বুদ্ধিদীপ্ত শিকারে সুদক্ষ মাছরাঙা

 


ODD বাংলা ডেস্ক: পুকুর কিংবা জলাশয়ের পাশে ওরা চুপটি করে বসে। একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে শিকারের অপেক্ষায়। ছো মেরে ধরে ছোট মাছ। এরপর উরে চলে যায় ‍দূরে কোথাও। গ্রামবাংলায় সুন্দর মাছরাঙার বুদ্ধিদীপ্ত এমন শিকারের দৃশ্য হয়ত অনেকেই দেখেছেন। 

নদীমাতৃক এই দেশের অতি পরিচিত একটি পাখি মাছরাঙ্গা। আমাদের দেশের নদী, পুকুর, বিল অথবা ডোবার আশেপাশে মাছরাঙা বেশি দেখা যায়। মাছরাঙ্গা Alcedo গোত্রীয় এবং Alcedininae পরিবারের অন্তর্গত ১৬ থেকে ১৮ সেমি দৈর্ঘ্য ও ২৫ থেকে ২৭ গ্রাম ওজনের একটি তুখোর মাছ শিকারী পাখি। 


জলের নিচের শিকার দেখার জন্য মাছরাঙার চোখ বিশেষভাবে অভিযোজিত। এ বিশেষ ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে মাছের অবস্থান টের পায় ওরা। টার্গেট নেওয়া মাছের দিকে তীব্র গতিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। মাছ কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাছরাঙা তাকে ধরে ফেলে। জলের দিকে যখন শিকারের আশায় চুপ করে বসে থাকে, তখন দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন শিল্পীর ক্যানভাসে আঁকা কোনো চিত্রকর্ম।


পৃথিবীতে প্রায় ৯০ প্রজাতির মাছরাঙা দেখা যায়। এর মধ্যে বাংলাদেশে প্রায় ১২ প্রজাতির মাছরাঙার অস্তিত্ব রয়েছে। যেমন- ছোট নীল মাছরাঙা, সাদা বুক মাছরাঙা, লাল মাছরাঙা, ছিট বা পাকড়া মাছরাঙা, মেঘ হও মাছরাঙা, সবুজ মাছরাঙা, কালো মাছরাঙা, বাদামি মাছরাঙা, দারুচিনি মাছরাঙা, নীল কানের মাছরাঙা, সাদাগলা মাছরাঙা, বুনো মাছরাঙা।


প্রাপ্তবয়স্ক পাখির পিঠ ঘন নীল ও দেহের নিচ গাঢ় কমলা রঙের। গালের চারপাশ, ঘাড় ও ডানা বেগুনি-নীল। গলা ও ঘাড়ের পাশে সাদা পালক দেখা যায়। কান উজ্জ্বল নীল রঙের। চোখ বাদামি। পা, পায়ের পাতা ও নখ কমলা রঙের। ঠোঁট দুই বর্ণের। উপরের অংশ কালো ও নিচের অংশ মুখসহ বাদামি-কমলা। ছেলে ও মেয়ে পাখির চেহারায় ভিন্নতা রয়েছে। 


পাহাড়ি নদী, প্রশস্ত পাতার চিরসবুজ বন, জোয়ার-ভাটায় সিক্ত খাল ও সুন্দরবনে বিচরণ করে। সাধারণত একা বা জোড়ায় থাকে। এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে মাছ ও জলজ পোকামাকড়। মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত এদের প্রজনন মৌসুম। এরা নদীর তীরে গর্ত খুঁড়ে, কিংবা গাছের পচা-গুড়ির ফোকরে প্রজননকালে বাসা বানায়। নিজেদের বানানো বাসায় মেয়ে পাখিটা ছয় থেকে আটটি ডিম পাড়ে।


মাছরাঙা বাংলাদেশের আবাসিক পাখি। এ দেশের বিভিন্ন জাতের মাছরাঙা ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, চীন ও ফিলিপাইনসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতি সংরক্ষিত।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.