বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম দ্বীপে নেই মানুষের চিহ্ন, পরে আছে লাইফ বোট
ODD বাংলা ডেস্ক: মহাসাগরের বিভিন্ন প্রান্তে ভেসে রয়েছে জানা অজানা অনেক দ্বীপপুঞ্জ। বিভিন্ন সময় সমুদ্রপথে যাতায়াত করা নাবিকরা খুঁজে পান এগুলো। নেমে খানিকটা ঘুরে দেখেন। আবিষ্কার করে ফেলেন পৃথিবীর অনন্য এক রহস্যের। এভাবেই কলম্বাস আবিষ্কার করেছিলেন আমেরিকা। আফ্রিকা থেকে মানুষ নিয়ে গিয়ে বসতির ব্যবস্থা করেছিলেন।
তবে বিশ্বের সবচেয়ে দুর্গম এবং রহস্যময় দ্বীপের তকমা রয়েছে বোভেট দ্বীপটির। মাত্র ৭৫ বর্গমাইলের দ্বীপটি নিয়ে রয়েছে নানান কল্পকাহিনী। বোভেট দ্বীপ দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে ১৫৬৮ মাইল (২৫২৫ কিমি.) জুড়ে অবস্থিত।
১৭৩৯ সালে ফরাসি ক্যাপ্টেন জেয়ান-ব্যাপটিস্টে চার্লস বোভেট ডি লোযিয়ার নামে একজন দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের মধ্যে দূরবর্তী এই দ্বীপ আবিষ্কার করেন। এই ফরাসি ক্যাপ্টেন এর নাম অনুসারে দ্বিপটির নাম বোভেট দ্বীপ রাখা হয়। এই দ্বীপটিকে এযাবতকালে সন্ধান পাওয়া দ্বীপের মধ্যে সবচেয়ে রহস্যময় আর দুর্গম বলা হয়।
এটিকে পৃথিবীর সবচেয়ে দুর্গম দ্বীপ হিসেবেও অভিহিত করা হয়। এখানে স্থলপথে যাওয়ার কোনো উপায় নেই, আর জলপথে যাওয়াও প্রায় দুঃসাধ্য ব্যাপার। রহস্যময় এ দ্বীপ সম্পর্কে যা কিছু জানা গেছে তা জানা হয়েছে কৃত্রিম উপগ্রহ ও বিমানেরমাধ্যমে উপর থেকে। বোভেট দ্বীপে যে কখনো মানববসতি গড়ে উঠেছিল তেমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ষাটের দশকের একটি পরিত্যক্ত লাইফ বোট দেখতে পাওয়া গেছে। তবে দ্বীপের কোথাও লাইফ বোট ব্যবহারকারী কাউকে দেখা যায়নি। এমনকি মানুষের কোনো কালে যে এখানে বসবাস ছিল, এমন কোনো প্রমাণ মেলেনি কোথাও।
পুরোটা দ্বীপ বরফে ঢাকা। তাই উল্লেখযোগ্য কোনো প্রাণীও সেখানে নেই বলে মনে করা হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বোভেট দ্বীপে শুধু পেঙ্গুইন, শিল আর দুই-এক প্রজাতির সামুদ্রিক পাখির সন্ধান পাওয়া যায়। এ দ্বীপের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে বড় বড় বরফের চাঁই। এসব বরফের টুকরা একে অন্যের সঙ্গে এমনভাবে মিশে রয়েছে। দেখে মনে হবে সব মিলিয়ে বড় বরফের পাহাড়। এ বরফের পাহাড়গুলো আবার স্রোতহীন জলের ওপর ভেসে রয়েছে। এ দৃশ্য চোখে না দেখলে বিশ্বাসযোগ্য নয়।
বলা হয়ে থাকে যে, বোভেট দ্বীপের পাশে আরও একটি দ্বীপ ছিল। অথচ তেমন কোনো দ্বীপ ছিল কিনা তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পুরোটা দ্বীপ বরফে ঢাকা। তাই উল্লেখযোগ্য কোনো প্রাণীও সেখানে নেই বলে মনে করা হয়। বিজ্ঞানীদের ধারণা, বোভেট দ্বীপে শুধু পেঙ্গুইন, শিল আর দুই-এক প্রজাতির সামুদ্রিক পাখির সন্ধান পাওয়া যেতে পারে।
বোভেট দ্বীপকে ১৯৭১ সালে একটি প্রকৃতি সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৯৪ সালে নরওয়ের একটি ক্ষেত্র স্টেশন হিসেবে কাজ করার জন্য এখানে একটি বিল্ডিং স্থাপন করা হয়। ২০০৭ সালে এই স্টেশনটি মোটামুটিভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং বর্তমানে এটি প্রায় ধ্বংসপ্রাপ্ত।





Post a Comment