এসির বিকল্প এই দেয়াল

 


ODD বাংলা ডেস্ক: বাড়ির দেয়ালে ছেয়ে আছে লতানে গাছ। এগুলো আগাছা নয়, বরং সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও পরিবেশকে ভালোবেসেই অনেকে এই বিশেষ গাছটির চারা বসান বাড়িতে। ইউরোপে তো বটেই, সাম্প্রতিক কলকাতাতেও মাঝেমধ্যে চোখে পড়ে এমন দৃশ্য। আর এই বিশেষ বন্দোবস্তকে স্থাপত্যের ভাষায় বলা হয় ‘গ্রিন ওয়াল’ (Green Wall)।

এই রকম দেয়াল আরও একটি উপকার করে। নিয়ন্ত্রণ করে বাড়ির তাপমাত্রা। সাম্প্রতিক এক গবেষণা এমনটাই জানিয়েছেন গবেষকরা। যুক্তরাজ্যের প্লাইমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাসটেইনেবিলিটি হাবের গবেষকদের সমীক্ষায় উঠে এল এমনই তথ্য। সম্প্রতি এ নিয়ে একটি সমীক্ষা ও গবেষণা প্রকাশ হয়েছে বিল্ডিং অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট জার্নালে।


১৯৭০-এর দশকের আগে নির্মিত বিভিন্ন বাড়ির ওপর একটি বিশেষ সমীক্ষা চালিয়েছিলেন ব্রিটিশ গবেষকরা। প্রতিটি বাড়ির মূল পরিকাঠামো প্রায় একইরকম। ইট এবং কংক্রিট দিয়ে নির্মিত তাদের প্রাচীর। দীর্ঘ পাঁচ সপ্তাহ ধরে বাড়িগুলোতে সূর্যের তাপশোষণের হার এবং তাপমাত্রার পরিমাপ নেন গবেষকরা। তাতেই স্পষ্ট ফুটে ওঠে তাপ নিয়ন্ত্রণে ‘গ্রিন ওয়াল’-এর ভূমিকা।


গবেষণায় দেখা যায় গ্রিন ওয়াল যুক্ত বাড়িগুলোতে প্রায় ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ কম তাপ শোষিত হয়েছে। পাশাপাশি এই বাড়িগুলোতে সারাদিনের গড় উষ্ণতাও আর পাঁচটা সাধারণ বাড়ির থেকে বেশ খানিকটা কম। বিশেষত, দিনের বেলায় তাপপ্রবাহকে বিশেষভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম এই ধরনের দেয়াল।


পরিসংখ্যান বলছে যুক্তরাজ্যে গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের ১৭ শতাংশের জন্য দায়ী সেখানকার বাড়ির শীততাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা এয়ার কন্ডিশন মেশিন। সেখানে দেখতে গেলে শুধু তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণই নয়, গ্রিন ওয়ালের সৌজন্যে পরিবেশে বৃদ্ধি পায় অক্সিজেনের মাত্রা। শোষিত হয় কার্বন ডাই অক্সাইড। ফলে সামগ্রিকভাবে পরিবেশকে সুস্থ করে তোলে সবুজ দেয়াল।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.