ভোরে ও গোধূলিকালে শিকার করে এরা
ODD বাংলা ডেস্ক: খাবারের সন্ধানে ভোরবেলা এবং গোধূলিকালে খুব কর্মচঞ্চল থাকে এরা। অসীম আকাশে ডানা মেলে চরে বেড়াতে দেখা যায়। তবে, তখন তাদের দৃষ্টি থাকে মাটি কিংবা দৃশ্যমান গাছের ডালে ডালে।
শিকার দৃশ্যমান হলেই আর রক্ষে নেই! উপরের উড্ডয়ন অবস্থা থেকে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে নিচে নেমে শিকারকে ছোঁ-মেরে গ্রাস করতে বিলম্ব হয় না। সুদক্ষ তীক্ষ্ম নখ আর ঠোঁট তাদের বিশ্বস্ত হাতিয়ার।
যে পাখিটির কথা বলছিলাম তার নাম ‘কালো বাজ’। এদের ইংরেজি নাম Black Baza এবং বৈজ্ঞানিক নামAviceda leuphotes। প্রাণীবিজ্ঞান তাদের Falco Latin নামেই চেনে।
শীত মৌসুমের বিরল পরিযায়ী পাখি এটি। Aviceda গোত্রীয় ও Accipitridae পরিবারের ৩৩ সে.মি. দৈর্ঘের খাড়া ঝুঁটি এবং বুকে ডোরাদাগের পাখি এরা। প্রাপ্তবয়স্ক পাখির কয়েকটি সাদা টান ও ডোরাসহ দেহ কালো। মাথার ঝুঁটি খাড়া ও লম্বা কালো রঙের। কাঁধ-ঢাকনি সাদা ও তামাটে। পিঠ কালো। ডানা গোলাকার। ঠোঁট স্লেট রঙের। চোখ গাঢ় লাল। পা ও পায়ের পাতা হালকা খয়েরি-নীল। ছেলে ও মেয়ের পাখির চেহারায় ভিন্নতা রয়েছে।
কালো বাজ চিরসবুজ বনে বিচরণ করে। চওড়া পাতা বন এদের খুব পছন্দ। যার জন্য বনের সেগুন বাগানে প্রায়ই দেখা যায়। তবে পাহাড়ের পাদদেশের বনেও সচারচর থাকে। এরা একা, জোড়ায় বা ছোট দলে থাকে। এরা গাছের ডালে বসে আহার খোঁজে এবং ছো মেরে শিকার ধরে খায়।
এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে টিকটিকি, ব্যাঙ, ঘাসফড়িং এবং অন্য পোকামাকড়। অনেক সময় বাঁদুড় ও ছোট ছোট পাখিও খায়। এরা ভোর ও পড়ন্ত বেলায় খুব কর্মচঞ্চল থাকে। এদের গলার স্বর কর্কশ।
এদর প্রজননকাল এপ্রিল থেকে জুলাই মাস। প্রজননকালে বনের গাছে ৫০ থেকে ৬০ ফুট উঁচুতে ডালপালা দিয়ে মাচার মতো বাসা বানায়। নিজেদের বানানো বাসায় মেয়েপাখি ৩-৪টি ডিম দেয়।
কালো বাজ ভারতে বিরল পরিযায়ী পাখি। তবে এ দেশের হবিগঞ্জের সাতছড়ি বনে এই পাখিটিকে দেখা যায়। এ ছাড়া শীতে চট্টগ্রাম, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের চিরসুবজ বনে পাওয়া কিছু দেখা যায়। ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, চীন, মিয়ানমার ও দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব এশিয়ায় এদের বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।
কালো বাজ বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। ভারতের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিকে সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়নি।





Post a Comment