ব্রহ্মাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সূর্যের উপর নজর নাসার টেলিস্কোপের
ODD বাংলা ডেস্ক: বড় সাফল্য পেল নাসা। মহাকাশের রহস্য উদঘাটনে আরও একধাপ এগোল এই মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র। গত সোমবার নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ সূর্যের চারপাশে ঘোরার জন্য নির্দিষ্ট কক্ষপথে প্রাথমিকভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সফল হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উৎক্ষেপণের একমাসের মধ্যেই পৃথিবী থেকে প্রায় ১০ লক্ষ মাইল দূরে নির্দিষ্ট কক্ষপথের ‘ল্যাংরেঞ্জ পয়েন্ট ২’ বা এল-২ পয়েন্টে পৌঁছে গিয়েছে এই শক্তিশালী টেলিস্কোপ। ওয়েব টেলিস্কোপের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাসার প্রোগ্রাম ডিরেক্টর এরিক স্মিথ জানিয়েছেন, সূর্যের চারপাশে ঘোরার সময় ওয়েব টেলিস্কোপ যাতে এল-২ পয়েন্ট থেকে ছিটকে না যায়, তার জন্য থ্রাস্টার ব্যবহার করা হবে। বাল্টিমোরের স্পেস টেলিস্কোপ সায়েন্স ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরাই সেটা চালু করবেন। সবকিছু ঠিকঠাক এগোচ্ছে কি না, প্রতিনিয়ত রেডিও সিগন্যাল পাঠিয়ে সেব্যাপারে নিশ্চিত হবেন বিজ্ঞানীরা। জানা গিয়েছে, পৃথিবীর সঙ্গে সমান্তরাল ভাবে, এক সরলরেখায় সূর্যকে প্রদক্ষিণ করবে ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। যাতে পৃথিবীর সঙ্গে টেলিস্কোপের রেডিও-যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ থাকে। আর ঠিক এই কারণেই এল-২ কে বেছে নিয়েছেন নাসার মহাকাশ বিজ্ঞানীরা। এর পিছনে আরও দু’টি কারণ আছে। এক, থ্রাস্টারের পাশাপাশি এই এল-২ পয়েন্টে সূর্য ও পৃথিবীর মিলিত মাধ্যাকর্ষণ শক্তি ওয়েব টেলিস্কোপকে পথ হারাতে দেবে না। দুই, দীর্ঘদিনের গবেষণা ও মহাকাশে পাঠানো অজস্র স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এই নির্দিষ্ট অবস্থানে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করলে সবচেয়ে কম জ্বালানি খরচ হবে। কারণ থ্রাস্টারের দরকার পড়বে কম।
প্রযুক্তির নিরিখে পূর্বসূরী হাবলকে দশ গোল দিতে পারে ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ। এর আছে এক বৃহদাকার সোনায় মোড়া আয়না। এর মধ্যে ১৮টি ষড়ভুজাকৃতি সেগমেন্ট রিফ্লেক্টরের ভূমিকা পালন করবে। সেই সোনালী আয়না কাজও শুরু করে দিয়েছে ইতিমধ্যে। তবে এল-২ পয়েন্টে সফল প্রতিষ্ঠা তাকে অবশ্যই বাড়তি অ্যাডভান্টেজ দিয়েছে। মূলত, ইনফ্রারেড প্রযুক্তি নির্ভর এই টেলিস্কোপ সূর্যের চারপাশে থাকা গ্যাসের মেঘ ও ধূলিকণা ভেদ করে ছবি তোলা এবং তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। এই সুবিশাল টেলিস্কোপ তৈরিতে খরচ হয়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার অর্থাৎ প্রায় ৭৩,৪৪০ কোটি টাকা। -২৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও কাজ করবে এই 'দূরবীণ'। বিজ্ঞানীদের আশা, ১০ কোটি বছর আগে আমাদের আকাশগঙ্গা ছায়াপথের সৃষ্টির মুহূর্তের অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আনবে এই জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ।





Post a Comment