রানী অলিম্পিয়াস কি সত্যিই রাতে সাপ নিয়ে ঘুমাতেন

 


ODD বাংলা ডেস্ক: এই পৃথিবীর সবচেয়ে মহৎ কিংবা নিকৃষ্ট কাজের পেছনে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো মহীয়সী বা ধ্বংসকারী নারী জড়িত থাকেন। ইতিহাসের গ্যাঁড়াকলে হয়তো তারা সামনে আসেন না। যেমন আলেকজান্ডারের পেছনের মানুষটি ছিলেন তার মা অলিম্পিয়াস। তার অনুমতি ছাড়া কোনো কাজই করতেন না দিগবিজয়ী বীর আলেকজান্ডার। কাগজে-কলমে আলেকজান্ডারের বাবা বহু স্ত্রীর অধিকারী রাজা ফিলিপ হলেও অলিম্পিয়াস তা কখনোই স্বীকার করেননি। বছরের পর বছর পুত্র আলেকজান্ডারকে তিনি বুঝিয়েছেন যে, সে দেবতা জিউসের সন্তান।


অলিম্পিয়াস ছিলেন গ্রিসের প্রাচীন উচ্চাভিলাষী এবং হিংস্র শাসক। অলিম্পিয়াসের পিতৃ প্রদত্ত নাম ছিল মার্টেল। এরপর খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫৬ সালের অলিম্পিক গেমসে তার স্বামী ফিলিপের জয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অলিম্পিয়াস নাম ধারণ করেন। তিনি ছিলেন এপিরাসের রাজা নিওপটোলেমাসের কন্যা। দ্বিতীয় ফিলিপের চতুর্থ স্ত্রী। তিনি মেসিডোনিয়াতে শাসন করেছিলেন এবং দ্য গ্রেট আলেকজান্ডারের মা যিনি গ্রিস থেকে উত্তর-পশ্চিম পর্যন্ত সব অঞ্চল জয় করেছিলেন এবং তার সময়ে বৃহত্তর সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অলিম্পিয়াস এপিরাসের রানী ক্লিওপেট্রার মাতাও ছিলেন।


রহস্যময় গুপ্ত একটি দলের অনুসারী হিসেবে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের সাপ সামলানোর আশ্চর্য দক্ষতার জন্য একই সঙ্গে বিখ্যাত এবং ভীতিকর ছিলেন অলিম্পিয়াস। এটাও বিশ্বাস করা হতো যে, অলিম্পিয়াস রাতে সাপ নিয়ে ঘুমাতো। স্কলারদের মতে, তিনি ছিলেন ডায়োনিসাসের কাল্টের সদস্য। যে সংঘটি মদ উর্বরতার কথা উদ্দাম যৌনলিপ্সার মাধ্যমে আধ্যাত্মিক সিদ্ধিলাভের অনুভূতির উপাসনা করে যেতো।


অলিম্পিয়াস ছিলেন খুনে প্রতিহিংসাপরায়ন এবং সাহসী প্রথম নারী, যিনি প্রাচীন গ্রিক রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। ঐতিহাসিক প্রমাণ অনুসারে রানী অলিম্পিয়াস ফিলিপের অন্যান্য মেসিডোনিয়ায় স্ত্রীদের প্রতি খুবই ঈর্ষাপরায়ণ ছিলেন। ফিলিপের বহুগামিতায় এবং অলিম্পিয়াসের সন্দেহ প্রবণতার কারণে তাদের বৈবাহিক জীবন সুখকর ছিল না।


বিষয়গুলো আরও খারাপ হয়ে গিয়েছিলো, যখন ফিলিপ একটি অভিজাত মেসিডোনিয়ান নারিকে বিয়ে করেছিলেন। যিনি ছিলেন অ্যাটলাসের ভাগ্নি। রানী অলিম্পিয়াস তার পুত্রের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা দূরীকরণের জন্য পদক্ষেপ হিসেবে তার সৎ পুত্র অরিডিয়াসকেও বিষ খাইয়েছিলেন। ফিলিপ প্রথম আলেকজান্ডারের সঙ্গে নিজ কন্যা ক্লিওপেট্রার বিয়ের কথা ঘোষণা করেন।


বিবাহের দিন ফিলিপ তার দেহরক্ষী বাহিনীর প্রধানের হাতে খুন হন। খুনের অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অলিম্পিয়াসের ভূমিকা ছিল বলে ঐতিহাসিকগণ মনে করেন। অলিম্পিয়াসের স্বামী ফিলিপ দ্বিতীয় এর মৃত্যুর পরে তিনি তার শেষ স্ত্রী এবং তার শিশু কন্যাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেন। যার কারণে আলেকজান্ডার তার মায়ের উপর ক্ষিপ্ত হন। 


ক্ষমতা এবং প্রতিপত্তি লোভী এই নারী নিজের প্রভাব বজায় রাখতেও আলেকজান্ডারকে সিংহাসনে বসানোর জন্য অনেক রক্ত ঝরিয়েছেন। তবে সে সময়ে তার পরিণতিও সুখকর হয়নি। ক্যাসান্ডারের নির্দেশে খ্রিস্টপূর্ব ৩১৬ সালে মেসিডোনীয় অ্যাসেম্বলিতে তাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়। তবে সৈন্যরা এই সাজা কার্যকর করতে অস্বীকার করেছিল। 


শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যুদণ্ড কীভাবে কার্যকর হয়েছিল তা নিয়ে অবশ্য ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে অলিম্পিয়াসের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের আত্মীয়রা তাকে পাথর মেরে হত্যা করেছিল বলে জানা যায়। এরপর মেসিডোনিয়ার রানীকে যথাযথভাবে দাফন করা হয়েছিল কিনা তাও অবশ্য পণ্ডিতেরা নিশ্চিত হতে পারেন নি। এটিই ছিল গ্রিক ইতিহাসের প্রথম প্রভাবশালী নারীর শেষ পরিণতি।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.