উড়ন্ত গাড়ি: কমাবে যানজট, বাড়াবে গতি
ODD বাংলা ডেস্ক: যদি ভবিষ্যতে এমন হতো যে যাদের গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই, তারা ট্যাক্সিতে উঠেও উড়তে পারবে! নিশ্চয়ই খুব ভালো হতো। হ্যাঁ, এই রকম ট্যাক্সিও বানানো হচ্ছে। জ্যামে অতিষ্ঠ তো আমরা সবাই-ই। পাবলিক পরিবহনে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে উঠি। এমন সময় উড়ন্ত গাড়ি খুবই জরুরি একটা বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো এই উড়ন্ত গাড়িগুলোর নকশা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে দ্রুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়া যায়। বিশেষ করে যানজটের শহরগুলোতে মানুষ যাতে দ্রুত তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
জাপানের স্কাইড্রাইভ কোম্পানির তৈরি এইচডি থ্রি উড়ন্ত গাড়ি ২০২০ সালের আগস্টে জাপানের আকাশে পরীক্ষামূলকভাবে উড়ানো হয়েছে এবং এটি পরীক্ষামূলকভাবে সফল। মাটির থেকে কয়েক ফুট দূরত্বে প্রাথমিকভাবে উড়ানো হয়। টেস্ট ড্রাইভে গাড়িটিকে চার মিনিট শূন্যে ভাসিয়ে রাখা হয়। কোম্পানিটির সিইও জানিয়েছেন, 'এই গাড়িটি তিন বছর পর লঞ্চ করা সম্ভব হবে।' স্কাইড্রাইভের প্রধান তোমোহিরো ফুকুযাওয়া জানিয়েছেন,'সারা বিশ্বজুড়ে প্রায় শতখানি ফ্লাইয়িং কার প্রজেক্টের কাজ চলছে। তবে আরোহীকে নিয়ে গাড়ি চালানোর পরীক্ষায় আমরাই সফল। আমি জানি সবাই এই গাড়িতে চড়ার ইচ্ছে রাখছেন। আশা করি শীঘ্রই তা হবে।'
জার্মানভিত্তিক কোম্পানি ভলোকপ্টার তাদের ভলোসিটি মডেলের বিদ্যুৎ শক্তি চালিত উড়ন্ত ট্যাক্সিকে প্রথম বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে। সংস্থাটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই যান আগামীতে পাইলটবিহীন উড়তে পারবে। শুরুর দিকে ভলোসিটির পাইলটচালিত উড়ন্ত ট্যাক্সিতে বসতে পারবেন মাত্র একজন যাত্রী। ফলে এই রাইডের জন্য ভাড়া পড়বে একটু বেশি। কিন্তু তারা আশা করছে যাত্রীদের মধ্যে আস্থা তৈরি হলে তারা স্বয়ংচালিত মডেল বের করবে যেখানে চালকের প্রয়োজন হবে না।
এই যান চলবে বিদ্যুৎ শক্তিতে। গাড়ির কোনো ডানা থাকবে না। নয়টি ব্যাটারি থেকে সরবরাহ করা বিদ্যুৎ শক্তি দিয়েই গাড়ি চলবে। বিমান ওঠা নামার জন্য যেমন বিমানবন্দর বা এয়ারপোর্ট থাকে, এই সব উড়ন্ত ট্যাক্সি ওঠানামার জন্য বড় বড় শহরে বিভিন্ন জায়গায় বসানো হবে ভার্টিপোর্ট। এই ট্যাক্সি যেহেতু খাড়াভাবে মানে ভার্টিকালি আকাশে উড়বে, তাই এই ওঠানামার বন্দরগুলোর নাম তারা দিতে চাইছেন ভার্টিপোর্ট।
ভলোসিটি বাণিজ্যিকভাবে তাদের উড়ান শুরু করবে ২০২২ সালে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটা উড়ানে একটা টিকিটের দাম পড়বে ৩৫০ ডলার, যা ভারতীয় টাকায় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। কিন্তু ভলোকপ্টার কোম্পানির ফেবিয়ান নেস্টম্যান বলছেন তাদের লক্ষ্য হলো ক্রমশ এই খরচ প্রতিযোগিতামূলক করে তোলা। বড় বড় গাড়ি নির্মাতা এবং বিমান চলাচল শিল্প ইতোমধ্যেই উড়ন্ত গাড়ির বাজারে চাহিদার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
