চার পুরুষকে সামলে উজ্জ্বল টেনিস ক্যারিয়ার শারাপোভার

 


ODD বাংলা ডেস্ক: মারিয়া শারাপোভা। র‌্যাকেট হাতে টেনিস কোর্ট কাঁপানো এক কিংবদন্তির নাম। কোর্টে খেলার দাপট ছাড়াও ছিল গ্ল্যামারের দাপট। দেড় দশকের ক্যারিয়ার শেষে অবসরে যাচ্ছেন এ রুশ কন্যা। তার জীবনে জড়িয়ে রয়েছে অনেক সম্মানজনক অর্জন ও বেশ কয়েকজন পুরুষ। এসব নিয়ে আজকের আয়োজন।


শারাপোভার জন্ম

১৯৮৭ সালের ১৯ এপ্রিল সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের ন্যাগান প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন মারিয়া শারাপোভা। জন্মের এক বছর পর ভয়ঙ্কর চের্নোবিল বিস্ফোরণ থেকে শারাপোভাকে বাঁচাতে সোচিতে স্থানান্তর হন মা ইয়েলেনা-বাবা ইউরি শারাপোভা।


শারাপোভার টেনিসের হাতেখড়ি


সোচিতে বাবার বন্ধু আলেকজান্ডার কাফেলনিকভের মাধ্যমে র‌্যাকেট ধরেন শারাপোভা। আলেকজান্ডারের ছেলে ইয়েভজেনি ছিলেন বিশ্বমানের টেনিস খেলোয়াড়। এরপর স্থানীয় পার্কে বাবার সঙ্গে খেলতে শুরু করেন ছোট্ট শারাপোভা।


টেনিসের প্রতি মেয়ের আগ্রহ দেখে শারাপোভাকে প্রশিক্ষক ইউরি-ইউৎকিনের কাছে পাঠান তার বাবা। ছোট্ট শারাপোভার হাত ও চোখের ছন্দ দেখে মুদ্ধ হন কোচ ইউরি-ইউৎকিন। তারপর মস্কোয় এক টেনিস প্রশিক্ষণ শিবিরে অনুশীলন করছিলেন শারাপোভা। তখন মার্টিনা নাভ্রাতিলোভার চোখে পড়েন তিনি। শারাপোভাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আইএমজি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে তার বাবাকে পরামর্শ দেন মার্টিনা।


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা


১৯৯৪ সালে অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে মাত্র ৭০০ ডলার সম্বলসহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শারাপোভাকে নিয়ে পাড়ি দেন বাবা ইউরি। কিন্তু ইংরেজি ভাষা বলতে না পারায় মা ইয়েলেনাকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। এতে মা ছাড়া দুই বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শারাপোভাকে থাকতে হয়। বাবা দিনমজুরের কাজের পাশাপাশি মেয়ের তত্ত্বাবধান করছিলেন। ১৯৯৫ সালে শারাপোভার জীবনে আসে টার্নিং পয়েন্ট। আইএমজি তার বার্ষিক ফি মওকুফ করে। নয় বছর বয়সে তাকে রেজিস্ট্রার ছাত্রী করে আইএমজি।


টেনিস কোর্টে অর্জন


১৭ বছরের কিশোরী শারাপোভা টেনিসে ঝলক দেখালেন। ২০০৪ সালের উইম্বলডন ফাইনালে সেরিনা উইলিয়ামসকে হারিয়ে তার প্রতিভার জানান দেন বিশ্বকে। উইম্বলডনের ইতিহাসে তিনি ছিলেন তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ চ্যাম্পিয়ন প্রতিযোগী।


১৮ বছর বয়সে বাগিয়ে নেন বিশ্বের এক নম্বর নারী টেনিস খেলোয়াড়ের শিরোপা। তিনি রুশ নারী টেনিস খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বে এক নম্বরে উঠে আসেন। পরের বছর যুক্তরাষ্ট্রের ওপেন ট্রফি নিজের করে নেন রুশ এ সুন্দরী। ২০১২ সালে ফরাসি ওপেন জেতেন তিনি। এর সঙ্গে দশম নারী হিসেবে ক্যারিয়ার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ীদের তালিকায় স্থান পান শারাপোভা। এরপরই অর্জনের ঝুলিতে আসে অলিম্পিক পদকও।


টেনিস ক্যারিয়ারে ধস


২০০৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ওষুধ মেলডোনিয়াম নিচ্ছিলেন মারিয়া শারাপোভা। তার দাবি শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি ওষুধটি গ্রহণ করছিলেন। তবে অস্ট্রেলীয় ওপেনের ডোপ পরীক্ষায় ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। ডোপ পরীক্ষায় ধরা পড়ার পর তাকে দুই বছরের জন্য টেনিস থেকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। পরে তার সাজা ১৫ মাসে আনা হয়। এরপর আর টেনিস কোর্টে ফর্মে ফিরতে পারেননি এ সুন্দরী। 


যেসব পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে ছিল শারাপোভার


কোর্টে খেলার পাশাপাশি নিজের রূপের ঝলক দিয়ে কোটি কোটি অনুরাগীদের হৃদয়ে ঝড় তুলেন শারাপোভা। তবে কয়েকজন হৃদয়ের অনুভূতি স্পর্শ করতে পেরেছেন। সেই তালিকায় প্রথমে আসে গায়ক অ্যাডাম লেভাইনের নাম। ২০০৫ সালে নিজের জন্মদিনের পার্টিতে লেভাইনের সঙ্গে পরিচয় শেষে প্রেম। কিন্তু বেশি দিন ঠেকেনি তাদের এই সম্পর্ক।


এরপর তার জীবনে আসেন টেলিভিশন প্রোডিউসার চার্লি এবেরসোল। তার সঙ্গে অন্তরঙ্গতা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। তারপর ২০০৯ সাল থেকে স্লোভেনিয়ান বাস্কেটবল খেলোয়াড় সাশা ভুজাকিকের সঙ্গে ডেট করছিলেন শারাপোভা। সেই সম্পর্ক ২০১২ সাল পর্যন্ত ছিল। এছাড়া বুলগেরিয়ার টেনিস খেলোয়াড় গ্রিগর দিমিত্রভের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল দুই বছর।


শারাপোভার বিদায় বার্তা


বুধবার বিখ্যাত দুই ফ্যাশন পত্রিকা ‘ভোগ’ এবং ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এ মারিয়া শারাপোভা লিখেছেন, ‘টেনিস, আমি তোমাকে গুডবাই জানালাম। টেনিস র‌্যাকেট হাতে ২৮ বছর কাটিয়ে আর পাঁচটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জেতার পরে আমি এখন অন্য শৃঙ্গ জয় করতে তৈরি।’


তিনি বিদায়বার্তায় লিখেছেন, ‘আমি টেনিসকে নিজের জীবন দিয়েছিলাম, টেনিসও আমাকে নতুন জীবন দেয়।’


ফোর্বস পত্রিকার বিচারে টানা এগারো বছর বিশ্বের ধনী নারী অ্যাথলিট ছিলেন শারাপোভা। ২৮ বছরের ক্যারিয়ারে দর্শক ও প্রেমিকদের সঙ্গ তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.