মানুষের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠল বনাঞ্চল, শিম্পাঞ্জিরা পেল আশ্রয়
ODD বাংলা ডেস্ক: গম্বি স্ট্রিম ন্যাশনাল পার্ক তানজানিয়া, আফ্রিকা। জঙ্গলের একটি বিশাল অংশ চাষবাসের ভূমিতে পরিণত হয়েছিল। তবে এখন দৃশ্যের পরিবর্তন ঘটেছে নাটকীয়টার। বনভূমি আবার ফিরে এসেছে পূর্ণ উদ্যমে।
এই পরিবর্তন পৃথিবীর এক অসাধারণ প্রজাতিকে টিকে থাকতে সাহায্য করেছে। শিম্পাঞ্জিদের এই ক্যাসাকেলা গোত্রে সদস্য সংখ্যা ৯০টিও বেশি। এদের বসবাস কিগালিয়ে গ্রামের পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জঙ্গল উজাড় করে চাষাবাদের ভূমি তৈরি করেছিল। তবে গাছবিহীন পাহাড়ে ভূমিধ্বস দেখা দেয়। নদীর পাড় ভেঙে প্রায়ই আঘাত হানতে থাকে আকস্মিক বন্যা। ফলে বিপন্ন হয়ে পড়ে এই গ্রামের মানুষের জীবন।
টিকে থাকার জন্য নারী শিম্পাঞ্জিদের অন্য দলের পুরুষদের সঙ্গে মিলিত হতে হয়। সঙ্গীর জন্য এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে পাড়ি জমাতে হয়। তবে বিচ্ছিন্ন জঙ্গল এদের দলগুলোকে আলাদা করে ফেলে। এদের বনভূমি হয়ে পড়ে এক একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ।
মানুষ এবং শিম্পাঞ্জিদের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে এসেছে জেইন গুডঅল ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানটি গ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়ে বৃক্ষরোপণ শুরু করে। পাশাপাশি গ্রামবাসীদের টেকসই উপায়ে ভূমি ব্যবহারে দক্ষ করে তোলে। এমানুয়েল টিটি এবং লিলিয়ান পিন্টিয়া এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আছেন ১৮ বছর ধরে।
তারা কৃত্রিম উপগ্রহের ছবির সাহায্যে ১৮ বছর আগের এবং বর্তমান অবস্থা গ্রামবাসীদের সামনে তুলে ধরেন। গ্রামবাসীরা বিস্ময় ভরা চোখে অবলোকন করেন তাদের বদলে দেয়া এক বনভূমির চিত্র।
বর্তমানে ভূমিধ্বস বন্ধ হয়ে গেছে অনুর্বর ভূমি ছেয়ে গেছে ঘন জঙ্গলে আকস্মিক বন্যাও এর হয় না বললেই চলে। শুধুমাত্র মানুষ নয় উপকৃত হয়েছে অন্য প্রাণীরাও। এক যুগ পর তরুণ শিম্পাঞ্জিরা আশেপাশের জঙ্গলে ভ্রমণ করছে এবং সঙ্গী খুঁজে নিচ্ছে।
মানুষ সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে বিশাল পরিবর্তন আনতে সক্ষম। পরিবর্তন আনতে সক্ষম নিজেদের জীবন, প্রকৃতি এবং অন্য প্রাণীদের ভাগ্যেরও।





Post a Comment