ব্রিটেনভিত্তিক অ্যারোনটিক্যাল কোম্পানি গ্র্যাভিটি ইন্ডাস্ট্রিজ বলছে, 'আকাশে উড়ার অনেক প্রযুক্তি আছে, যেগুলোর ব্যবহার এখনও সীমিত।' যেমন তাদের তৈরি উচ্চ হর্সপাওয়ারের জেটব্যাগ। যেটি গায়ে পরে মানুষ আকাশে উড়তে পারে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, 'এটা অনেকটা রেসিং কারের মতো। এই যন্ত্র গায়ে বেঁধে নিয়ে এতে সঞ্চিত গ্যাস বা জ্বালানি শক্তি দিয়ে বাতাস কেটে মানুষ দ্রুত উড়ে যেতে পারবে গন্তব্যে।' ব্রিটেনের কোম্পানি গ্র্যাভিটি ইন্ডাস্ট্রিজ একটি জেটব্যাগ তৈরি করেছে, যা গায়ে বেঁধে আকাশে উড়া যায়।
প্রতিষ্ঠানটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সন্ধান ও উদ্ধারের কাজে এই প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক ব্যবহার করেছে। তবে এ ধরনের আকাশযানে যখন মানুষ চলাচল করবে, তখন সে ক্ষেত্রে আকাশের সড়কে তা নিরাপদ কিনা সেটা নিশ্চিত করতে হবে। ওই যানের আকাশপথে চলাচল এবং ওঠানামার জন্য বৈধ লাইসেন্স আছে কিনা সেটাও নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের আস্থা থাকতে হবে এই নতুন পরিবহন ব্যবস্থার উপর।
আকাশে যখন অনেক গাড়ি চলাচল শুরু হবে, তখন ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থারও প্রয়োজন হবে। বিমান ওঠা নামার জন্য বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার মতো। আকাশে গাড়ির উঠানামা ও চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দরকার হবে। উদ্ভাবকরা বলছেন, আকাশের যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা হতে হবে স্বয়ংক্রিয় ইউটিএম বা আনম্যান্ড ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট। এর জন্য পুরো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার বিকল্প নেই। নতুন চ্যালেঞ্জ থাকবে অনেক।
শুধু আকাশে চলা গাড়ি বা অন্য ধরনের যানবাহন নয়। আকাশে আরো অনেক ধরনের ঝুঁকি থাকবে। যেমন উড়ন্ত মহাজাগতিক বস্তু, পাখি, ড্রোন আর বিমান। এদের কেউ চলার পথে এসে পড়ছে কিনা তা নিয়ন্ত্রণ জরুরি হবে। ফলে তৈরি করতে হবে নিরাপদে চলাচলের পথ। ওঠানামার জন্যে আকাশে নিরাপদ করিডর। এমনকি প্রয়োজনে আকাশে যান পার্কিং করে রাখার ব্যবস্থা।
আর সেজন্যই আকাশের মহাসড়ক নিরাপদ ঝুঁকিমুক্ত করতে আকাশপথে চলাচলের নিয়মবিধি ও নতুন আইন তৈরি আবশ্যক হবে। হয়তো ২০৪০ পরবর্তী বিশ্বে মাটিতে চলাফেরার পাশাপাশি আকাশে চলাফেরার নতুন একটি দুনিয়া তৈরি হবে। অনেকের জীবন হয়তো মাটির অনেক উপরেই থেকে যাবে। মাটিতে চলাফেরা করা হয়তো কোনো এক সময় অনেকের জন্য একটা নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়াবে।





Post a Comment