কাঠের অদ্ভুত বাড়ি, উচ্চতায় যার বিশ্ব রেকর্ড!
ODD বাংলা ডেস্ক: অনেকের পছন্দের বাড়ি কাঠের বাড়ি। খুব কম খরচে জাঁকজমকপূর্ণভাবে এই বাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব। এমনকি কাঠ বলে অনেকেই মনে করেন, খুব একটা টেকসই হবে না এই ধরণের বাড়ি। কিন্তু এই ধারণা পুরোটা ভুল। ভালো কাঠ দিয়ে বাড়ি নির্মাণ করলে যুগ যুগ ধরে তাতে বসবাস করা সম্ভব।
পাহাড়ি অঞ্চল, শীত প্রধান অঞ্চল, দক্ষিণ এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্নস্থানে কাঠের নানা রকমের বাড়ি দেখা যায়। বিশেষ করে নেপাল ও মায়ানমারে এই ধরণের বাড়ির সংখ্যা অনেক বেশি।
তবে এই বাড়িগুলোর একটি বৈশিষ্ট্য, এটি সাইজে ছোট ছোট কক্ষের সমন্বয়ে এক তলা, দ্বিতলা, তিন তলা বিশিষ্ট হয়ে থাকে। কাঠের ঘরের সঙ্গে আমরা কম বেশি সকলেই পরিচিত। এই ধরণের বাড়ি শত হাজার কারুকার্য বা বাহারি বিচিত্র ঢং নিয়ে ঐতিহ্যের প্রমত্যভাবে বয়ে চলছে। অনেক সময় আধুনিকতার একটু ছোঁয়ায় এ কাঠের বাড়ি হয়ে ওঠে সৌন্দর্যের এক অন্যান্য নির্দশন।
তবে কাঠের বাড়ি বা ঘরের উচ্চতা আমরা যতটুকু দেখেছে বা জানি; এতেই বুঝা যায়, হয়ত এর উপরে গেলে টেকসই বাড়ি নির্মাণ সম্ভব নয়। যার ফলে তিন তলা বা সর্বোচ্চ চার তলার বেশি হয় না এই বাড়ি। যদি হয় ১৮ তলা! তাহলে নিশ্চিত আমাদের চোখ কপালে উঠবে।
এবার ১৮ তলা বাড়ির দেখা মিলেছে নরওয়েতে। যেটা সম্পূর্ণ তৈরি কাঠ দিয়ে। পরিবেশবান্ধব নির্মাণ পদ্ধতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে আধুনিক বহুতল এই কাঠের বাড়ি। মিয়োসা হ্রদের তীরে ১৮ তলা কাঠের এ বাড়িটির উচ্চতা ৮৫ মিটার।
আশ্চর্যের বিষয় হলেও এটা একটি নতুন রেকর্ড, নরওয়ের এই বাড়িটির মতো পুরো পৃথিবীর অন্য কোথাও এমন কোন বাড়ি নেই। এই বাড়ির প্রকল্পটি স্থানীয় আবাসন ব্যবসায়ী আর্তুর বুর্খাটের দীর্ঘদিনের স্বপ্নে নির্মিত হয়েছে। কংক্রিট ও ইস্পাতের বাড়ি নির্মাণের চেয়ে এই বাড়ি নির্মাণে কার্বন কম নির্গমন হয়েছে। এমনকি ইস্পাত ও কংক্রিটের তুলনায় এই ভবন ৬০ শতাংশ কম সিওটু নির্গমন করে৷ কাঠ দিয়ে অনেক কিছু নির্মাণ করা যায়। এমন জটিল ও বহুতল ভবনও নির্মাণ করা সম্ভব এই কাঠ দিয়ে। এমনটি ধারণা আগে থেকে দিয়েছিলেন প্রকল্প প্রধান আর্তুর বুর্খাটে।
তবে বাড়িটির বাসিন্দারা থেকেও বেশ মজা পাচ্ছেন এতে। এই প্রসঙ্গে বাড়িটির বাসিন্দা লাইফ আটলে ভিকেন বলেন, কাঠের ঘরে থাকার মজাই আলাদা। যা এই বাড়িতে এসে বুঝতে পেরেছি। এই ঘরের চারপাশে কাঠের সংস্পর্শ রয়েছে। কাঠের উষ্ণ তাপমাত্রায় বিশেষ এক অনুভূতির মধ্যে এখানে বসবাস করা যায়। এছাড়াও কাঠের ঘরে থাকলে মনে হয় যেন ঘরটা জীবন্ত। অন্যদিকে কংক্রিটের ঘরে থাকলে জড়বস্তু মনে হয় বলেও মন্তব্য করেন বাড়ির অন্য এক বাসিন্দা।
মূলত এই বাড়িটি কনক্রিটের বাড়িগুলোর মত টেকসই। এতে বহু বছরের মৌলিক গবেষণার মাধ্যমে ভবনটিকে তীব্র বাতাস ও চরম আবহাওয়ার ধাক্কা থেকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ কাঠ দিয়ে নির্মাণে পারদর্শী একটি কোম্পানি বাড়িটি ডিজাইন করেছেন, তারাই জানিয়েছেন এমন তথ্য।
এই বাড়ি প্রসঙ্গে প্রকল্পের সমন্বয়ক ও্যস্টেন এলিগসাস বলেন, এ কাজটা আমাদের জন্য পুরোপুরি নতুন ছিল। তবে কঠোর পরিশ্রম ও র্নিঘুম রাত কাটানোর পর আমরা এটি নির্মাণ করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের চেষ্টা সার্থক হয়েছে। এত উঁচু ভবন তার উপর সব হালকা উপকরণ, এটা আমাদের জন্য দারুণ সমস্যা ছিল। উপরন্তু উপত্যাকায় ধমকা হওয়ার জোড়াজুড়িতে ভবনটি হেলে পড়ার ভয়ও ছিল। তবে সব আশংকা কাটিয়ে আমরা বাড়িটি নির্মাণে সক্ষম হয়েছি। এছাড়া এই কাঠের ভবনের ভর সামলাতে ভবনের স্তম্ভগুলোকে মাটির অনেক গভীরে বসানো হয়েছে।
এমনকি এই বাড়িতে অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থাও বড় বিষয় ছিল৷ এতে মোটা কাঠের স্তম্ভগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, যা ইস্পাতের তুলনায় আরো বেশিক্ষণ আগুনের শিখা সামলাতে পারবে৷ কাঠ দিয়ে নির্মাণের ক্ষেত্রে এটাও বড় সুবিধা৷ হোটেল ও সম্মেলন কক্ষে রয়েছে কাঠের বহুতল ভবন। এই কাঠের ব্যতিক্রমী মিয়োসা টাওয়ারকে ভবিষ্যতের ফ্ল্যাটবাড়ির ভালো দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে৷ এছাড়া এই বাড়িটি পরিবেশবান্ধব নির্মাণের প্রতীক মনে করছেন প্রকল্প সমন্বয়ক।





Post a Comment