রূপকথা নয় বাস্তবের ‘সোনালি গাছ’, বয়স ১৪০০ বছর



 ODD বাংলা ডেস্ক:  সোনালি গাছ। রোদের আলোতে যেন আরও ঝকঝক করছে। সোনালি গাছের পাতা পড়ে চারপাশও ঝলসে উঠছে। এমনই সুন্দর এক দৃশ্য দেখতে বিশ্ববাসীরা ভীড় জমান চীনের শানকি প্রদেশে।


সেখানকার ঝোংনান পর্বতমালার গু গুয়ানিয়ান বৌদ্ধ মন্দিরে রয়েছে এই সোনালি গাছটি। নাম জিঙ্গকো বিলোবা গাছ। এর বয়স জানলে আঁতকে উঠবেন! ১৪০০ বছর। 


ইতিহাসবিদদের মতে, তাং বংশের (৬১৮-৯০৭) সম্রাট লি শিমিন এই গাছটি রোপণ করেন। তিনি ছিলেন চীনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক। দীর্ঘ ১৪০০ বছর ধরে বেঁচে আছে সোনালি গাছটি। এই গাছের পাতাগুলো খুবই সুন্দর। সবাইকেই আকৃষ্ট করে।


বৌদ্ধ মন্দির লাগোয়া এই গাছটির চারপাশে ঘেরা রয়েছে। দর্শণার্থীরা যদিও গাছটির কাছে যেতে পারে না। তারা দূর থেকে দাঁড়িয়েই সোনালি গাছের সৌন্দর্য উপভোগ করেন। 


এই গাছের পাতাগুলো মাটিতে পড়ার ফলে মনে হয় যেন সোনালি গালিচা বিছানো রয়েছে। যখন গাছটি থেকে পাতা পড়ে তখন মনে হয়, সোনালি বৃষ্টি ঝড়ছে। জানেন কি? এই গাছকে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর গাছ বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। 


প্রতি বছর অক্টোবরের শেষে গাছ তার নিজস্ব রূপ ফিরে পায়। এসময় গাছে সোনালি পাতা ঝলমল করে। এ কারণে বছরের এই সময়েই পর্যটকরা ভীড় জমান মন্দিরের সামনে সোনালি গাছটি দেখতে।


কয়েক বছর আগে এই সোনালি গাছের ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকেই স্থানটিতে লোকজনের আনাগোনা বেড়ে যায়। ২০১৭ সালে চীনা মিডিয়া জানায়, ওই বছর অক্টোবরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত গাছটি দেখতে ভীড় জমায় ৬০ হাজার মানুষ। 


সেসময় প্রতিদিন ৩০০০ দর্শনার্থীর অনুমতি দেয়া হয় গাছটি পরিদর্শনের। তিন থেকে চার ঘণ্টার লাইনে দাঁড়িয়েই তবে পর্যটকেরা গাছটির দেখা পান। প্রাচীন জিঙ্গকো বিলোবা গাছের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তার কারণে বর্তমানে গু গুয়ানিয়ান মন্দিরটি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। 


এখন মন্দিরের দৈনিক দর্শনার্থীদের সক্ষমতা ৭,২০০ এর কাছাকাছি পৌঁছেছে। সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত দর্শণার্থীরা গাছটি দেখার অনুমতি পান। ১,৪০০ বছর বয়সী জিঙ্গকো বিলোবা গাছটি ‘সোনার সমুদ্র’ নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত পেয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.