গ্র্যান্ড প্রিজম্যাটিক স্প্রিং: উষ্ণ জলের বর্ণিল এক ঝর্ণা



 ODD বাংলা ডেস্ক: উষ্ণ জলের বর্ণিল এক ঝর্ণা গ্র্যান্ড প্রিজম্যাটিক স্প্রিং। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কে অবস্থিত। এটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম উষ্ণ প্রস্রবণ এবং পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম উষ্ণ প্রস্রবণ। নিউজিল্যান্ডের ফ্রাইং প্যান লেক এবং ডোমিনিকার বয়লিং লেকের পরে এটির অবস্থান। গ্র্যান্ড প্রিজম্যাটিক স্প্রিং অনন্য এর প্রাকৃতিক বর্ণিল রঙের কারণে। এটির ব্যাস ৩৭০ ফুট এবং গড় গভীরতা ১২১ ফুট। এটির জলের তাপমাত্রা ১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এর কেন্দ্রটি তীব্র আকাশী নীল রঙের। 


উনিশ শতকের শুরুর দিকে ঝর্ণাটির কথা মানুষ প্রথম জানতে পারে। এই সময় বিভিন্ন অভিযাত্রী আর জরিপকারীরা এই ধরনের একটি জলাধারের কথা বলেন। ১৮৩৯ সালে এই এলাকায় আমেরিকার ফার কোম্পানির একদল কর্মী অভিযান শেষে ফিরে গিয়ে ফুটন্ত একটি লেকের কথা নথিবদ্ধ করেন। তারপর থেকেই পর্যটকদের কাছে উষ্ণ জলের এই ঝর্ণাটির খবর পৌঁছে যায়। এরপর গ্র্যান্ড প্রিজম্যাটিক স্প্রিং ১৮৭১ সালে হেইডেন জিওলজিক্যাল সার্ভেতে কাজ করা ভূতাত্ত্বিকদের দ্বারা সূচিত হয়েছিল এবং এর আকর্ষণীয় রঙের জন্য তাদের নামে নামকরণ করা হয়েছিল।


এই ঝর্ণার মাঝখানটা গাঢ় নীল। চারপাশে গোলাকার আকৃতির আরো নানা রঙের খেলা চোখে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে লাল, কমলা, হলুদ, সবুজসহ আরো নানা বর্ণ। কিন্তু এই হট স্প্রিং এতো রং পেলো কোথায়? আসলে ঝর্ণাটির খনিজসমৃদ্ধ উষ্ণ জলে নানা ধরনের রঙিন ব্যাকটেরিয়া আর অনুজীবের বিস্তার ঘটেছে। আর এদের কারণেই বর্ণিল সাজে সেজেছে গ্র্যান্ড প্রিজম্যাটিক স্প্রিং। 


ঋতুভেদে ব্যাকটেরিয়ার তারতম্যের কারণে এই রঙের কিছুটা পরিবর্তন চোখে পড়ে। গ্রীষ্মকালে কমলা ও লাল রঙ হয় এবং শীতকালে সাধারণত গাঢ় সবুজ হয়। এদিকে ঝর্ণার মাঝখানে জল প্রচণ্ড উত্তপ্ত। এখানে ব্যাকটেরিয়ার আধিপত্য একেবারেই কম। তাই এই অংশে স্বচ্ছ গাঢ় নীল জল চোখে পড়ে। গোটা বছর জুড়েই মাঝখানের এই নীল রঙ থাকে।


বর্ণিল এই জলাধারা পর্যটকদের কাছে সবসময়ই পছন্দের এক বেড়ানোর জায়গা। বলা চলে, এটি ইয়েলোস্টোন ন্যাশনাল পার্কের আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি আকৃষ্ট করে বিভিন্ন খনিজ নিয়ে গবেষণাকারী বিজ্ঞানীদেরও।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.