তার দেহ যেন শিল্পীর শিল্পকর্ম
ODD বাংলা ডেস্ক: গড়ন-ধরনে আমাদের জাতীয় পাখি দোয়েল বা কমলা দোয়েল আকৃতির পাখিটি সত্যিই রঙিন-সুন্দর। একনজরে মাথার তালুসহ ঘাড়-পিঠ ও লেজের উপরিভাগ চকচকে জলপাই-সোনালি রঙের। সাদাটে গলা-বুক-পেট ও লেজের তলাসহ মাথা-পিঠজোড়া যেন নিপুণ শিল্পীর অনুপম শিল্পকর্মে সজ্জিত। পাখিটির নাম বাদামি দামা বা রঙিলা দোয়েল।
ছোট মাছের ছোট ছোট আঁশের মতো নকশাদার ঘন-বাদামি রঙের টাইলস যেন সেট করা। চোখ অনেকটাই ডাগর ডাগর, যে চোখে সব সময় একটা ভয় ভয় ভাব ফুটে থাকে। ঝরা পাতা, কাদামাটিসহ ঘাসের রঙের সঙ্গে ক্যামোফ্লেজ হয়ে থাকে। কানপট্টি কালো। কালচে ঠোঁট, কমলা পা। উড়লে দুই পাখার এপ্রান্ত-ওপ্রান্ত জোড়া জলপাই-সোনালি রেখাটা নজরে পড়ে।
এদের ইংরেজি নাম Scaly Thrush বা Golden Mountain Thrush। এর বৈজ্ঞনিক নাম Zoothera dauma (Latham, 1790)। এই পাখি প্রায় ২৬ সে.মি. দৈর্ঘ্য এবং ৯৫ থেকে ১০৫ গ্রাম ওজনের এই পাখি Zoothera বংশীয় Turdidae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।
চিত্রিত বাদামি দামা বা রঙিলা দোয়েল বনের বনতলের গুল্মলতায় বিচরণ করে। তবে জলের ধারের পত্রগুচ্ছ এদের বেশি পছন্দ। এরা সচারচর একা বা জোড়ায় থাকে। মাটিতে ঝরাপাতা ও আবর্জনায় ঠোঁট ঢুকিয়ে খাবার খোঁজে।
এদের খাদ্যতালিকায় রয়েছে পোকা, পোকার লার্ভা ও রসালো ফল। খুব ভোরে ও সূর্য ডোবার আগে এরা বেশি কর্মচঞ্চল হয়। মূলত এই দুই সময়ে খাবারের সন্ধানে খুবই ব্যস্ত থাকে।
এপ্রিল মাস থেকেই প্রজননের জন্য প্রস্তুতিমূলক গানের সুরে ডাকতে থাকে। মার্চ থেকে অক্টোবর মাস এদের প্রজননকাল। প্রজননকালে ঝোপের ভেতর ডালে শ্যাওলা, পাতা, ঘাস ও মূল দিয়ে বাটির মতো চওড়া বাসা বানায়। নিজেদের বানানো বাসায় মেয়েপাখিটি তিন থেকে চারটি ডিম পাড়ে। উভয়ে মিলে ডিমে তা দিয়ে ছানা ফোঁটায়। ছানাদের পরিচর্যা ও সংসারের যাবতীয় কাজ দুজনে মিলে করে।
রাত কাটায় গাছের সরু ডাল বা বাঁশের কঞ্চিতে বসে। শরীরের পালক ফুলিয়ে পটকা মাছ বা টেনিস বলের মতো হয়ে যায়,ঘাড় পেছন দিকে ঘুরিয়ে পিঠে ঠোঁট গুঁজে ঘুমায়।
রঙিলা দোয়েল ভারতের অনিয়মিত পাখি। শীতে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে দেখা যায়। এ ছাড়াও ভুটান পাকিস্তান, ভারত, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমারসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে। এরা বিশ্বে বিপদমুক্ত বলে বিবেচিত। ভারতের বন্যপ্রাণী আইনে এরা সংরক্ষিত।





Post a Comment