গবলিন হাঙর : অন্ধকার জগতের অপ্রতুল প্রজাতি
ODD বাংলা ডেস্ক: গভীর সমুদ্রের অন্ধকার জগতের বাসিন্দা গবলিন হাঙর। চেহারা দেখে চমকে উঠবেন অনেকেই। যেন এক সাক্ষাৎ শয়তান। তবে চেহারা যতটা ভয়াবহ, ততটা আক্রমণাত্মক নয় এরা। গভীর-সমুদ্র হাঙরের একটি অপ্রতুল প্রজাতি এরা। যার বংশ প্রায় ১২৫ মিলিয়ন বছর পুরনো।
গবলিন হাঙরের বৈজ্ঞানিক নাম Mitsukurina owstoni। লিভিং ফসিল নামে পরিচিত হাঙরের এই প্রজাতি Mitsukurinidae পরিবারের বেঁচে থাকা একমাত্র সদস্য। এদের বলা হয় ‘জীবন্ত জীবাশ্ম’।
১০ ফুট থেকে প্রায় সাড়ে ১৩ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয় এসব হাঙর। এই গোলাপি চামরার প্রাণীটির বড়, চ্যাপ্টা নাক-মুখ, সামনের দিকে প্রসারিত হওয়ার মত বড় চোয়াল থাকে, যাতে রয়েছে নখের মতো দাঁত।
গবলিন হাঙরের তলোয়ারের মত লম্বা। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মুখমণ্ডল আনুপাতিক হারে কমতে থাকে। চোখ গুলো ছোট এবং নেত্র পল্লব বিহিন। চোখের পেছনে স্পাইরেকল থাকে। এদের উপরের সারিতে ৩৫ থেকে ৫৩টি দাঁত থাকে, নিচের সারিতে থাকে ৩১ থেকে ৬২টি দাঁত। এদের রয়েছে পাঁচ জোড়া ফুলকা ছিদ্র। পঞ্চম জোড়ার অবস্থান বুকের পাখনা উৎপত্তির স্থানের উপরে।
গবলিন হাঙররকে বসতি ডুবো গিরিখাত এবং ডুবো পাহাড়গুলোতে যেখানে গভিরতা ১০০ মিটারে (৩৩০ ফুট) থেকেও বেশি। প্রাপ্ত বয়স্কগুলোকে অপ্রাপ্তবয়স্কদের থেকেও গভীরে পাওয়া যায়।
গবলিন হাঙরের শরীরতত্ত্বীয় বৈশিষ্ট্য অন্য হাঙরের থেকে একটু ভিন্ন। এদের দেহ নরম পাখনা ছোট ও মন্থর প্রকৃতির। গবলিন হাঙর প্রধানত টেলেওস্টস মাছ যেমন রাট্টাইল এবং ড্রাগন ফিস খেয়ে থাকে। শিকারকে এরা খুব দ্রুতই চোয়াল বাড়িয়ে ধরতে পারে।
কিছু পরিমাণ গবলিন হাঙর গভীর সমুদ্রের জেলেদের কাছে অনিচ্ছাকৃতভাবে ধরা পরে। এর অপ্রতুলতার পরেও আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ পরিষদ (IUCN) একে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে অভিহিত করে।





Post a Comment