দেশে মিলছে রাসেলস ভাইপার, বাঁচতে কিছু পরামর্শ
ODD বাংলা ডেস্ক: রাসেলস ভাইপার। ভারতে যা চন্দ্রবোড়া বা উলুবোড়া নামেও পরিচিত। ভারতে যেসব সাপ দেখা যায় তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বিষাক্ত। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু এলাকায় সদ্য বেড়েছে বিষাক্ত রাসেলস ভাইপারের আনাগোনা। তাই এ সাপের ব্যাপারে কিছু বিষয় জেনে নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।
এই সাপের কামড়ে শরীরের দংশিত অংশে বিষ ছড়িয়ে অঙ্গহানি, ক্রমাগত রক্তপাত, রক্ত জমাট বাঁধা, স্নায়ু বৈকল্য, চোখ ভারী হয়ে যাওয়া, পক্ষাঘাত, কিডনির ক্ষতিসহ বিভিন্ন রকম শারীরিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না করা হলে নিম্ন রক্তচাপ, কিডনি অকার্যকর হওয়াসহ বিভিন্ন ধরণের শারীরিক সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ভারতের বিভিন্ন এলাকায় স্বল্প সংখ্যক রাসেলস ভাইপার সবসময়ই ছিল, কিন্তু বংশবিস্তারের মত পরিবেশ ও পর্যাপ্ত খাদ্য না থাকায় এই সাপের উপস্থিতি তেমন একটা বোঝা যায়নি। রাসেলস ভাইপার পরিত্যক্ত জমি, ঘন ঝোপ বা মানুষের চলাচল কম এমন যায়গায় থাকতে পছন্দ করে। পরিত্যক্ত জমি অপেক্ষাকৃত কমে যাওয়ায় বর্তমানে কৃষি জমিতেও এই সাপের বসবাস লক্ষ করা গেছে। এতে কৃষকরাও রাসেলস ভাইপারের দংশনের শিকার হয়ে থাকেন। সাধারণত কৃষি জমিতে থাকে বলে মানুষ অনেক সময়ই সাপের গায়ে পা দেয় বা না জেনে একে বিরক্ত করে থাকে।
বর্ষাকালে নদীর জল বাড়ার ফলে ভারতের নদ-নদী থেকে ভেসে এই সাপ ভারতে প্রবেশ করতে পারে বলে মনে করছেন প্রাণী বিশেষজ্ঞরা। এখন পর্যন্ত পদ্মা অববাহিকায় এই সাপ সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে। যেসব জায়গায় এই সাপ পাওয়া গেছে তার অধিকাংশ জায়গাতেই কচুরিপানা ছিল, তাই ধারণা করা হচ্ছে কচুরিপানার ওপরে ভেসে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় এই সাপ বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছেছে।
রাসেলস ভাইপার আচমকা আক্রমণ করে থাকে। এদের বিষদাঁত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃহৎ। ভারতে রাসেলস ভাইপারের দংশনের হার খুব বেশি না। ভারতে প্রতি বছর যে পরিমাণ দংশনের ঘটনা ঘটে তার মধ্যে অন্তত ৪৩ শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কায় প্রতি বছর মোট সর্প দংশনের ঘটনার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ রাসেলস ভাইপারের কারণে হয়ে থাকে।
এরা প্রচণ্ড জোরে হিস হিস শব্দ করতে পারে। এদের বিষ হোমটক্সিন, যার কারণে কামড় দিলে মানুষের মাংস পচে যায়। অন্যান্য সাপ শিকারের সময় শিকারকে কামড় দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে ফেলে। কিন্তু হিংস্র এই সাপ শিকারকে শুধু একা নয়, তার পুরো পরিবারসহ খেতে ভালোবাসে। তাই অন্যান্য সাপ যেমন একটি ইঁদুরকে কামড় দিয়ে খেয়ে ফেলে, এই সাপ সে ক্ষেত্রে কামড় দিয়ে ছেড়ে দেয়। প্রচণ্ড বিষের যন্ত্রণায় ইঁদুর যখন তার গর্তের দিকে ছুটে যায় তখন এই সাপটি তার পিছু পিছু গিয়ে গর্তে ঢুকে সব ইঁদুরকে খেয়ে ফেলে।
রাসেলস ভাইপার থেকে বাঁচতে কিছু পরামর্শ
১ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
২ কাউকে রাসেলস ভাইপার কামড় দিলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।
৩ এরা নিশাচর, তাই রাতে চলাচলের ক্ষেত্রে সাবধান হতে হবে।
৪ এরা খাদ্য হিসেবে ইঁদুর, ছোট পাখি, ও ব্যাঙ ভক্ষণ করে। তাই ইদুঁরের গর্ত, পাখির বাসা, ডোবা-নালায় রাসেলস ভাইপার থাকতে পারে। এসব যায়গায় না গিয়ে পারলেই ভালো।
৫ এরা প্রচণ্ড আক্রমনাত্মক হয়ে থাকে। তাই এ সাপ দেখলে অহেতুক বিরক্ত না করাই ভালো।
৬ এ সাপের শরীরের রং এবং পাকা ধানগাছের পাতার রং একই। রাসেলস ভাইপারের প্রিয় আবাসস্থল ধানখেত। তাই কৃষকরা ধান কাঁটার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। ধান কাটার আগে মানুষের উপস্থিতি জানান দিন। শব্দ করুন। যেন সাপ দূরে সরে যায়।
৭ এরা শুষ্ক জায়গা পছন্দ করে। এ ছাড়া যেখানে ইঁদুর থাকে সেখানেই আস্তানা গড়ে সাপটি। তাই খরের গাদা, ধানের পালা, লাকরির পালা ইত্যাদি যায়গায় কাজ করার সময় শতর্ক থাকতে হবে।
সাপের এই প্রজাতিটি ভারত থেকে বহু বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু গত ১০-১২ বছর আগে থেকে আবারো এই সাপের কামড়ের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এই সাপ কীভাবে আবার ভারতে ফিরে আসছে, তা নিয়ে গবেষণা চলছে।





Post a Comment