় ঢেউ নিয়ে। কিন্তু পুজোর দিনগুলিতে বিকেল থেকেই শহরের মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা দেখতে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। সব আতঙ্ককে সরিয়ে রেখে শিলিগুড়ির পুজোয় এবার রাস্তায় মানুষের ভিড় বেড়েছে রাত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে। 

শহরে অবৈধ টোটো চলাচল নিষিদ্ধ করা হলেও এবার পুজোর দিনগুলিতে দলে দলে মানুষ এই অবৈধ টোটো করেই মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরেছেন প্রতিমা দেখার জন্য। এই টোটোর দৌরাত্ম্যে বিভিন্ন জায়গায় ট্রাফিক সমস্যা জটিল আকার নিয়েছে। করোনার কারণে এবারও প্রত্যেকটি পুজো কমিটি সংক্ষিপ্ত আয়োজনে পুজো করেছে। সেই সংক্ষিপ্ত আয়োজনেও অনেক পুজো কমিটি সকলের নজররকাড়ার জন্য সাধ্যমতো চমক দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে প্রায় সকলেই মণ্ডপসজ্জায় করোনাকে নানা ভাবনায় ব্যবহার করেছে। আর এই পুজোগুলি দেখার জন্য দর্শনার্থীর ঢল প্রতিদিনই ছিল। চমকের এই প্রতিযোগিতায় নজর কেড়েছে স্বস্তিকা যুবক সংঘ, সঙ্ঘশ্রী, রবীন্দ্র সংঘ, রথখোলা নবীন সংঘ, শক্তিগড়ের শৈলেন্দ্র স্মৃতি পাঠাগার, এনজেপি সেন্ট্রাল কলোনি, হায়দরপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব, রথখোলা স্পোর্টিং ক্লাব, মাটিগাড়া মায়াদেবী ক্লাবের পুজো। 

পুজো শেষ হতেই শুক্রবার দশমীতে শুরু হয়েছে প্রতিমা বিসর্জন। শহরের মহানন্দার লালমোহন মৌলিক নিরঞ্জন ঘাট ও নৌকাঘাটে বিসর্জনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। শুক্রবার প্রতিমা নিরঞ্জনের প্রথম দিনে শিলিগুড়ি পুরসভা এলাকার ২৪৮টি প্রতিমা মহানন্দার লালমোহন মৌলিক ঘাটে বিসর্জন হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই শুরু হয়েছে বাকি পুজো কমিটিগুলির প্রতিমা নিরঞ্জন। 

করোনা বিধি মেনে সবকিছু শান্তপূর্ণভাবে চললেও এদিন লালমোহন মৌলিক নিরঞ্জন ঘাটে ছিনতাইয়ের চেষ্টা করতে গিয়ে তেজস্বিনী বাহিনীর হাতে এক যুবক ধরা পড়ে। এর পাশাপাশি ডিজে বাজিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হলেও এদিন একটি পুজো কমিটি ডিজে বাজিয়ে প্রতিমা নিরঞ্জন করতে রাস্তায় বেরিয়েছিল। সিভিক ভলান্টিয়াররা নিয়মমতো তা প্রতিরোধ করে। এতে পুজো কমিটির সঙ্গে তাদের বচসা এবং তা থেকে ধস্তাধস্তি হয়। পরে পুলিসের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.